MOHABHARAT KUNTI BANI II কুন্তীর মহৎ জীবনের সার বাণী’

‘কুন্তীর মহৎ জীবনের সার বাণী’
+++++++++++++++++++++
      ভারতীয় সভ্যতার চিরন্তন আদর্শ—ধর্ম, ত্যাগ, ক্ষমা ও সেবা।  বানপ্রস্থানের পথে তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান বিদায়-বাণী দিয়েছেন যুধিষ্ঠিরকে।  নিঃসন্দেহে একজন উচ্চমনা ভারতীয় নারীর অন্তরের এই বাণী অমূল্য।  তিনি যুধিষ্ঠিরকে বলেন—‘ধর্মে তে ধীয়তাং বুদ্ধিঃ’—তোমার বুদ্ধি ধর্মে অভিনিবিষ্ট থাক এবং তোমার মন প্রশস্ত হোক।  এটাই কুন্তীর মহৎ জীবনের সার বাণী।  এই তাঁর প্রজ্ঞা বাণী।  সেই জন্যই  কৃষ্ণ, ভীষ্ম, বিদুর প্রভৃতি তাঁকে ‘প্রজ্ঞাবতী’, ‘মহাপ্রাজ্ঞ’, ‘মনস্বিনী’ প্রভৃতি বিশেষণে বিভূষিত করেছেন।  কুন্তীর দুটি মহৎগুণের উল্লেখ করেছেন ব্যাসদেব।  একটি তাঁর ধৈর্যশীলতা এবং অপরটি তাঁর গুরুসেবা।
      তাঁর পুণ্যজীবন অনুধ্যানে আমরা তাঁকে দেখি, তিনি প্রকৃতই ভারতীয় আদর্শের শরীরী রূপ।  ভারতের জাতীয় মহত্তম আদর্শগুলি যেন তাঁকে অবলম্বন করেই মূর্ত হয়েছে।  পবিত্রতা, পাতিব্রতা, ত্যাগ, ধৈর্য, কঠোর তপস্যা, ক্ষমা ও সেবা তাঁর জীবনসরোবরে প্রস্ফুঠিত শতদল পদ্ম।  পুণ্যবতী ও মহামতি কুন্তী নিজের চরিত্রবলে যুগযুগান্ত ধরে আমাদের মনের আকাশে আদর্শের  ধ্রুবতারা। সেজন্যই এই মহীয়সী ও তপস্বিনী নারী হিন্দুদের নিত্য স্মরণীয়া পঞ্চকন্যার অন্যতমা।  এঁদের স্মরণ করলেও পুণ্য হয়।
            ♣♣♣♦♦♣♣♣

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started