শিবের দশ মহাবিদ্যা দর্শন
——————————————–
![]() |
| Siva 10 moha vidya darson |
দেবী সতী নারদের মুখে তাঁর পিতা দক্ষের শিবহীন যজ্ঞের কথা শুনে স্থির করলেন, তিনি নিজে অনিমন্ত্রিত হয়েও সেখানে যাবেন পিতা দক্ষকে বুঝিয়ে দিতে, শিবহীন যজ্ঞের কী ফল? তাই তিনি স্বামীর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন পিতৃগৃহে যাওয়ার জন্য। মহাদেবকে অনেক কাতর অনুনয় বিনয় করেও যখন সম্মতি পাওয়া গেল না, তখন আদ্যাশক্তি মহামায়া তাঁর মায়াশক্তি বিস্তার করে, মহাদেবকে তাঁর স্বরূপ জানিয়ে দিলেন যে — তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়ার সাধ্য কারও নেই। একে একে দশদিক আলো করে শিবের সামনে দশমহাবিদ্যার প্রকাশ হলো।
চামুণ্ডাতন্ত্রে এঁদের নাম বলা হয়েছে —
“কালী-তারা-মহাবিদ্যা-ষোড়শী ভুবনেশ্বরী।
ভৈরবী-ছিন্নমস্তা চ বিদ্যা ধূমাবতী তথা।।
বগলা সিদ্ধবিদ্যা চ মাতঙ্গী-কমলাত্মিকা।
এতে দশমহাবিদ্যা সিদ্ধবিদ্যা প্রকীর্তিতা।।”
“কালী-তারা-মহাবিদ্যা-ষোড়শী ভুবনেশ্বরী।
ভৈরবী-ছিন্নমস্তা চ বিদ্যা ধূমাবতী তথা।।
বগলা সিদ্ধবিদ্যা চ মাতঙ্গী-কমলাত্মিকা।
এতে দশমহাবিদ্যা সিদ্ধবিদ্যা প্রকীর্তিতা।।”
শিব যখন দেবীকে অনুমতি না দিয়ে চলে যেতে চাচ্ছিলেন, তখন দেবী সতী প্রথমে অতি ভয়ঙ্করী কালীরূপ ধারণ করলেন। কৃষ্ণাঞ্জনসমপ্রভা দিগম্বরী আলুলায়িতকুন্তলা লোলজিহ্বা মুণ্ডমালিনী সেই মূর্তি দেখে ভয়ে ভীত হয়ে মহাদেব যেদিকেই পালাতে গেলেন সেদিকেই একে একে ভিন্ন ভিন্ন দশ দেবীমূর্তি দেখতে পেলেন। শিব সেই অভিনব দশমূর্তি দেখে দিশাহারা হয়ে ভীত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন , “তোমরা কারা? আমার সতী কোথায় গেল?”
তার উত্তরে এক দেবী বললেন, “আমিই তোমার সতী। এই যে ভীষণা দশটি মূর্তি-এরা আমারই বিভিন্ন প্রকাশ। হে মহামতি শম্ভু — ভয় পেও না।”
শিব বললেন “তুমি যদি আমার প্রাণেশ্বরী সতীই হও, তাহলে এমন কৃষ্ণবর্ণা ভীতিপ্রদা কেন?”
দেবী বললেন, “আমি সতীই, আমিই সৃষ্টিস্থিত্যকারিণী সূক্ষ্মা প্রকৃতি। শুধু তোমার চোখ খুলে দেওয়ার জন্যই আমার এই নানা মূর্তির প্রকাশ ঘটিয়েছি। এখন বলছি শোন, আমার এই বিভিন্ন মূর্তির নাম। তোমার সম্মুখে উত্তরে এই দেখ আমি কালীমূর্তিতে, তোমার ঊর্ধ্বদিকে আমি মহাকালীস্বরূপিণী তারিণী তারা। পশ্চিমে ভুবনেশ্বরী, তোমার দক্ষিণে আমি দানবনাশিনী বগলা মূর্তিতে। পূর্বে ছিন্নমস্তা। অগ্নিকোণে আমি বিধবা ধূমাবতী নামে আছি। নৈর্ঋত কোণে আছি সর্ব ঐশ্বর্যের অধিশ্বরী কমলারূপে। বায়ুকোণে আছি মাতঙ্গীরূপে। ঈশান কোণে আছি সর্ব সৌন্দর্যের অধিশ্বরী ত্রিপুরেশ্বরী ষোড়শী হয়ে। আর তোমার সঙ্গে কথা বলছি যে আমি, সে ভৈরবী-ভৈরবসঙ্গিনী। মূলত আমি এক ও অদ্বিতীয়া। প্রয়োজনে আমার এই দশরূপে প্রকাশ হয়। আজ তোমাকে আমার এই লীলাবিগ্রহদের দর্শন করালাম। এবার আমায় দক্ষযজ্ঞস্থলে যাবার অনুমতি দাও।”
তার উত্তরে এক দেবী বললেন, “আমিই তোমার সতী। এই যে ভীষণা দশটি মূর্তি-এরা আমারই বিভিন্ন প্রকাশ। হে মহামতি শম্ভু — ভয় পেও না।”
শিব বললেন “তুমি যদি আমার প্রাণেশ্বরী সতীই হও, তাহলে এমন কৃষ্ণবর্ণা ভীতিপ্রদা কেন?”
দেবী বললেন, “আমি সতীই, আমিই সৃষ্টিস্থিত্যকারিণী সূক্ষ্মা প্রকৃতি। শুধু তোমার চোখ খুলে দেওয়ার জন্যই আমার এই নানা মূর্তির প্রকাশ ঘটিয়েছি। এখন বলছি শোন, আমার এই বিভিন্ন মূর্তির নাম। তোমার সম্মুখে উত্তরে এই দেখ আমি কালীমূর্তিতে, তোমার ঊর্ধ্বদিকে আমি মহাকালীস্বরূপিণী তারিণী তারা। পশ্চিমে ভুবনেশ্বরী, তোমার দক্ষিণে আমি দানবনাশিনী বগলা মূর্তিতে। পূর্বে ছিন্নমস্তা। অগ্নিকোণে আমি বিধবা ধূমাবতী নামে আছি। নৈর্ঋত কোণে আছি সর্ব ঐশ্বর্যের অধিশ্বরী কমলারূপে। বায়ুকোণে আছি মাতঙ্গীরূপে। ঈশান কোণে আছি সর্ব সৌন্দর্যের অধিশ্বরী ত্রিপুরেশ্বরী ষোড়শী হয়ে। আর তোমার সঙ্গে কথা বলছি যে আমি, সে ভৈরবী-ভৈরবসঙ্গিনী। মূলত আমি এক ও অদ্বিতীয়া। প্রয়োজনে আমার এই দশরূপে প্রকাশ হয়। আজ তোমাকে আমার এই লীলাবিগ্রহদের দর্শন করালাম। এবার আমায় দক্ষযজ্ঞস্থলে যাবার অনুমতি দাও।”
