বিবেক, বৈরাগ্য ও অনুরাগ এর সঙ্গে ঐকান্তিকভাবে সাধন ভজন করে ভগবানকে হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে, তাঁকে অন্তরে বাইরে সর্বত্র সকল বস্তুতে দর্শন ও উপলব্ধি করতে পারবে ।

SWAMI VIRAJANANDA
paromatho pashongo–SWAMI VIRAJANANDA                 

 পরমার্থ  প্রসঙ্গ *   ********


ভগবান যখন তাঁর অসীম কৃপায় গুরুমুখে তাঁর সিদ্ধমন্ত্র দিয়েছেন
, তাঁকে পাবার চাবিকাঠি দিয়েছেন তখন জানবে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন | এখন তোমার সেইটি ধারণা হওয়া চাই | যদি সেই অমূল্য রত্নকে অযত্নে ও অবহেলায় হারাও তো জানবে তুমি তাঁর কৃপার অযোগ্য | তাঁর কদর করা মানে গুরুদত্ত মন্ত্র ও উপদেশ সর্বান্ত:করণে সাধন ও পালন করা, যতদিন না বস্তু লাভ হয় | তাহলে গুরুর ঋণের কথঞ্চিৎ প্রতিদান করা হবে | ভগবানকে যত আপনার হতে আপনার বলে জানবে, ততই তুমি তাঁর কৃপার অধিকারী হবে, তাঁর কৃপার এ জন্মেই জীবন্মুক্ত, নিত্যানন্দময় হবে |
প্রেম, অনুরাগ যতদিন না আসে ততদিন সংসার কখনই অনিত্য ও অসার বলে বোধ হবে না | মন তো একটি বই দুটি নয়, আর মনকে ভিন্ন ভিন্ন কামরায় ভাগ করা যায় না যে, কতকটা ভগবানে দেবে আর কতকটা বিষয়বাসনায় ভরে রাখবে | সব মন ভগবানে না দিলে তাঁকে লাভ করা যায় না, ফলে বারে বারে সংসারে আসা যাওয়া ও অশেষ দু:খ ভোগ করতে হয় |
সংসার ত্যাগ করতে হলে যে সন্ন্যাসী হয়ে বনে যেতে হবে তা নয় | আসল ত্যাগ হচ্ছে মনে | মনে ত্যাগ করলে সংসারেই থাক আর বনেই থাক, একই কথা | মনে ত্যাগ না করে বনে গেলেও সংসার সঙ্গে সঙ্গে যাবে ও ভোগাবে, নিস্তার পাবে না |
সংসারের সব সুখটুকুও চাই আবার ভগবানকেও পেতে চাই, তা হয় না গো হয় না |
যদি ভগবান এসে বলেন, তুই আমাকে চাস, না স্ত্রীপুত্র, নাতিপুতি নিয়ে ঐশ্বর্যশালী হয়ে সুস্থ শরীরে শতাধিক বৎসর বেঁচে থাকতে চাস ? তা হলে দেখবে, কোটি লোকের মধ্যে জোর একজন ছাড়া বাকি সকলে শেষেরটিই চাইবে |
ভগবানকে পেতে হলে ষোল আনা মনপ্রাণ দিতে হবে এক পাই, এক কড়াক্রান্তি কম হলেও চলবে না | আমরা চাই , কিছু না খেটেখুটে সহজে ও সব দিক বজায় রেখে যদি তাঁকে পাওয়া যায় ! যদি কৃপা করে পাইয়ে দেন তো কথাই নেই ! তা কি হয় গো ? সে যে কড়ার কড়া তস্য কড়া আপন গন্ডা বুঝে লবে |
যে তাঁকে চায় সে তাঁকে পায় ; যে তাঁকে না চায় তাকে পাঁচ ভুতে নাচায় |
বিজ্ঞাপনে পড়ে আট আনা ভরি সোনা কিনতে অনেকে ছোটে, কিন্তু আসল সোনাই সোনা, অন্য সোনা সোনা নয় মেকী, ভুয়ো, আট আনাই নষ্ট |

পরমার্থ প্রসঙ্গ

 পরমার্থপ্রসঙ্গ

বিবেক, বৈরাগ্য ও অনুরাগ এর সঙ্গে ঐকান্তিকভাবে সাধন ভজন করে ভগবানকে হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে, তাঁকে অন্তরে বাইরে সর্বত্র সকল বস্তুতে দর্শন ও উপলব্ধি করতে পারবে । তখন আর অন্য কিছু লাভ করবার, আকাঙ্ক্ষা করবার থাকে না, জীব আনন্দময় হয়ে যায় । এই হলো মানবজীবনধারণের একমাত্র উদ্দেশ্য । আর সব মনের ভ্রান্তিমাত্র । প্রাণভরে যত পার জপ তপ করবে। তবে হৃদয়ে এই ধারণা দৃঢ়ভাবে রাখবে যে এত জপ তপ করছি বলেই ভগবান দেখা দেবেন, কৃপা করবেন, তা নয, তাঁকে লাভ করা কেবল তাঁর কৃপাতেই হয় । সাধনভজন কেবল ডানা বেদনা করবার জন্য । পাখির ডানা বেদনা হলেই বসবার ইচ্ছা হয় ।সমুদ্রের মাঝে বারবার আকাশে উড়ে উড়ে মাস্তুল ছাড়া বিশ্রাম করবার আর কোন স্থান নাই দেখে পাখিকে সেই মাস্তুলেই আশ্রয় নিতে হয় । কিন্তু এ বোধটি নিশ্চয় না হলে অনন্যশরণ হওয়া যায় না ।।

@page { margin: 2cm } h2.cjk { font-family: “WenQuanYi Micro Hei” } h2.ctl { font-family: “Lohit Devanagari” } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started