স্বামী নির্লেপানন্দের স্মৃতিকথা – ( ভাগ- ৪)
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পূজা নিজে শেষ করে, বা যখন নিজে না করতেন, পূজা সাঙ্গ হলে, কয়জন ভক্ত নিচে আছে তা একটি বালককে গুনে আসতে বলতেন। (এখানে ‘বালক’ টি লেখক স্বয়ং, অর্থাৎ স্বামী নির্লেপানন্দ। পূর্বাশ্রমে সম্পর্কে তিনি যোগীন-মার দৌহিত্র—-যোগীন-মার একমাত্র কন্যা গনুর কনিষ্ঠ পুত্র।) সান্ধ্যভোগ শেষ করে ঠাকুরের মিষ্টি, ফলমূল, প্রসাদ ভাগেভাগে সাজিয়ে দিতেন। কালো বড় একখানি বারকোশের ওপর ঐগুলি চড়িয়ে বালক বিতরণ করত। শেষে বলে দিতেন এইটি মোহনের ছেলেকে দিও—–মায়ের পুরনো চাকর মোহিনীমোহনের একমাত্র শিশুপুত্র। অত ভিড়ের ভিতর দেখতাম, কোনদিন মা ছেলেটিকে ভুলতেন না। মা-র সব দিকেই নজর। প্রসাদ বিতরণকারী ঐ বালকটিকে (লেখক স্বয়ং) একদিন তারই কোঁচড়ের কাপড় নিজে খুলে কতকগুলি আম বেঁধে দিয়ে বালিকার মতো বলছেন : “যা বাবা, তাড়াতাড়ি নিচে নেমে বাড়ি চলে যা। সাবধান, গোলাপ না দেখতে পায়। দেখতে পেলে আমায় বকবে।” ছেলেটি তখন রবিবার তাদের কলকাতার বাড়ি থেকে আসত। তারা গরিব। ভাল খেতে পাবে বলে মার কাছে আসত। ছেলেটি উপরন্তু মা-বাপ খেকো। মা–র তার ওপরেও কী করুণা ! আবার সর্বাধিষ্ঠাত্রী হয়েও গোলাপ-মার সম্বন্ধে কী সুমধুর ভয় !
(ক্রমশ )
স্বামী নির্লেপানন্দ
।। কথামৃত মন্দির ।।