//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
একদিন সন্ধ্যেবেলা *মহারাজের* ঘরে ভজন শেষ করে ঠাকুরঘরের কাজ করছি। হঠাত্ই বাবুরাম মহারাজ আমাকে এসে বললেন,”চল ব্যাটা।” আমি একটু অবাক হয়ে গেলুম। কারণ ঠাকুরের কাজের সময় তিনি অন্য কোথাও যাওয়া পছন্দ করতেন না। তিনি আবার ডাকছেন,”চল ব্যাটা, আজ তোকে *মহারাজের* কাছে নিয়ে যাই।”
তিনি আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে গেলেন। স্বামীজীর ঘরের দোতলার সিঁড়ি দিয়ে আমাকে প্রায় ঠেলতে ঠেলতে ওপরে নিয়ে গিয়ে *মহারাজের* পায়ের কাছে আমার মাথাটা গুঁজে দিলেন এবং মহারাজকে বললেন -“মহারাজ এই বেটা বড় রাগী, ছেলেদের সঙ্গে ঝগড়া মারামারি করে, এমনকি আমার সঙ্গেও ঝগড়া করে। ওর যাতে রাগের শান্তি হয় তাই করুন, ওর মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিন।” মহারাজ নিজের হাতটা এপিঠ ওপিঠ ঘুরিয়ে দেখে বললেন, *” আজকে আমার হাতটা ঠিক নেই বাবুরামদা, তুমিই আজ ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।”*
বাবুরাম মহারাজ বললেন, *”মহারাজ, তুমি ওরকম বললে হবে না। এ বেটা বড্ড রাগী, তুমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দাও”* – একথা বলে তিনি আমার মাথাটা মহারাজের পায়ে বেশ করে গুঁজে দিলেন।
মহারাজের ঠাট্টা তামাশা কোথায় চলে গেল! মহারাজ স্থির নিশ্চল হয়ে গেলেন এবং আমার মাথায় ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন।
তখন বাবুরাম মহারাজ যত জোরে আমাকে মহারাজের কাছে ঠেলে দিয়েছিলেন ঠিক তত জোরেই আমাকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে নিজের মাথাটি মহারাজের কোলে গুঁজে দিয়ে বললেন, *”মহারাজ, ওদের কোনো দোষ নেই, আমিই বকে বকে ওদের মাথা গরম করে দিই। আর বুড়ো হয়েছি, মঠের কাজকর্ম করতে করতে নিজের মাথাটাই গরম হয়ে যায় । তাই ওদের বকাবকি করি। মহারাজ তুমি আমারও মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও।”*
মহারাজও ঠিক একই ভাবে বাবুরাম মহারাজের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর বাবুরাম মহারাজ মঠের যত সাধু ব্রহ্মচারী কর্মী সকলকেই ডেকে বললেন, *”ওরে, তোরা আয়রে, মহারাজ আজ কল্পতরু হয়েছেন।”*
বাবুরাম মহারাজের আহ্বানে যে যেখানে ছিল এমনকি সোনা ও কেনা নামে দুজন উড়ে চাকর – সকলেই এসে মহারাজের আশীর্বাদ লাভ করলেন। – স্বামী মুক্তেশ্বরানন্দ এর ভাষায় স্বামী ব্রহ্মানন্দজীর স্মৃতি