টোকাটুকি একটা আর্ট । কথাটা নতুন নয়, সবাই জানে । পরীক্ষার হলে ইনভিজিলেটরের নাকের ডগা থেকে চোখ না সরিয়ে অল্প শুনে কিছুটা আড়চোখ বুলিয়ে বাকিটা বুঝে নিয়ে পুরোটা নামিয়ে দেওয়া সবার কম্মো নয় । যারা পারে তারা মহাবিদ্যার অধিকারী । যারা পারে না , তাদের মধ্যে একজন অরুনাংশু । অরুনাংশু বাড়ি থেকে হাজার পড়েটড়ে এলেও নিজে থেকে লেখার সাহস পেত না !! হাত পা কাঁপতো !! পেট গুড়্গুড় করতো ! ওকে কারো না কারো খাতা দেখতেই হবে !! দেখতেই হবে , শুনলেও হবে না , শুনেও ছড়াবে !! 😎😎 একবার G.K.- র ক্লাস টেস্টে প্রশ্ন এল :”মোনালিসা ছবিটি কার আঁকা ? “😊অনেকেই জানত, তবুও ফাস্ট বেঞ্চ থেকে ফার্স্টবয় আশাদুল উত্তরটা পেছনদিকে রিলে করে দিল । মুখে মুখে কানে কানে উত্তর পৌঁছে গেল লাস্ট বেঞ্চ অবধি !! 🙂 🙂 ক্লাসশুদ্দু আমরা সবাই লিখলাম ” লিওনার্দো দা ভিঞ্চি । ” ☺ ☺একমাত্র অরুনাংশু !! ব্যাটাচ্ছেলে কি শুনেছিল কে জানে !! লিখল “প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী “।😎😎আরেকবার ইংরেজী পরীক্ষার দিন। বিধূবাবু ইনসমনিয়াক। এসেই বললেন :” তোরা তো জানিস আমি দিনে ঘুমোই !! তাই যে যা পারিস করে নে ! শুধু গোল করিস না, আমার ঘুম চটকালে কিন্তু কারো রক্ষে নেই। সোজা ২০ মার্ক কেটে নেব। আমরা নিশ্চিন্তে এর ওর খাতা খুলে দেখেটেখে লিখে নিলাম। সেবার আমার পেছনে বসেছিল অরুনাংশু। তাড়াতাড়ি শেষ করে ওকে খাতা দিয়ে দিলাম । “নে ভাই, জি লে আপনি জিন্দেগি।” ওর হাসি আর ধরে না !! 🤓🤓খাতা বেরোনোর আগের দিন আমাকে হেডমাস্টার কল করলেন : ” পার্থসারথি সাহা !! তোমার নামে দু’টো খাতা কি করে এল ?” 🙄 🤔 😕 😠 😡খাতা দু’টো হাতে নিয়েই বুঝলাম … অরুনাংশু আবেগের আতিশয্যে সোজা নাম থেকে টোকা শুরু করেছিল । এরপর দু’হপ্তা আমি আর অরুনাংশু … রোজ টিফিন পিরিয়ডে টিচার্স রুমের বাইরে নিলডাউন থাকতাম । স্যাররা দয়া করে মাঝে মাঝে এটাসেটা খেতে দিতেন !!😒 😒পরে আমি, পরান আর আশাদুল মিলে ওকে বুঝিয়েছিলাম, দ্যাখ ভাই !! টুকবি টোক !! কিন্তু এইভাবে মগজ বন্ধ করে টুকলে চলে ? 😳😳 মাঝে মাঝে একটা দু’টো জায়গায় বদলে দিবি !! কোন বরাহনন্দন ধরতে পারবে না । পরেরবার ইতিহাস পরীক্ষায় আকবরের সাম্রাজ্যবিস্তার বর্ণনা করোয় আশাদুল লিখল – ” আকবর সুশাসকের পাশাপাশি অত্যন্ত বিচক্ষন ও সাহসী যোদ্ধা ছিলেন । কঠিন বিপদের সময় ভাঙিয়া পড়িতেন না। “অরুনাংশু সম্ভবত আমাদের উপদেশ শুনেছিল । শব্দ পালটে দিয়ে লিখেছিল :” আকবর কঠিন বিপদের সময় জাঙিয়া পড়িতেন না ।”😀😃😄😆😂😜😝