।।দুটি বৌদ্ধ কাহিনি ।। শ্রীম।। একটি গল্প আছে বুদ্ধদেবের সময়ের।বুদ্ধদেব তখন এদিকে বিহারে রয়েছেন।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

দুটি বৌদ্ধ কাহিনি
দুটি বৌদ্ধ কাহিনি


।। দুটি বৌদ্ধ কাহিনি।।
           ।। শ্রীম।।


একটি গল্প আছে বুদ্ধদেবের সময়ের।বুদ্ধদেব তখন এদিকে বিহারে রয়েছেন।অনেক রাজন্যবর্গ তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।কোনও এক রাজ্যে একটি পরম সুন্দরীর,(রাজ–বিলাসিনীর) মৃত্যু হয়।ইনি নাকি তখন ভারতবিখ্যাত সুন্দরী ছিলেন।বুদ্ধদেবের পরামর্শ চাইলেন রাজা এই মহিলার মৃতদেহ কিরূপে সৎকার করা হইবে। বুদ্ধদেব বললেন,”দেহটা একটা কাঁচের বাক্সে রেখে দাও।” তাই করা হলো। কয়েকদিন পর দেহটা decomposed(বিকৃত)হতে  লাগলো,পচতে লাগলো।বড় বড় সব পোকা জন্মেছে,আর নাকমুখ সব খসে পড়ছে।বিকৃত হয়ে গেছে সম্পূর্ণ।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js


বুদ্ধদেব তখন সব সন্যাসী ও অপর ভক্তদের বললেন,”যাও তোমরা গিয়ে ওই মৃতদেহটা দর্শন করে এস।”তারা সব গিয়ে দেখে আসতে লাগলো।কি দেখলো তারা? না ,যে দেহটার জন্য রাজন্যবর্গ লালায়িত ছিল,তারই এই দশা।পচে দুর্গন্ধ হয়ে গেছে,কেহ কাছে যেতে পারছে না।


সুন্দরী স্ত্রীই বল, আর দীর্ঘজীবনই বোলো,সব অনিত্য,দুদিনের জন্য।মৃত্যু হাঁ করে রয়েছে—সব তাঁর মুখ-বিবরে।তাই নচিকেতা চাইলেন না এসব।কেবল আত্মা, ঈশ্বর চাই।


আর একটি গল্প আছে ওদেরই(বৌদ্ধদের) পিতা বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সেবা করেন—প্রায় সন্যাসী তিনিও।পুত্র তা পছন্দ করেন না।পিতাকে যাতনা দেয়—ওসব ছেড়ে দিতে বলে।ভারি জ্বালাতন করছে বাপকে।বাপ কিন্তু খুব ব্যাকুল—আন্তরিক ভক্ত।
একজন খুব ভালো, ধার্মিক বিচারক ছিলেন—ম্যাজিস্ট্রেট এই রকম কিছু হবে।ইনি এই ঘটনাটি জানতে পারলেন।এক ওয়ারেন্ট বের করে দিলেন ছেলেকে ধরে আনতে!ধরে এনে আটকিয়ে রেখে দিলেন।কি একটা মিছামিছি চার্জে ফাঁসির হুকুম দিলেন।এক মাস পরে ফাঁসি হবে।

ছেলেকে নানাবিধ আহারাদি দিয়ে অতি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে কয়েদের ভিতর রেখে দিলো।ছেলে কিছুই খেতে পারছে না।ম্যাজিস্ট্রেট একদিন জেলে এসে জিজ্ঞেস করলেন,”কি হে,বড়ই যে শুকিয়ে যাচ্ছ।খাচ্ছ না বুঝি?পছন্দ হচ্ছে না খাবার?তা বল কি খেতে চাও সব পাঠিয়ে দেবো।”দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে ছেলে বললে”আর মশায় খাওয়া!আপনার আদেশে আমার প্রাণ বিসার্জন করতে হবে—দিন কয়েক পর!এতে কি আর খাওয়া রোচে?”বলেই বিষন্ন হয়ে গালে হাত দিয়ে বসে রইলো।কি করে খায় বেচারা?মৃত্যু যে সম্মুখে দন্ডায়মান।

জজ তখন অভয় দিয়ে বললেন,”বাবা,একমাস পরে তোমার মৃত্যু হবে।সেই চিন্তায় আহারাদি তুমি ছেড়ে দিয়েছ।ভাবছো,কি হবে শরীর পুষ্ট করে যখন কয়দিন পর ইহা যাবেই।কিন্তু বাপ, যদি একজন সর্বদা মৃত্যুকে সামনে দেখতে পায়,তাহলে সে আর কেমন করে সংসারে মন রাখে?তাই বৈরাগ্য অবলম্বন করে। ঘরে থাকলেও নামমাত্র থাকা।সংসার অনিত্য,ঈশ্বর সত্য,এ বোধ হয়ে গেছে।তাই তোমার বাপ সর্বদা ঈশ্বর চিন্তা করেন।মৃত্যুচিন্তা এসে গেছে, তাই সাধু সঙ্গ করছেন।তার ভিতরে সন্ন্যাস এসে গেছে।” এই কথা কথা বলে হাসতে হাসতে ওকে ধরে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসলেন,তারপর বাড়িতে পৌছিয়ে দেন।এখন ছেলে আর বাপকে জ্বালাতন করেন।সে নিজে বুঝেছে,মৃত্যুচিন্তা কি জিনিস!
             (শ্রীম দর্শন:১।৩৮৯-৯১)

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({}); //pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started