দীক্ষার পূর্বে গঙ্গাস্নানের কথায় মা বললেন, ‘কিছু করতে হবে না। এসো, এই আমি গঙ্গাজলের ছিটা দিচ্ছি।’ গঙ্গাজলের ছিটা দিয়ে তাঁর পাশে একখানি আসনে আমাকে বসতে বললেন।

মাতৃ স্মৃতিকথা…………….

শ্রাবণ মাসের এক রাত্রে স্বপ্ন দেখি, – প্রকাণ্ড সমুদ্র, জলে জল! জলের উপর এক সুদৃশ্য বজরায় দিব্যকান্তি জ্যোতির্ময়মূর্তি ঠাকুর ও তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যবর্গ! আমি ব্যাকুল হয়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বজরায় উঠতে চেষ্টা করছি কিন্তু সামনের ময়লার জন্য অগ্রসর হতে পারছি না। আমার কাণ্ড দেখে ঠাকুর হাসছিলেন, হাসতে হাসতে বলেলন, ‘হবে হবে, সময় হলে আসবে।’
অল্পকাল পরেই বিধবা হয়ে প্রায় প্রত্যহ ঠাকুরকে দেখতে পেতাম। ঠাকুরের একখানা ছবি বাবা আমার বিছানার কাছে রেখে দিয়েছিলেন। কোনদিন শোয়ামাত্র, কোনদিন শেষরাত্রে তন্দ্রাঘোরে দেখতাম, ঠাকুর ছবি হতে নেমে এসে আমার মাথার কাছে দাঁড়াতেন, তাঁর জ্যোতির্ময় মুখে দিব্য হাসি। কোনদিন দু’একটি কথা বলতেন, কোনদিন একটু হেসে ছবিতে মিলিয়ে যেতেন। একদিন একটি প্রার্থনা শিখিয়ে দিয়ে বললেন,’সব সময় এই প্রার্থনাটি করো।’ একদিন জপ করার জন্য একটি নামও বলে দিলেন।
SRI RAMAKRISHNA
SRI RAMAKRISHNA

একথা জানতে পেরে বাবা আমার দীক্ষার জন্যে সচেষ্ট হলেন, ১৩২৩ সালের পৌষ মাসে কাকা আমাকে সঙ্গে করে সুদূর হবিহঞ্জ হতে কলকাতায় নিয়ে গেলেন। শ্রীশ্রীমাকে দর্শন করার জন্য প্রাণ অধীর হয়েছিল, কয়েকদিন ঘুমই হয় নি।
দীক্ষার দিন ঠিক করে কাকা আমাকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে গেলেন। আমি উপরে গিয়ে ঠাকুরঘরের পাশের ঘরে দাঁড়াতেই কোন ভক্ত স্ত্রীলোক বললেন, ‘ঠাকুরঘরে মা আছেন, যাও। আহা, কত ভক্তি নিয়ে এরা আসে!’ আমি যখন মাকে প্রণাম করতে এগিয়ে গিয়েছি, পূজনীয়া যোগীন-মা আমাকে দেখেই বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং মুখে মাথায় বুকে পিঠে হাত বুলিয়ে কত আশীর্বাদ করতে লাগলেন। মাকে বললেন,’মা, দেখ দেখ, এ মেয়েটির চোখমুখ দেখ, মেয়েটিকে মা তোমার কাছে রেখে দাও।’ মা হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ, রাখলে বেশ হয়, আমি একে জানি।’ যোগীন-মার সঙ্গে মাও আশীর্বাদ করছিলেন, আনন্দে আমার কান্না এলো ও সর্বাঙ্গ কাঁপতে লাগল। কতদিন কত ভাবনাই না ভেবেছি – ঠাকুর তো আমাদের আপনার, কিন্তু মা কি চিনবেন? হয়তো চিনবেন না, হয়তো দীক্ষা দিতেই চাইবেন না। আসামাত্র মা কোলে তুলে নিলেন।
দীক্ষার পূর্বে গঙ্গাস্নানের কথায় মা বললেন, ‘কিছু করতে হবে না। এসো, এই আমি গঙ্গাজলের ছিটা দিচ্ছি।’ গঙ্গাজলের ছিটা দিয়ে তাঁর পাশে একখানি আসনে আমাকে বসতে বললেন। তখনও আমার শরীর কাঁপছিল, মা তাঁর বাঁ হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে বসলেন। স্বপ্নে প্রাপ্ত মন্ত্রের সঙ্গে আর একটি অংশ জুড়ে দিয়ে বলেলন, ‘ঠাকুর এ অংশটুকু আমার জন্য রেখে দিয়েছিলেন।’

                                                              – প্রিয়বালা দেবী
                                 (শ্রীশ্রীমায়ের কৃপাধন্য, হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ)
                            

@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started