স্বামী তুরীয়ানন্দ একটি গল্প বললেন, ::—-
পাছে ভাগ দিতে হয় বলে কেউ কেউ ভয় পায়। এক সাধু বনে বাস করত। এক রাজার বৈরাগ্য হওয়াতে রাজ্য ছেড়ে ক্রমে তার কাছে এল। সাধু ভাবলে এ আবার আমার রুটিতে ভাগ বসাবে, এই ভয়ে রাজাকে বললে,” দেখ যথার্থ বৈরাগ্য করতে গেলে, সব সঙ্গ ত্যাগ করতে হয়। তুমি আরো গভীর জঙ্গলে গিয়ে একলা বাস কর।”
রাজারও সে কথা মনে লাগল। তিনি দূর জঙ্গলে গিয়ে একাকী বাস করতে লাগলেন। একটি লোক সাধুটিকে ভিক্ষাস্বরূপ কয়েকখানা শুকনো রুটী দিয়ে যেত। পুর্বোক্ত ঘটনার পর যখন সে লোকটি এসে সাধুকে তার রুটী দিলে, সাধু দেখলে তার হাতে একখানা সোনার থালে নানাবিধ অন্নব্যঞ্জন রয়েছে।
সাধু জিজ্ঞাসা করলেন, ” এটি কার জন্য?”
লোকটা বললে,” আমাকে একজন পাঠিয়ে দিয়েছেন, যে রাজা এখানে সাধু হয় এসেছেন তার জন্য।”
সাধু চটে গিয়ে বললে,” কি আমি এত দিনের সাধু, আমার জন্য এই শুকনো রুটী? আর ও এই সবে সংসার ত্যাগ করে এসেছে, ওর এত খাতির?”
লোকটি বললে,” তা তো আমি জানি না। যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তিনি বলে দিয়েছেন, সাধুর যদি এ শুকনো রুটী পছন্দ না হয় তো, তার জন্য ওই খুরপি আছে। ”
সাধুটি সংসার ত্যাগের পূর্বে ঘেসেড়া ছিলেন। খুরপি দিয়ে ঘাস কাটতেন। তার যদি শুকনো রুটী না পোষায়, তবে তিনি ইচ্ছা করলে তার পূর্ব জীবনের ঘেসেড়ার কাজ করতে পারেন।
আর রাজার যদি সাধুগিরি ভাল না লাগে, তিনি তো ফিরে গিয়ে আবার রাজত্ব পেতে পারেন। সুতরাং তাকে একটু বেশী যত্ন করতে হবে না?
গল্পটি চমৎকার। অনেকগুলি ভাব আছে এর মধ্যে।
রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, কাশী।।