১}তপস্যা করার জন্য কোথাও যাব এমন ভাবনা আমি কখনও করিনি l আমি একথাই ভাবতে শিখে ছি যে ,যেদিন থেকে আমি শ্রী রামকৃষ্ণ-সঙ্ঘের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছি সেদিন থেকে আমার তপস্যা শুরু হয়েছে এবং আমার সমগ্র জীবন ও কর্মই তপস্যা l
২} গুরুপ্রদত্ত মন্ত্রের মাধ্যমে ঈশ্বরের নাম করবে বারবার l তুমি একা থাকলে তাঁর নাম উচচস্বরে করতে পার l সেই শব্দতরঙ্গ দিয়ে তোমার মনকে পরিপূর্ণ করো l ঈশ্বরীয় নামে মহান শক্তি আছে ,তবে তা আমাদের অনেক সময়ই অব্যক্ত থাকে l বারংবার মন্ত্র উচচারণের মাধ্যমে মন্ত্রশক্তি মনের অন্তদেশে প্রবেশ করে দুষ্ট চিন্তার অবসান ঘটায় l
৩} কাজ করো ,কাজের সঙ্গে অবসরও উপভোগ করো ,কাজকে কখনও ক্লান্তিকর করে তুলবে না এবং কাজের পরিধির বাইরে মনকে হাল্কা রাখতে চেষ্টা করতে হবে l যদি হৃদয়ে কর্মের জন্য অনুরাগ থাকে তাহলে কাজও আনন্দময় হয়ে ওঠে ও সব কিছুই সুন্দর হয়ে ওঠে l
৪} মানুষ স্বরূপগত ঐশ্বরীক ও আধ্যাত্ম ভাবে ভাবাপন্ন -কিন্ত সেই ভাব সুপ্ত থাকে l আমাদের সেই ঐশ্বরিক ভাবকে বিকশিত করতে হবে নিজের নিজের জীবন ও কর্মে ; গড়ে তুলতে হবে ৈনতিক দৃঢ়তা ও ইচছাশক্তি l
৫} মানুষের মধ্যে অন্তনিহিত দেবত্বকে পুজো করার সঠিক উপায়টি দুটো শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে l “দানমানাভ্যাম “–দান এবং মানের মাধ্যমে l অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা-দান করতে হবে l দরিদ্র ব্যক্তিকে অন্নদান বা কর্মদান করতে হবে এবং এই দান-সম্পাদানের ক্ষেত্রে –ঐ ব্যক্তিকে সম্মান অর্থাৎ মান দিতে হবে l নিজেকে বড় বা শ্রেষ্ঠ মনে করে অন্যের প্রতি কৃপা করা চলবে না l
৬} আমরা দূষণ নিয়ে আলোচনা করি–পরিবেশ দূষণ ,জল দূষণ ,ইত্যাদি কিন্ত এই সময়কালে মনের দূষণই সব চাইতে মারাত্মক
দূষণ l মন সর্বদাই কলুষিত হচছে l এই জগৎ-সংসার প্রতিনিয়ত মনের কাছে দূষণের তরঙ্গ পাঠিয়ে চলেছে l তাই উপনিষদ আমাদের উপদেশ দিয়ে বলেছেন আমরা যেন মনের ভিতরে পৃথিবী থেকে যা আহরণ করে রাখি ,তা
গ্রহন করার আগে শোধন করে নিই l উপনিষদের এই শিক্ষা যথার্থভাবে গ্রহন করলে মন শুদ্ধ থাকবে l আমাদের দেহ-মন উভয়েরই যত্ন নিতে হবে , কিন্ত মানসিক- আহার দৈহিক আহারের তুলনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ l
দূষণ l মন সর্বদাই কলুষিত হচছে l এই জগৎ-সংসার প্রতিনিয়ত মনের কাছে দূষণের তরঙ্গ পাঠিয়ে চলেছে l তাই উপনিষদ আমাদের উপদেশ দিয়ে বলেছেন আমরা যেন মনের ভিতরে পৃথিবী থেকে যা আহরণ করে রাখি ,তা
গ্রহন করার আগে শোধন করে নিই l উপনিষদের এই শিক্ষা যথার্থভাবে গ্রহন করলে মন শুদ্ধ থাকবে l আমাদের দেহ-মন উভয়েরই যত্ন নিতে হবে , কিন্ত মানসিক- আহার দৈহিক আহারের তুলনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ l
৭} সমস্যা যত জটিলই হোক না কেন ,মানুষ করতে পারে না এমন কোন কাজই নেই l মানুষের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা নিহিত আছে l এটাই হল স্বামী বিবেকানন্দের “বৈদান্তিক অধ্যাত্মবাদ ” l
৮} আমাদের জীবনে কোন কিছু পরিত্যগ করাই কঠিন আর অহংকে পরিত্যগ করা সব চাইতে কঠিন l কিন্ত সত্যকে উপলব্ধি করার জন্য এই ক্ষুদ্র অহং টিকে সর্বাগ্রে পরিত্যাগ করতে হবে l
–স্বামী রঙ্গনাথানন্দ মহারাজ এর
শুভ জন্মদিন মহারাজ-প্রণাম
শুভ জন্মদিন মহারাজ-প্রণাম
