Ma sarada —Swami Apurbananda II শ্রীশ্রীমা

SRI SARADA DEVI
শ্রীশ্রীমা
………
( ১ )
ভোরবেলা গঙ্গাস্নান করে ভক্ত বন্ধুটির পূজার ঘরে একটু বসেছি ধ্যান প্রার্থনা করতে । অল্প ক্ষণেই মন খুব শান্ত হয়ে গেল এবং অব্যক্ত আনন্দে ভরে গেল ।
বসে আছি , ক্রমে গভীর ধ্যান মগ্ন হলাম । ধ্যানে এক আলৌকিক দর্শন হল ।
এক দেবী মুর্তি জ্যোতির্ময়ী রূপে দর্শন দিলেন ।
সরু লাল পেড়ে সাদা কাপড় পরে বসে আছেন মায়ের মত ।
আমি দুই তিন মাসের একটি ছোট্ট শিশুতে পরিণত হয়েছি । তিনি হাত বাড়িয়ে ঐ শিশু রূপী আমাকে কোলে নিলেন আর নানা ভাবে আদর করতে লাগলেন । আমি ছোট্ট শিশু রূপে তাঁর কোলে শুয়ে আছি আর হাত পা নেড়ে আনন্দে খেলা করছি । তাঁর স্পর্শে আনন্দে সর্বাঙ্গে আনন্দের শিহরণ হচ্ছেন।তিনি খিল খিল করে হেসে সর্বাঙ্গে হাত বুলিয়ে আদর করছেন ।
আমি ইতি পুর্বে শ্রীশ্রী মায়ের ছবি দেখিনি তাই ভাবছি —-
ইনি কে , আমায় এত ভালবাসছেন !
সে এক দিব্য অনুভূতি । আনন্দে আমি ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে ঐ মাতৃ মূর্তি কে জড়িয়ে ধরছি । এভাবে কতক্ষণ কেটে গেল জানিনা । এই মাতৃ মূর্তি অন্তর্হিত হবার সাথে সাথে ধ্যান ভেঙে গেল । চোখ মেলে দেখি ভক্ত বন্ধুর ছোট্ট ঠাকুর ঘরটিতে ঠাকুরের পট মূর্তির সামনে বসে আছি । প্রথম প্রভাতের সূর্যালোক জানলা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছে । আনন্দে ও বিস্ময়ে বাহ্য জ্ঞান হারিয়ে খানিকক্ষণ ঐ দর্শনের কথা ভাবতে ভাবতে আসনে বসে ছিলাম । যখন উঠলাম সারে ছটা বেজে গেছে ।
আমি ভক্ত বন্ধুটিকে বলে আশাভরা প্রাণে শ্রী শ্রী মায়ের বাড়ির দিকে রওনা হলাম ।
উদ্বোধন – বাড়িতে পৌঁছে দেখি ততক্ষণে পনের – বিশ জন ভক্ত শ্রী শ্রী মায়ের দর্শন প্রার্থী হয়ে অপেক্ষা করছেন ।
প্রায় আটটার সময় একজন সাধু মহারাজ একটি বড় রেকাবি তে শালপাতায় সাজানো প্রসাদ নিয়ে এসে সকলের হাতে হাতে দিয়ে বললেন , ” মা প্রসাদ পাঠিয়েছেন , প্রসাদ খেয়ে আপনারা অপেক্ষা করুন মায়ের দর্শনের জন্য । ডাকা হলে সকলে দর্শন করতে যাবেন । ” তিনি আরও বললেন যে , মা ঠাকুর পূজা করে নিজের হাতে প্রসাদ সাজিয়ে ভক্তদের জন্য পাঠিয়েছেন ।
এর চাইতে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে ? ঐ প্রসাদ যেন শ্রী শ্রী মায়ের পুণ্যস্পর্শ পূত আশীর্বাদ — তাঁর স্নেহ । ঐ প্রসাদ খেতে গিয়েও আমার মনে জেগে উঠেছিল ভোরবেলার দেখা সেই দেবী মূর্তি ।
” স্বামী অপুর্বানন্দ”

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started