বিষয়ের প্রতি যার বিরক্তি হয় নি, সে কেবল বুদ্ধির সাহায্যে তাঁকে লাভ করতে পারে না।।।।

“নাবিরতো দুশ্চরিতান্নাশান্তো নাসমাহিতঃ।নাশান্তমানসো বাহপি প্রজ্ঞানেনৈমাপ্নুয়াৎ।।(কঠঃ1/2/24)◆দুশ্চরিত/দুষ্কর্ম থেকে যে বিরত হয় নি,◆যার ইন্দ্রিয়গুলি সংযত হয় নি,◆মনকে যে একাগ্র করতে পারে নি,◆বিষয়ের প্রতি যার বিরক্তি হয় নি,——-সে কেবল বুদ্ধির সাহায্যে তাঁকে লাভ করতে পারে না।।।।#আধ্যাত্মিক______জীবনে_____________উন্নতির______________চাবিকাঠি_____আত্মসংযম।।।জয় মা……..বিষয় পঞ্চক ও তার গুণঃ-শব্দ(আকাশের গুণ),স্পর্শ(বাতাসের গুণ),রূপ(অগ্নির গুণ),রস(জলের গুণ),গন্ধ(মৃত্তিকার গুণ)।—ভোক্তা জীবের সুখ- উৎপাদনের জন্য ঐ 5 টি বিষয় রূপ গ্রহণ করে। মূঢ়গণ ঐ বিষয় ভাবতে ভাবতে বা ঐ বিষয়ে আসক্ত হবার জন্য ঐ রূপ পরিগ্রহ করে।যেমন :-
1>হরিণ- ব্যাধের বংশীধ্বনিতে(শব্দ) আকৃষ্ট হয়ে  ব্যাধের ফাঁদে পড়ে মৃত্যু বরন করে।2> হস্তী – হস্তিনীর স্পর্শ সুখে আকৃষ্ট হয়ে ব্যাধের তৈরি খেদা বা ফাঁদে পড়ে মৃত্যু বরন করে।3>পতঙ্গ– আগুনের রূপে আকৃষ্ট হয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু বরন করে।4>ভ্রমর — পদ্মের মধু গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে সন্ধ্যাবেলায় মুদিত পদ্মে আবদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করে।5>মাছ– বড়শী সংলঙ্গ মাংসের(রস) লোভে বড়শী গিলে মৃত্যু বরণ করে।~অতএব,দেখা যাচ্ছে 1 টি ইন্দ্রিয়ের বশীভূত হলেই জীবের প্রান সংশয় হয়।তাহলে, 5 টি ইন্দ্রিয়ের দাস মানুষের দুর্গতির শেষ নাই।সুতরাং ইন্দ্রিয়ের দাস হইয়ো না।রূপরসাদি রাগদ্বেষ উৎপন্ন করে, তাই সাপের বিষের ন্যায় মারাত্মক,তাই পরিত্যাজ্য।~তার জন্য প্রথমত এবং প্রধানত দরকার “তীব্র বৈরাগ্য” সাধন বা” নিত্য-অনিত্য বিচার” বোধ।বৈরাগ্য দৃঢ় না হলে ভোগাকাঙ্ক্ষারূপ কুমীর গলা ধরে টেনে ডুবিয়ে মারবে।তাই বিষয়ভোগের আসক্তি ত্যাগ করতে হবে।আর এই ভোগের আশা ত্যাগ করার পথে অমৃত তুল্য বন্ধু হলেন ;-(1)শম(‘মন’-কে জাগতিক ভোগ-চিন্তা থেকে সরিয়ে রেখে বশে রাখা),(2)দম(‘ইন্দ্রিয়গুলি’-কে তার নিজ নিজ বিষয় থেকে সরিয়ে নিজ বশে রাখা),(3)সন্তোষ,(4)দয়া,(5)ক্ষমা ও
(6)সরলতা।।…. এবং এই সদগুণ গুলির অনুশীলন সর্বদা করা।[[[ বিবেকচূড়ামনি থেকে সংগৃহীত ]]]এই সাধনার সংক্ষিপ্ত ও সহজ ও concise ভাবে অষ্টাঙ্গ যোগের মূল স্তম্ভ বা ভিত্তি হল ” নিয়ম এবং যম” সাধনা যাকে চরিত্র গঠনের সাধনাও বলা হয়।
এইগুলি নিরন্তন অভ্যাস করতে হবে সাধক/সাধিকাকে।#যম–> শারীরিক সংযম যার দ্বারা আমি অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা বা ভালবাসা প্রদর্শন করব।
এইগুলি হল :-(1)সত্য,
(2)অস্তেয়(চুরি না করা),(3)ব্রহ্মচর্য(আত্মসংযম বা ব্রহ্মনিষ্ট মন),(4)অপরিগ্রহ(দান গ্রহন না করা),(5)অহিংসা(সকলকে ভালবাসা ও কল্যান করা)।#নিয়ম = মানসিক সংযম,যার দ্বারা আমি নিজের প্রতি শ্রদ্ধা বা ভালবাসা প্রদর্শন করব।যেমন:-(1)শৌচ বা পরিচ্ছন্নতা(both mental and physical),(2)সন্তোষ(তৃপ্তি),(3)তাপস(কৃচ্ছতাসাধন),(4)স্বধ্যায়(অধ্যাত্ম শাস্ত্র পাঠ এবং ঈশ্বরের প্রতীক বা মন্ত্র জপা),
(5)ঈশ্বর প্রনিধান( বা ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ বা ভালবাসা বা আত্ম সমর্পণ)।………
—–“যম – নিয়মে” প্রতিষ্ঠিত সাধক …. যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারে”— অর্থাৎ adjust করতে পারে এবং সকলের প্রিয় হয়ে ওঠে।।
কারন ?—> কারন  আর কিছু নয়, ঐ যম ও নিয়ম … এই দুটি যে ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত… তাতে একটা পবিত্র ,সুন্দর চরিত্রের মানুষ তৈরি হয়….
“যম”– পালনের দ্বারা সে অন্য সকলকে ভালবাসে,শ্রদ্ধা করে, মান-সম্মান-আদর প্রদর্শন করে এবং সে মানসিক ভাবে সুন্দরতর হতে থাকে।আর “নিয়ম”- সাধনের দ্বারা সে নিজেকে ভালবাসে,শ্রদ্ধা করে,মান-সম্মান-আদর প্রদর্শন করে,নিজেকে উৎশৃঙ্খল হতে দেয় না এবং শারীরীক ভাবে একটি সুন্দরতর মানুষ হয়ে গড়ে তুলতে থাকে সে নিজেকে।তাই যে ব্যক্তি বা সাধক ঐ “যম ও নিয়ম” নিষ্ঠার সঙ্গে এবং কায়মনোবাক্য দ্বারা এবং সততার সঙ্গে(কপটতা বা লোকদেখানো ভালমানুষী নয়) পালন করে ,সেই মানুষ টি নিজেকে সত্য -সুন্দর রূপে লালিত পালিত করে “শিবত্ব”- প্রাপ্ত হবার পথে অগ্রসর হয়।তাই তাঁকে সকলেই ভালবাসতে থাকে এবং সেও সকলকে ভালবাসতে পারে।তাঁর মধ্যে যে সঞ্জীবনী সুধা জাগ্রত হয়,তার সংস্পর্শে অন্য জীবাত্মাও উজ্জিবীত হয়।তার মধ্যে যে প্রকৃত ধর্মভাব বা আধ্যাত্মিক ভাব জাগ্রত হতে থাকছে এবং সেই ভাব তাকে অন্যকেও শুদ্ধ ও সিদ্ধ হতে অনুপ্রানিত করে…. তার সেই মহান শক্তি আন্যের মধ্যেও পজেটিভিটি তৈরি করে…।এটাকে পজেটিভ টিউনিং বলে এবং সেই সাধক কিন্তু নিজের অজান্তেই আধ্যাত্মিক,মানসিক,বৌদ্ধিক সহায়ক রূপে অর্থাৎ গুরু রূপে অন্যের অদৃষ্ট বা ভাগ্য নির্মানের হোতা হয়ে ওঠে।…. জীবনের চলার পথের পাথেয় যে যম ও নিয়ম… সেটা দৃঢ়তার সঙ্গে মানতেই হবে…সেটাই প্রতিপদে স্মরণে রাখতে হবে…… এবং এইভাবে চলতে পারলেই নিজের মন নিজের বশে থাকবে।তখন আর ইন্দ্রিয়সুখের প্রতি আকর্ষণ থাকবে না এবং জাগতিক ক্ষণস্থায়ী সুখের প্রতি তীব্র অনীহা জন্মাবে এবং আত্মতত্ত্বই সাধকের ধ্যান জ্ঞান হয়ে উঠবে।এবং তখন ঈশ্বর কৃপায় আত্মজ্ঞান আপনা আপনিই প্রকাশিত হবে।।।।।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started