Sri Sri mayer jibon kotha শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা

*- :      শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা      : -*
*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
             *:: শ্রীমা ও ঠাকুর ::*
   শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রীমাকে কি দৃষ্টিতে দেখিতেন, তাহা আমরা আলোচনা করিয়াছি। সম্প্রতি শ্রীমা ঠাকুরকে কি দৃষ্টিতে দেখিতেন, তাহাই বুঝিতে চেষ্টা করিব। এই ক্ষেত্রে দক্ষিণেশ্বরের দিনগুলিতে ফিরিয়া যাইবার তেমন প্রয়োজন হইবে না; আমরা মাতাঠাকুরানীর পরিণত বয়সের প্রতিই অধিক দৃষ্টি রাখিব; শুধু অন্তর্নিহিত ভাব বুঝিবার জন্য দুই-একবার অতীতের দিকে তাকাইব।
   দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুর একদিন নিজের ঘরে ছোট চৌকিখানিতে বসিয়া আছেন এবং শ্রীমা ঝাঁট দিতেছেন, অপর কেহ কাছে নাই; এমন সময়ে শ্রীমা হঠাৎ ঠাকুরকে প্রশ্ন করিলেন, *”আমি তোমার কে?”* ঠাকুর চিন্তামাত্র না করিয়া উত্তর দিলেন, “তুমি আমার মা আনন্দময়ী।”
   আবার হৃদয় যেদিন কৌতুহলবশে শ্রীমাকে জিজ্ঞাসা করিয়া বসিলেন, “মামী, তুমি মামাকে বাবা বলে ডাক না? – সেদিন শ্রী মায়ের সপ্রতিভ ঝটিতি উত্তর আসিল, *”উনি বাবা কি বলছ? মাতা, পিতা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন – সবই উনি।”*
   ঠাকুরের দৃষ্টিতে মা যেমন ছিলেন জগদম্বা, শ্রীমায়ের নিকট শ্রীরামকৃষ্ণ তেমনি ছিলেন সর্বদেবদেবীস্বরূপ; তিনি এক সময় বলিয়াছিলেন, *”উনিই মনসা, গঙ্গা, সব।”*
   ১৩২০ সালের ২৫ জ্যৈষ্ঠ। শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ ভৌমিক ও ডাক্তার দুর্গাপদ ঘোষ জয়রামবাটী হইতে কলকাতায় ফিরিবার পূর্বে শ্রীমায়ের সহিত কথা কহিতেছেন।
   সুরেন্দ্রবাবু নিবেদন করিলেন যে, ঠাকুরকে পূজা করিতে গিয়া তাঁহার একটু খটকা বাধে; কারণ ইষ্টদেবী ও ঠাকুরের অভেদ সম্বন্ধে একটা সাধারণ ধারণা থাকিলেও ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে ইষ্টদেবীর পূজা করিয়া জপবিসর্জনের সময় *”ত্বৎ প্রাসাদান্মহেশ্বরি”* বলিতে যেন কেমন একটা অসামঞ্জস্য বোধ হয়।
   মা সহাস্যে উত্তর দিলেন, *”তা, বাবা, তিনিই মহেশ্বর, তিনিই মহেশ্বরী; তিনিই সর্বদেবময়, তিনিই সর্বজীবময়। তাঁতে সব দেবদেবীর পূজা হয়। ও মহেশ্বর বললেও হবে, মহেশ্বরী বললেও হবে।”*
   আর একদিন (১৭ চৈত্র, ১৩২৬) জনৈক স্ত্রীভক্তকে তিনি বলিয়াছিলেন, *”উনিই সব। উনিই পুরুষ, উনিই প্রকৃতি। ওঁ (ঠাকুর) হতেই সব হবে।”*
   জয়রামবাটীতে শ্রীমা জনৈক দীক্ষার্থীকে ঠাকুরের পাদপদ্মে সমস্ত কর্ম, পাপপুণ্য ও ধর্মাধর্ম সমর্পণ করিতে বলিয়া এবং ঠাকুরকেই গুরুরূপে দেখাইয়া দিয়া ইষ্টমন্ত্র শুনাইলেন।
   কিন্তু কৃপাপ্রাপ্ত সন্তানের পরে মনে হইল, ঠাকুরই যদি গুরু তবে মা কে? তিনি বুঝিতে পারেন নাই যে, মা ও ঠাকুর অভিন্ন; তাই মাকে প্রশ্ন করিলেন, “ঠাকুরকে কি ভাবে চিন্তা করব?”
   মা গম্ভীরকন্ঠে উত্তর দিলেন, *”ইনিই সব – পুরুষ, প্রকৃতি; এঁকে ভাবলেই সব হবে।”* জনৈক স্ত্রীভক্তকে শ্রীমা বলিয়াছিলেন, *”ঠাকুরের ভিতর সব দেবদেবী আছেন – এমন কি, শীতলা, মনসা পর্যন্ত।”*
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্‌গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started