শ্রীশ্রীঠাকুরের যীশুখ্রীস্টের দর্শন লাভ

|| Merry Christmas ||

→শ্রীশ্রীঠাকুরের যীশুখ্রীস্টের দর্শন লাভ :

ঠাকুর দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির কাছেই যদুনাথ মল্লবকের বাগান বাড়ি বেড়াতে যেতেন মাঝেমধ্যে। ঐ বাগান বাড়ির বৈঠকখানার দেয়ালে কয়েক সুন্দর তৈলচিত্র টাঙানো ছিল। তারমধ্যে একটি চিত্র ছিল মাদারমেরীর ক্রোড়ে ছোট্ট যীশুর। একদিন তিনি ঐ ছবিটি দেখছেন অার যীশুর অদ্ভুত জীবনের কথা ভাবছেন। ভাবতে ভাবতে তিনি বিভোর হয়ে পড়লেন। সেই সময় ছবিটি হয়ে উঠল জীবন্ত এবং জ্যোতির্ময়। মাদার মেরী ও যীশুর শরীর থেকে অাগত সকল জ্যোতিপুঞ্জ তাঁকে (ঠাকুরকে) অামূল পরিবর্তনগামী করে তুলল। এইভাবে তিনি হিন্দু সংস্কারসহূমকে অন্তরের নিভৃত কোণে ঠেলে দিয়ে সেইখানে প্রবল বেগে ভিন্ন সংস্কার সকল উদয় হচ্ছে দেখে, ঠাকুর নিজেকে সামলাতে না পেরে জগন্মাতাকে কাতরভাবে বলতে লাগলেন, “মা, অামাকে এ কি করছিস?” কিন্তু প্রার্থনাতে কিছুই হল না, তিনি নতুন সংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন এবং সম্পূর্ণভাবে নিজের জন্মগত ধর্মকে ভুলে গেলেন।

Merry Christmas
Merry Christmas
এমনি কি তিনি দক্ষিণেশ্বরে দিন তিনেক মা-কালীর মন্দির যাওয়ার কথা একেবারে ভুলেই গেলেন। এইভাবের তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় ঠাকুর যখন পঞ্চবটীতে বেড়াচ্ছেন তখন এক অসাধারণ পুরুষকে তাঁর দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে অাসতে দেখলেন। ঠাকুর তো দেখেই বুঝতে পারলেন উনি বিদেশী ও বিজাতি-সম্ভূত। উনার দু’টি চোখ ছিল বিস্তৃত, বর্ণ সুগৌর, মুখমণ্ডল সৌম্য ও অপূর্ব দেবভাবমণ্ডিত। নাখটা ‘একটু চাপা’ হলেও তাতে তাঁর মুখের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ হয়নি। ইনাকে দেখে ঠাকুর মুগ্ধ হয়ে ও বিস্মিত হয়ে ভাবতে লাগলেন যে – কে ইনি? দেখতে দেখতে ঐ সুপুরষ ঠাকুরের কাছে অাসতেই ঠাকুরের পূত হৃদয়ের অন্তস্তল হতে ধ্বনিত হল – “ইনি খ্রীস্ট, যিনি মানবকুলের উদ্ধারের নিমিত্ত হৃদয়ের রক্ত দান করিয়াছিলেন ও অশেষ নির্যাতন সহ্য করিয়াছিলেন, সেই ঈশ্বরাভিন্ন পরমযোগী ও প্রেমিক যীশুখ্রীস্ট !” নিমেষের মধ্যে ঐ দেবমানব ঠাকুরকে অালিঙ্গণ করে তাঁর শরীরে লীন হলেন এবং তখন ঠাকুরের মন সমাধিস্থ হয়ে সগুণ বিরাট ব্রহ্মের সাথে কিছুক্ষণ ধরে একীভূত হয়ে রইলেন। এইভাবে যীশুর দর্শন লাভ করে ঠাকুর তাঁর অবতারত্বে নিঃসন্দেহ হলেন।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started