মাতৃ-অনুধ্যানঃ
.মায়ের কথা- স্বামী পুরুষাত্মানন্দ
……………………………………….
আমি তখন ছাত্র। ছাত্রাবস্থায় শ্রীশ্রীমায়ের কথা শুনেছিলাম। শোনার পর থেকেই মাকে দেখার খুব আগ্রহ জাগে। বেলুড় মঠে আসি। মা তখন জয়রামবাটীতে। জয়রামবাটী গিয়ে মায়ের পুরনো বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। পরে বাড়ির মধ্যে ঢুকে দেখলাম একজন বৃদ্ধা মহিলা বারান্দায় বসে আছেন। একজন বলল, উনিই মা। মাকে দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। ভাবলাম, যে-মাকে দেখব বলে হবিগঞ্জ থেকে ছুটে এলাম,তাঁর চেহারা তো অতি সাধারণ! গায়ের রঙ মলিন, দেখতেও এমন কিছু নয়। মনের মধ্যে এইসব কথা উঠছে। হঠাৎ শুনলাম মা আমার দিকে তাকিয়ে বলছেন: “আমার রঙ এমন মলিন ছিল না বাবা।
ঠাকুরের শরীর যাওয়ার কিছুদিন পর ‘পঞ্চতপা’ করে আমার গায়ের রঙ পুড়ে কালো হয়ে গেছে।”
কথাগুলি বলে মা চুপ করে গেলেন। আমি তো শুনে একেভারে স্তম্ভিত! মনে খুব ভয়ও হলো। মনে মনে মায়ের কাছে বারবার ক্ষমাপ্রার্থনা করতে লাগলাম। বললাম: “মা,আমি তোমার সম্বন্ধে এসব ভেবেছি। আমাকে ক্ষমা করো।”