Sri ramakrishna give upodes ma sarada

“কারে দাও মা  ব্রহ্মপদ
কারে কর অধোগামী…”
মা কি সত্যিই কারো অধোগামী হতে দিতে পারেন???
মা যে করুণাময়ী, ঈশ্বর মঙ্গলময়, তাহলে???
বিষয়টি পরিস্কার হোক………………..
প্রনাম
শ্রীশ্রীমাকে স্মরণ ও  প্রণাম ॥
বেশ বেশ ভাল কথা | ঠাকুরের কথা দিয়ে শুরু করি | আমাদের এই জগতের মধ্যে সব ধরনেরই মানুষ বাস করছেন | কেউ মাকে চায় আবার কেউ চায় তাঁর ঐশ্বর্য্যকে | যে যেমন চায় তাকে ঠিক তেমনি প্রদান করেন | একটি ছোট ছেলেকে চুষি কাঠি দিয়ে ভুলিয়ে রেখেছেন যতক্ষণ না সে সেই খেলার বস্তু ছেড়ে মায়ের কাছে যাবার জন্য কান্নাকাটি করছে ততক্ষন সে সেই খেলায় মেতে থাকে আর মাও নিশ্চিন্তে অন্য কাজ করতে থাকে যেই ছেলে কান্না জুড়ে দিল তখন মা সব কাজ ছেড়ে দৌড়ে এসে কোলে তুলে নেয় | তাই এখানে ঠাকুর এই উদাহরণের দ্বারা আমাদের বোঝালেন এই মায়ার খেলায় কিছু কিছু সময়ে পুরুষকার প্রয়োগ করতে হবে অর্থাৎ তাঁর স্মরণ, মনন ও নিদিধ্যাসন করা উচিত তবেই মা আসবেন সেই সন্তানের কাছে মা কি সন্তানদের ছেড়ে থাকতে পারেন |
আর হ্যাঁ সাধক কবির ভাষায় অধোগতি বলতে যে সেই মায়ার খেলায় ডুবে থাকতে চায় তাকে বেশ কিছু সময় ওই খেলায় মেতে থাকতে দেয় | মা কখনই সন্তানের অমঙ্গল চান না |
ঠাকুর একবার হৃদয়নাথের বাড়ী গিয়েছিলেন সেখানে তার ছোট ছেলেকে ঠাকুর পর্যবেক্ষনে দেখেন একটি পুতুল নিয়ে বেশ খেলা করছে কিন্তু যেই পুতুলের ওপর খেলা আর ভাল লাগছে না তখনই সে হাত পা ছুড়ে কাঁদতে থাকে আর হৃদয়ের বৌ ছুটে এসে কোলে তুলে নেয় |
এই উদাহরণটি অনত্রও দেখা গেছে ঠাকুরের বাবার যখন দেহ যায় তখন ঠাকুরের মা শোকে বলতে লাগলেন আমি আর সংসারে থাকব না কাঁদতে কাঁদতে ঘড়ের বাইরে যাচ্ছিলেন এমন ঠাকুরের ছোট ছোট ভাই বোনেরাও মায়ের পিছু নিল আর বলতে লাগল মা আমরাও তোমার সঙ্গে যাব এই শুনে মায়ের আর যাওয়া হোল না |
এইরকম ঠাকুরের নানা পর্যবেক্ষণের উদাহরন ঈশ্বরের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন | আর মাকে প্রাপ্ত হওয়া মানেই সেই পরম পদ ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হওয়া | তখন মন তুই দেখ আর আমি দেখি আর কেহ নাহি যেন দেখে |
বোঝে মন বোঝে যার |
মহামায়া তো খেলাতে ভালবাসেন , তবে ঠাকুরের সেই বুড়ির খেলার মতন যে বুড়িকে ছুঁয়ে দেয় সে তো খেলার উর্দ্ধে উঠে যায় |
মা একবার জয়রামবাটীতে গোলকধাম খেলার সময় যার গুটি উঠে যাচ্ছে মা তার গুটিকে বলছেন এ শুদ্ধ সত্ব | সুতরাং যারা ঈশ্বরকে পেতে ইচ্ছুক তারা তো মায়ের এই খেলায় নিজেকে ভাসিয়ে দেয় যেমন তিনি ইচ্ছা করবেন তেমন হবে তবে উদ্দেশ্য কিন্তু সেই পরম পদকে পাবার লক্ষ্য |
ঠাকুরের কথা আমাদের জীবনের ঈশ্বরীয় পথ সহজ করে দেয়, এ কথা বলার মধ্যে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
তবে একটু খটকা থাকে, যখন ভাবি ‘ঈশ্বর লাভই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য, তখন মা কেন মায়ার খেলাতে ভুলিয়ে রাখতে যাবেন???
না কি এই মায়ার খেলাতে থাকার পেছনে একান্ত আবশ্যকতা আছে???
আর মায়ার খেলার আয়োজনই বা কেন???
জয় মা ব্রহ্মময়ী।
শ্রীরামকৃষ্ণ  রামপ্রসাদের  গান গাইছেন– শ্যামা মা উড়াচ্ছে ঘুড়ি(ভবসংসার বাজার মাঝে)। ওই যে আশা বায়ু ভরে উড়ে, বাঁধা তাহে মায়া দড়ি।।………. ঘুড়ি লক্ষের দুটা-একটা কাটে, হেসে দাও মা হাত চাপড়ি।।     ঠাকুর বলছেন,  তিনি লীলাময়ী,এসংসার তাঁর লীলা। তিনি ইচ্ছাময়ী, আনন্দময়ী। লক্ষের মধ্যে একজনকে মুক্তি  দেন। তাঁর ইচ্ছা তিনি এইসব খেলা করেন।তাই তো আমাদের সংসারে বদ্ধ করে রেখেছেন। বুড়ি ছোঁয়ার খেলায় সকলে যদি বুড়িকে ছুঁয়ে ফেলে তাহলে বুড়ি অসন্তুষ্ট হয়। খেলা চললে বুড়ির আহ্লাদ। তাই লক্ষের দু-একটা ঘুড়ি কাটলে, মা অর্থাৎ বুড়ি হেসে হাত-চাপড়ি দেন। মা মনকে আঁখি ঠেরে ইশারা করে বলে দিয়েছেন, যা সংসার করগে।মনের কি দোষ? আবার যদি দয়া করে মনকে ফিরিয়ে দেন, তাহলে বিষয়বুদ্ধির হাত থেকে মুক্তি হয়।তখন আবার তাঁর পাদপদ্মে মন হয়।….এসবই শ্রীরামকৃষ্ণের কথা।
প্রেমময়-আনন্দময় স্বত্বার অংশ/খন্ড হিসেবে পরিপূর্ণতার লক্ষ্যে পথ চলা, এগিয়ে চলা।
কিন্তু বৈচিত্র্যময় জগতের বিচিত্রতা আমাদের মনকে বিচলিত, চঞ্চল-অস্থির করে তোলে, মনকে ভয়-দুর্বলতা গ্রাস করে ফেলে। আর তার পিছনে মূল কারন ‘আমিত্ব’, বিচ্ছিন্ন আমি’র অস্তিত্ব, অজ্ঞানতা।
এই ‘আমিত্ব’ নাশ করার লক্ষ্যেই জাগতিক বিচিত্রতা নিয়ে মায়ের কাছে সমর্পিত হওয়া এবং পরিপূর্ণতার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা নিষ্কণ্টক সহজ করে তোলা।
আসলে অধোগামীর কোন সম্ভাবনাই নেই, একমাত্র ঈশ্বর একেশ্বর নিজেকে নিয়েই নিজে খেলছেন, প্রেম এবং আনন্দে পরিপূর্ণতার খেলা।
অবতারপুরুষ থেকে কাপুরুষ সবটাই খেলার অন্তর্গত। আর আমরা পরিপূর্ণতার খেলায় নিয়োজিত অংশ হিসেবে পরিপূর্ণতার পথে আমরা বিভিন্ন স্টেশনে অবস্থান করছি এবং অজ্ঞানতা নিয়ে আপাত দৃষ্টিতে কারো অধোগামী বোধ করে থাকি।
সেই কারনে স্বামীজী বলেছেন, “প্রত্যেকটি ভবিষ্যতের একটা অতীত আছে, আর প্রত্যেকটি অতীতের একটি ভবিষ্যৎ আছে। মহর্ষি বাল্মিকির যেমন একটা অতীত আছে, তেমনি রত্নাকর দস্যুর একটা ভবিষ্যৎ আছে।”
আরো বলেছেন, “কাউকে পাপী মনে করাটাই পাপ।” অর্থাৎ অজ্ঞানতা, আর অজ্ঞানতা নিয়েই অধোগামী ভেবে থাকি।
জয় ঠাকুর-মা-স্বামীজী।
জয় মা ব্রহ্মময়ী।
আসলে আমরা বিভিন্ন স্টেশনে অবস্থান করছি।
যাত্রা শেষ হলেই তো ট্রেন থেকে নামিয়ে দেবে তাই অভিনয়টা ভালো করে যেতে হবে।
সোজা এবং অতি কঠিন বাস্তব সবেতেই আমরা নিজেরা নিজেদের জন্য ভীষনভাবে দায়ী,আর কেউই নয়।মা আসলে কে ও তাও জানা দরকার আগে।অকারন আবেগে ভেসে আমরা সত্য কে চিনতে চাইনা।
মাস্টার যেমন ছাত্রদের উত্তর এর গুণমান বিচার করে এক এক জনকে কম বেশি নম্বর দেন! ঠিক তেমনই  ভবতারিণীও আমাদের কর্মের গুণগত মান বিচার করে ফল দেন! তিনি কাউকে অকারণ অধোগামী করেন না, জীবের কুকর্মের ফল স্বরূপ তাকে অধোগামী করতেই হয় সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার্থে !!!

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started