নবগোপাল ঘোষকে বললেন, ‘একটু জপ-ধ্যান করিস |’
সে বলল — ‘সে সময় আমার নেই |’ তখন ঠাকুর বললেন‚ ‘আমার নাম একটু একটু করতে পারবে তো?’ সে বলল – ‘তা খুব পারব |’ তখন ঠাকুর বললেন — ‘তা হলেই হবে — তোমাকে আর কিছু করতে হবে না |’
অক্ষয় সেনকে কাছে ডেকে তার বুকে হাত রেখে কানে দিলেন ‘মহামন্ত্র’ | তাঁর চোখ দিয়ে আনন্দে জল ঝরতে লাগল |
এগিয়ে এলেন উপেন্দ্রনাথ মজুমদার | ঠাকুর তাকেও আশীর্বাদ করে কৃপা করলেন |
এ সময় ঠাকুরের পিছনে দাঁড়ানো রামলাল ভাবছিল — সকলেরই তো একরম হল, আমার কি গাড়ু-গামছা বওয়া সার হল? হঠাৎ ঠাকুর পিছন ফিরে তাকে বললেন — ‘কী রে রামলাল‚ অত ভাবছিস কেন?’ এবারে তাকে সামনে দাঁড় করিয়ে নিজের গা থেকে চাদর খুলে ফেলে বললেন — ‘দেখ দিকিনি এবার |’ রামলাল বললেন — ‘আহা, সে যে কী রূপ, কী আলো, কী জ্যোতি! সে আর কী বলব?’
যতই পবিত্র হবে ততই মনের একাগ্রতা বাড়বে ওমনের সূক্ষ্ম ফাঁকিগুলো ধরা পড়বে , আর সেগুলি সম্পূর্ণ নাশ পাবে।
.……..মনই নিজের শত্রু আবার এই মনই নিজের মিত্র।
………যে যত cross– examine করে মনের এই গলদ বের করে তার সম্যক নাশ করতে পারবে , সে তত দ্রুত এই সাধন রাজ্যে এগিয়ে যাবে।
………খুব ধ্যান জপ করবি। প্রথম প্রথম মন স্হূল বিষয়ে থাকে। ধ্যান জপ করলে তখন সূক্ষ্ম বিষয় ধরতে শেখে।
……….সদাই তাঁর স্মরণ- মনন করবে। স্মরন- মনন সদা সর্বক্ষণ অভ্যাস হলে , তখন ধ্যান করতে বসলেই জমে যায়।
……….ধ্যান যতই জমবে ততই ভিতরে আনন্দ।
………..সাধন ভজনেরও জোয়ার- ভাঁটা আছে , তবে সেটা প্রথম প্রথম ।…….লেগে পড়ে থাকতে হবে ।
…………কিছুকাল নিয়মিতরূপে সাধন ভজন করতে পারলে, তখন আর জোয়ার- ভাঁটা খেলবে না ; তখন একটানা গঙ্গা হয়ে যাবে।
