স্বামীজীর পত্রাবলী

স্বামীজীর পত্রাবলী     :  -**”নমঃ শ্রীযতিরাজায় বিবেকানন্দ সুরয়ে।*    *সচ্চিৎসুখস্বরূপায় স্বামিনে তাপহারিণে।।”*    ।।ঔঁ।।(মিস মেরী হেলকে লিখিত)২৩শে এপ্রিল, ১৯০০প্রিয় মেরী,   আজই আমার যাত্রা করা উচিত ছিল, কিন্তু ঘটনাচক্রে যাত্রার পূর্বে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল রেড-উড বৃক্ষরাজির নিচে তাঁবুতে বাস করার লোভ আমি সংবরণ করতে পারলাম না।   তাই তিন-চার দিনের জন্য যাত্রা স্থগিত রাখলাম। তাছাড়া অবিরাম কাজের পরে এবং চার দিনের হাড়ভাঙ্গা ভ্রমণে বেরোবার আগে ঈশ্বরের মুক্ত বায়ুতে শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন আমার ছিল।   ‘মেরী-পিসী’র সঙ্গে পনের দিনের মধ্যে দেখা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা রাখবার জন্য তাগিদ দিয়ে মার্গট চিঠি লিখেছে।   কথা আমি রাখব, তবে পনের দিনের জায়গায় বিশ দিন হবে, এই যা। এতে চিকাগোয় এখন যে বিশ্রী তুষার-ঝড় চলছে, তার হাত এড়াতে পারব, অধিকন্তু কিছু শক্তিসঞ্চয়ও করে নেবো।   মার্গট দেখা যাচ্ছে মেরী-পিসীর দারুণ অনুরাগী।   আগামীকাল বনের দিকে যাত্রা করছি। উফ! চিকাগো যাবার আগে ফুসফুস ওজোন (Ozone)-এ ভরে নেবো। ইতোমধ্যে চিকাগোয় আমার নামে ডাক এলে রেখে দিও, লক্ষ্মী-মেয়েটির মতো সেগুলি যেন আবার এখানে পাঠিয়ে দিও না।   কাজ শেষ করে ফেলেছি। রেলভ্রমণের ধকলের আগে শুধু কয়েকদিনের – তিন কি চার দিনের – বিশ্রামের জন্য বন্ধুরা পীড়াপীড়ি করছেন।   এখন থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত তিন মাস মেয়াদের একটি ফ্রী পাস (Free pass) পেয়েছি; ঘুমের কামরার খরচা ছাড়া আর কিছু খরচা নেই; অতএব, বুঝতেই পারছ – মুক্ত, মুক্ত (Free, free)!             তোমাদের স্নেহশীল, বিবেকানন্দ।………..কাজ করাটা ধর্ম নয় বটে, তবে ঠিক ঠিক ভাবে অনুষ্ঠিত কাজ মুক্তির দিকে নিয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে অপরকে করুণার চক্ষে দেখা অজ্ঞানমাত্র, কারণ আমরা করুণা করব কাকে?
তুমি ঈশ্বরকে করুণার চক্ষে দেখতে পার কি?
ঈশ্বর ছাড়া আর কিছু আছে কি?
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দাও যে, তিনি তোমাকে তোমার আত্মোন্নতির জন্য এই জগৎরূপ একটি নৈতিক ব্যায়ামশালা দিয়েছেন, কিন্তু কখনও ভেবো না—তুমি এই জগৎকে সাহায্য করতে পার।
তোমায় যদি কেউ অভিশাপ দেয়, তার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, কারণ গালাগালি বা অভিশাপ জিনিষটা কি, তা দেখবার জন্য সে যেন তোমার সম্মুখে একখানি আরশি ধরেছে, আর তোমাকে আত্মসংযম অভ্যাস করবার অবসর দিচ্ছে।সুতরাং তাকে আশীর্বাদ কর ও সুখী হও।
অভ্যাস করবার অবকাশ না হলে শক্তির বিকাশ হতে পারে না, আর আরশি সামনে না ধরলে আমরা নিজের মুখ নিজে দেখতে পাই না।…….অপবিত্র চিন্তা ও কল্পনা অপবিত্র ক্রিয়ার মতই দোষাবহ। কামনা দমন করলে তা থেকে উচ্চতম ফললাভ হয়।
কাম-শক্তিকে আধ্যাত্মিক শক্তিতে পরিণত কর, কিন্তু নিজেকে পুরুষত্বহীন কর না, কারণ তাতে কেবল শক্তির অপচয় হয়।
এই শক্তি যত প্রবল থাকবে, এর দ্বারা তত অধিক কাজ সম্পন্ন হতে পারবে। প্রবল জলের স্রোত পেলে তবেই জলশক্তির সাহায্যে খনির কাজ করা যেতে পারে।……স্বামীজী

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started