পঞ্চদীপের শিখায় মাতৃ আরাধনা

পঞ্চদীপের শিখায় মাতৃ আরাধনা

১) স্বামী বিবেকানন্দ–“বিশ্বাস বড় ধন, দাদা (স্বামী শিবানন্দ) জ‍্যান্ত দুর্গার পূজা দেখাব, তবে আমার নাম। তুমি জমি কিনে জ‍্যান্ত দুর্গা মাকে যে দিন বসিয়ে দেবে, সেই দিন আমি একবার হাঁপ ছাড়ব। মা ঠাকরুণ কি বস্তু বুঝতে পারনি, এখনও কেহই পার না, ক্রমে পারবে।”
২) স্বামী ব্রম্ভানন্দ–“মা হলেন সাক্ষাৎ জগদম্বা, নরদেহে স্বয়ং ভগবতী। ঠাকুর আর মা অভেদ। মাকে চেনা বড় শক্ত। ঘোমটা দিয়ে যেন সাধারণ মেয়েদের মত থাকেন, অথচ সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী। ঠাকুর না চিনিয়ে দিলে আমরাই কি মাকে চিনতে পারতাম!”
৩) স্বামী সারদানন্দ–১৯১৬ খ্রীষ্টাব্দের দুর্গাপূজার কয়েকদিন শ্রীমা বেলুড় মঠের উত্তরের বাগান বড়িতে ছিলেন। অষ্টমীর দিন সন্ধিপূজার পরে স্বামী সারদানন্দ একজন ব্রম্ভচারীকে বললেন : “এই গিনিটা মাকে দিয়ে প্রণাম করে আয়।” ব্রম্ভচারী ভাবলেন গিনিটি দুর্গাপ্রতিমাকে প্রণামী দিতে হবে। তাই শরৎ মহারাজকে নিঃসন্দেহ হবার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন। স্বামী সারদানন্দ বললেন : “ও বাগানে মা আছেন, তার পায়ে গিনিটা দিয়ে প্রণাম করে আয়। এখানে তো তাঁরই পূজা হল।”
অগ্নি আর তার দাহিকা শক্তি যেমন অভেদ, স্বামী সারদানন্দের চোখে শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীমা ছিলেন তেমনই। স্বামী সারদানন্দ বিশ্বাস করতেন, সর্ববিদ‍্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী এবার সারদাদেবীরূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণা হয়েছেন। একটি শ্লোকে তিনি বলেছেন:
যথাগ্নের্দাহিকা শক্তী রামকৃষ্ণে স্তিতা হি যা।
সর্ববিদ‍্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম‍্যহম্।।
৪) স্বামী শিবানন্দ–শ্রীশ্রীমায়ের এক জন্মদিনে মহাপুরুষ মহারাজ বলছেন : “আমাদের ভক্তি নেই, তাই এসব দিনের ঠিক ঠিক মাহাত্ম‍্য বুঝতে পারিনে। আজ কি যে–সে দিন ! মহামায়ার জন্মদিন। জীবজগতের কল‍্যাণের জন্য স্বয়ং মহামায়া আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মানুষলীলা বোঝা বড় শক্ত। তিনি কৃপা না করে বোঝালে কে বুঝবে ? কি সাধারণভাবে তিনি থাকতেন ! আমরা তাকে কি বুঝবো ? একমাত্র ঠাকুরই মাকে ঠিক ঠিক জেনেছিলেন।…আমাদের মায়ের নাম সারদা। ঐ মা-ই স্বয়ং সরস্বতী। তিনি কৃপা করে জ্ঞান দেন–জ্ঞান অর্থাৎ ভগবানকে জানা—ঐ জ্ঞান হলেই ঠিক ঠিক পাকা ভক্তি সম্ভব। জ্ঞান না হলে ভক্তি হয় না। শুদ্ধজ্ঞান আর শুদ্ধাভক্তি এক জিনিস—মায়ের কৃপা হলেই তা হওয়া সম্ভব। মা-ই জ্ঞান দেবার মালিক।”
৫) স্বামী বিজ্ঞানানন্দ–কৃপাময়ী মায়ের শরণ নিলেই সব হয়ে যায়, তিনি দয়া করেন সহজেই। মাকে ডাকবে। তাহলেই সব হয়ে যাবে। ঠাকুর  কিন্তু বড় দুষ্টু । একেবারে ঠিক ঠিক না হলে তাঁর কৃপা হয় না। মা-বড় ভাল। মা-তো রক্ষা করছেনই, ডাক আর নাই ডাক। তবে ডাকলে আরো আনন্দে বিভোর হবে।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started