BEST JOSK II Swami Saradananda and Swami Trigunatitananda Ramakrishna saranam II খাদ্য রসিক সারদা মহারাজ

Swami Saradananda and Swami Trigunatitananda Ramakrishna saranam::::::::::::; খাদ্য-রসিক সারদা মহারাজ ::::;;;;;;;

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
স্বামী প্রেমানন্দজী বলতেন, “ওর সিদ্বাই ছিল l আমি একবার সাড়ে সাত সের ঘন দুধ ধীরে ধীরে দিতে লাগলুম -ও বেশ খেয়ে যেতে লাগল l আমিও থামলুম না ,ও -ও থামল না” l
প্রেমানন্দজী শ্রী রামকৃষ্ণ —পার্ষদ সারদাপ্রসন্ন মিত্র সম্পকে এই কথা বলেছিলেন l তাঁর স্বভাব ছিল বালকের মতো সহজ ,সরল আনন্দে পরিপূর্ণ l
সারদা মহারাজ একদিন ডাক্তার বিপিন ঘোষের বাড়ি গেছেন l ডাক্তার পুরনো ভক্ত ,ঘরে সাধুকে পেয়ে তিনি দু-টাকার রসগোল্লা থালায় সাজিয়ে দিলেন আর সাধুও অম্লান বদনে সব রসগোল্লা খেয়ে নিলেন l সেই সময়ে দু — পয়সায় রসগোল্লা পাওয়া যেত l যাই হোক ,এইবার ডাক্তারবাবু তাঁর কাছে আসার কারণ জানতে চাইলে সাধু জানান , তাঁর পেট খারাপ হওয়ায় রাজা মহারাজ তাঁকে ডাক্তারবাবুর কাছে পাঠিয়ে ছেন l ডাক্তারবাবু বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলেন –“অত রসগোল্লা খেলে কেন ? “
সাধু বললেন , ” তা আপনি দিলেন —-আমি কী করব ?
এই ছিলেন আমাদের সারদা মহারাজ l বাবুরাম মহারাজের মা একদিন সারদা মহারাজ ও আরও দুজন কে নিমন্ত্রণ করেছিলেন l তো নির্দিষ্ট দিনে তিনি একা উপস্থিত হলেন ,অন্য দুজন আসতে পারেননি l গৃহস্থের জিনিস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় মহারাজ একাই তিনজনের খাবার খেয়ে নিলেন l পরেরদিন মাতঙ্গিনী-দেবী তাঁকে সুস্থ দেখে বলেছিলেন , “সারদা অনেক পাহাড়-পর্বত ঘুরে বেড়িয়েছে ,ও অনেক “মোন্তর ” শিখেছে ,তাই উড়ো মন্তরে সব উড়িয়ে দেয় l তা না হলে মানুষ কি অত খেতে পারে !”
মাঝে মধ্যেই শরীরের প্রতি অনিয়ম করার জন্য জ্বরে ভুগতেন তিনি l একদিন সকাল থেকে গায়ে জ্বর থাকায় সকালে সাবু খেলেও দুপুর বেলাতেই সারদা মহারাজ আধসের কচুরি ,তরকারি ও একসের রাবড়ি খান l সারদা মহারাজের এই সামান্য পথ্যগ্রহণের হিসাব শুনে স্বামীজী হো হো করে হেসে বলেন , “শালা !তোর Stomach- টা দে দেখি —–দুনিয়ার চেহারাটা একেবারে বদলে দি l “
তাঁর এই সারল্যভরা বালকত্ব বাইরের রূপ হলেও ,অন্তরে শরীর ও মনের উপর নিয়ন্ত্রণ অসীম ছিল lবাবুরাম মহারাজ তাই তো বলেছেন , “রোজ একটা করে কলা খেয়ে (সারদা ) ওই বেলতলায় পড়ে রইল l “আবার কোন সময় সারদা মহারাজ নিজেই শরৎ মহারাজ কে বলে উঠেছেন , ” দুপুর হয়েছে কিনা তাই স্নান করে পিত্তিরখ্যা করে নিলাম ……
দেখলুম কচি দূর্বা রয়েছে , তাই খেয়েছি l “

বিদেশ যাত্রার আগে এই অসম্ভব খাদ্যরসিক মহারাজই স্থির করেছিলেন, যদি দেশি খাবার না পাওয়া যায় তাহলে শুধু চিনি আর রুটি খেয়ে থাকবেন lপূর্ণচন্দ্র শেঠ মহাশয়ের সাথে সারদা মহারাজের খুবই সখ্যতা ছিল l মহারাজ আমেরিকা-যাত্রা করার পর থেকেই পূর্ণ বাবুর সাথে পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন l এই পত্র গুলোর মাধ্যমে ও তাঁর বিদেশে খাদ্যাভ্যাস সমন্ধে জানতে পারি l

৪ March ১৯০৩-এ লেখা একটি পত্রের মাধ্যমে তিনি পূর্ণবাবুকে জানিয়েছেন :
“আমি সেই রকমই নিরামিষ আহারী আছি l মাছ মাংস ডিম বা চর্বি আদৌ স্পশ্ পয্যন্ত করি না l চেহারা আধখানা হয়ে গেছে l “
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
১৮জানুয়ারি ১৯০৬ সালের পত্রে দেখি মহারাজ পূর্ণবাবু কে বলছেন — “আপনার দ্বারে আজ একজন ভিখুক উপস্থিত ……..সাচি ও ভাজা সোনা মুগের ডাল ,খাড়ি মুশুর ,অপরাপর ডাল ,বড়ি ,পাপড় ,আচার ,ইত্যাদি অনুগ্রহ করে পাঠাবেন l ” আবার অন্তরঙ্গ বন্ধু অতুল কৃষ্ণ দাসকে লেখা পত্রে দেখতে পাই —“শুড়ির দোকান থেকে তোমাকে দিয়ে কেমন মাংসের কচুরি আনিয়ে খেতুম,মনে আছে কি ?”

তীর্থদর্শন ও সেবাকাজের সময় মহারাজ ভিক্ষালব্ধ অন্নে দিনাতিপাত করতেন l আবার সম্ভবস্থলে প্রচুর অন্ন গ্রহণ করে উদরপূর্তি করতেন l একবার জয়রামবাটী থেকে কলকাতায় ফিরবার সময় তিনি একটি ছোট হোটেলে খেতে ঢুকে মালিক কে জানান যে তিনি অন্যদের তুলনায় অধিক আহার করেন ,তাই তাঁকে যেন বেশি খাদ্য পরিবেশন করা হয় , বিনিময়ে তিনি অধিক অর্থ দেবেন l দোকানের মালিক ছিলেন খুবই ঈশ্বর অনুরাগী তাই সাধুর সেবায় যাতে কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য নিজেই পরিবেশন করতে শুরু করলেন l সারদা মহারাজ ও বার-বার ভাতডাল চেয়ে খেতে লাগলেন l ক্রমে মালিকের ক্ষুদ্র ভাঁড়ার প্রায় শেষ হয়ে আসলেও তিনি চিরাচরিত বিধান অনুযায়ী সাধু সেবা করে তৃপ্তি লাভ করেছিলেন l

জয় স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ ,মহারাজজীর জয়  ,জয় ভগবান রামকৃষ্ণদেবের জয় 

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started