*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
১৯১৩ অব্দে জয়রামবাটীতে ভূদেবের বিবাহের পর রাধু অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছে। মা পার্শ্বে বসিয়া তাহাকে দুধ খাওয়াইতেছেন, এমন সময় পাগলী মামী আসিয়া সেখানে বসিলেন।
রাধুর ইচ্ছা নয় যে, ‘নেড়ী-মা’ সেখানে থাকেন; তাই তাঁহাকে একটু ঠেলিয়া দিতেই মায়ের হাত পাগলীর পায়ে ঠেকিয়া গেল। পাগলী অস্থির হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “কেন তুমি আমার পায়ে হাত দিলে? আমার কি হবে গো?”
মা তাঁহার রকম দেখিয়া হাসিয়া আকুল। ব্রহ্মচারী রাসবিহারী বলিলেন, “পাগলী মাকে গালাগাল, অপমান করলেও পায়ে হাত লাগার ভয় আছে।”
মা বলিলেন, *”বাবা, রাবণ কি জানত না যে, রাম পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ, সীতা আদ্যাশক্তি জগন্মাতা – তবুও ঐ করতে এসেছিল। ও (পাগলী) কি আমাকে জানে না! সব জানে, তবু এই করতে এসেছে!”*
ভক্তের প্রতি কৃপাবশে শ্রীমা কখনও অজ্ঞাতসারেই যেন নিজের স্বরূপ বলিয়া ফেলিতেন। বৈকুণ্ঠ নামক জনৈক ভক্ত শ্রীমাকে কামারপুকুরে দর্শন করিতে যান। রামলালদাদা এবং লক্ষ্মীদিদিও তখন সেখানে ছিলেন।
ভক্ত যখন বিদায় লইতেছেন, তখন শ্রীমা অকস্মাৎ বলিয়া উঠিলেন, *”বৈকুণ্ঠ, আমায় ডাকিস।”* পরমুহূর্তেই যেন আত্মসংবরণ করিয়া বলিলেন, *”ঠাকুরকে ডাকলেই সব হবে।”*
লক্ষ্মীদিদি সব শুনিয়াছিলেন; তিনি বলিয়া উঠিলেন, “না, মা, একি কথা? এ তো বড় তোমার অন্যায়। ছেলেদের এমন করে ভোলালে তারা কি করবে?” মা বলিলেন, *”কই, আমি কি করলুম?”*
দিদি উত্তর দিলেন, “মা, তুমি এই মুহূর্তে বৈকুণ্ঠকে বললে, ‘আমায় ডাকিস’, আবার বলছ, ‘ঠাকুরকে ডেকো’।” মা বলিলেন, *”ঠাকুরকে ডাকলেই তো সব হলো।”*
লক্ষ্মীদিদি ইহাতে নিবৃত্ত না হইয়া বৈকুণ্ঠকে বুঝাইয়া দিলেন, শ্রী মায়ের মুখে আজ যে নূতন বাণী বাহির হইল, উহা অতি মূল্যবান। ইহা মায়ের নিজের মুখের স্বীকৃতি ও আদেশ; সুতরাং বৈকুণ্ঠ যেন মাকেই ডাকেন। মা সব শুনিয়া গেলেন; আর প্রতিবাদ করিলেন না।
এক ভক্ত মহিলা জিজ্ঞাসা করিলেন, “মা, আপনি যে ভগবতী, তা আমরা বুঝতে পারি না কেন?” মা কহিলেন, *”সকলেই কি আর চিনতে পারে, মা? ঘাটে একখানা হীরা পড়ে ছিল। সব্বাই পাথর মনে করে তাতে পা ঘষে স্নান করে উঠে যেত। একদিন জহুরি সেই ঘাটে এসে দেখে চিনলে যে, সেখানা এক প্রকান্ড মহামূল্য হীরা।”*
শ্রীমায়ের নিকট এইরূপ জহুরি আসিত কয়জন? সুতরাং তিনি আত্মপরিচয় দিবেন কাহার নিকট, আর দিলেই বা বিশ্বাস করিবে কে? তাই তাঁহার এই ভাবের উক্তি অস্পষ্ট ও আকস্মিক বলিয়া মনে হয়। অথচ স্থলবিশেষে তাঁহার উক্তিতে বিন্দুমাত্র সঙ্কোচ ছিল না।
শ্রীযুক্ত কেদার (স্বামী কেশবানন্দ) ঐ দিনই কথাপ্রসঙ্গে বলিলেন, “মা, আপনাদের পরে ষষ্টী, শীতলা প্রভৃতি দেবতাকে আর কেউ মানবে না।” মা বলিলেন, *”মানবে না কেন? তারা তো আমারই অংশ।”*
একদিন জগদম্বা আশ্রমে বসিয়া শ্রীযুক্ত কেদার কথা বলিতেছিলেন, এমন সময় অদূরে বটতলায় ঢাক বাজাইয়া ষষ্টীপূজা দিতে লোক আসিল। কথাবার্তার অসুবিধা হওয়ায় কেদারনাথ বিরক্তি সহকারে বলিলেন, “আঃ, থাম না রে বাপু।”
অমনি মা বাধা দিয়া বলিলেন, *”ওকি কেদার, সবই তো আমি! তুমি বিরক্ত হচ্ছ কেন?”*
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*
