|| শিখা ধারণের প্রয়োজনীয়তা ||
((1st. Part.))
(স্বামী রামসুখদাসজী।)
![]() |
| স্বামী রামসুখদাসজী |
হিন্দুধর্ম খুবই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এর সামান্যতম এবং উচ্চতম বিষয়গুলিও ধর্মের সঙ্গে সম্বন্ধিত এবং ধর্মের সম্বন্ধ হলো কল্যাণকারী কর্মের সঙ্গে। হিন্দুধর্মে যেসব নিয়ম বলা হয়েছে সেই সবগুলিই মানুষের কল্যাণের সঙ্গে সংযুক্ত।
✔কোনটির হয়তো পরম্পরাগত সম্বন্ধ আবার
✔কোনটির সোজাসুজি সম্পর্ক আছে।
✔✔হিন্দুধর্মে বিদ্যাভ্যাসের সম্বন্ধও কল্যাণের সঙ্গে জড়িত।
____সংস্কৃত__ব্যাকরণও__একটি__দর্শনশাস্ত্র, ____ এর ফলস্বরূপ পরমাত্মাকে লাভ করা যায়।
_____ এজন্য হিন্দুধর্মের যে কোনো নিয়মকে না মানা হলো :- “””নিজের কল্যাণকে পরিত্যাগ করা।”””
যেমনঃ- ঘড়িতে ছোট-বড় অনেক যন্ত্রাংশ থাকে। তাতে বড় যন্ত্রাংশের যতটা গুরুত্ব ছোট যন্ত্রাংশেরও ততটা গুরুত্ব। বড় যন্ত্রাংশ তার নিজের জায়গায় সম্পূর্ণ এবং ছোট যন্ত্রাংশও তার নিজের জায়গায় সম্পূর্ণ।
ক্ষুদ্রতম যন্ত্রাংশকেও যদি বার করে দেওয়া হয়, ___ তাহলে ঘড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। ~~~~~~ এই রকম হিন্দুধর্মেরও ‘সামান্য কথা’ তাদের নিজ নিজ জায়গায় সম্পূর্ণ এবং মানুষের কল্যাণের সহায়ক।
ক্ষুদ্রতম যন্ত্রাংশকেও যদি বার করে দেওয়া হয়, ___ তাহলে ঘড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। ~~~~~~ এই রকম হিন্দুধর্মেরও ‘সামান্য কথা’ তাদের নিজ নিজ জায়গায় সম্পূর্ণ এবং মানুষের কল্যাণের সহায়ক।
✔✔✔✔সামান্য শিখাও নিজের জায়গায় সম্পূর্ণ এবং কল্যাণের সহায়ক।
❌❌❌❌শিখা ফেলে দেওয়ার অর্থ ___ নিজেদের কল্যাণকে ত্যাগ করা।
যেমন ঘড়ির ছোট যন্ত্রাংশের জায়গায় বড় যন্ত্রাংশ কোনই কাজ করতে পারে না, তেমনই আমরা যে কোনো কাজই করি তাতে যদি সামান্যতম ন্যূনতাও থাকে তাহলে তাঁর দ্বারা কর্ম সিদ্ধ হয় না।
¤ ¤ ¤ মহারাজ নলের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, “কলিযুগ অনেকদিন ধরে তাঁর শরীরে প্রবেশ করবার চেষ্টা করছিল। কিন্তু প্রবেশ করতে পারে নি। — একদিন নলরাজা প্রস্রাব করে হাত তো ধুয়ে নিয়েছিলেন কিন্তু পা ধোননি। সেদিনই কলিযুগ তাঁর ভিতরে প্রবেশ করেছিল, ___ তার ফলে মহারাজা এবং তাঁর স্ত্রী দময়ন্তীকে খুবই কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল।”‘
সুতরাং ____ শিখা ধারণ না করা খুব বড় ত্রুটি। এর কোন পরিপূরক নেই। শিখা অর্থাৎ টিকি হিন্দুদের প্রধান চিহ্ন। হিন্দুধর্মে শিখা ধারণের পরম্পরা প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। কিন্তু এখন আপনারা এটি ত্যাগ করেছেন, ___ এটা খুবই ক্ষতিকারক। চিন্তা করে দেখুন ~ শিখা ধারণ না করার জন্য অথবা তা কেটে ফেলার জন্য ___ ●কেউ প্রচার করেননি।
●কেউ আপনাদের বলেননি বা আদেশ করেননি।
●কেউ আপনাদের বলেননি বা আদেশ করেননি।
তাহলেও আপনারা শিখা কেটে ফেলেছেন ! ! !
তাতে যেন আপনারা কলিযুগের অনুগামী হয়ে গেলেন ! ! !
তাতে যেন আপনারা কলিযুগের অনুগামী হয়ে গেলেন ! ! !
____________ এটি হলো কলিযুগের প্রভাব।
কেননা
তা সবাইকে নরকে নিয়ে যায়।
শিখা কেটে ফেললে নরকে যাওয়া সহজ হয়ে যায়।
শিখা কেটে ফেললে নরকে যাওয়া সহজ হয়ে যায়।
________ এজন্য আপনাদের কাছে অনুরোধ যে : “শিখাকে মামুলি মনে করে তাকে উপেক্ষা করবেন না”।
শিখা ধারণ করাকে সাধারণ ব্যাপার বলে মনে হয়,
কিন্তু
তা সাধারণ নয়। আগুনের একটি নাম ______ #___শিখী। শিখী তাকে বলা হয় যার শিখা আছে ____ শিখা যস্যাস্তীতি স শিখী। সেই ধূম্রশিখাবিশিষ্ট অগ্নী হলেন আমাদের ইষ্টদেব ____ অগ্নির্দেবো দ্বিজাতীনাম্। অতএব শিখা আমাদের ইষ্টদেব(অগ্নিদেব)- এর প্রতীক।
|| শিখা ধারণের প্রয়োজনীয়তা ||
((2nd. Part.))
শ্রীমৎ স্বামী রামসুখদাসজী
হরিবংশপুরাণে উল্লেখিত আছে যে হৈহয় এবং তালজংঘ-বংশের রাজারা শক, যবন, কম্বোজ, পারদ প্রভৃতি রাজাদের সঙ্গে নিয়ে রাজা বাহুর রাজ্য কেড়ে নেয়।
রাজা বাহু নিজের স্ত্রীকে নিয়ে বনে চলে যায়। সেখানে রাজা বাহুর মৃত্যু হয়।
তখন মহর্ষি ঔর্ব রাজার গর্ভবতী স্ত্রীকে রক্ষা করেন এবং তাকে নিজের আশ্রমে নিয়ে আসেন।সেখানে সে একটি পুত্রের জন্ম দেয়। সেই পুত্র পরে “রাজা সাগর” নামে প্রসিদ্ধ হন।
রাজা বাহু নিজের স্ত্রীকে নিয়ে বনে চলে যায়। সেখানে রাজা বাহুর মৃত্যু হয়।
তখন মহর্ষি ঔর্ব রাজার গর্ভবতী স্ত্রীকে রক্ষা করেন এবং তাকে নিজের আশ্রমে নিয়ে আসেন।সেখানে সে একটি পুত্রের জন্ম দেয়। সেই পুত্র পরে “রাজা সাগর” নামে প্রসিদ্ধ হন।
রাজা সাগর মহর্ষি ঔর্বের কাছ থেকে শস্ত্র এবং শাস্ত্র বিদ্যা অর্জন করেন।
পরে রাজা সাগর হৈহয়কে মেরে ফেলেন।
তারপর শক, যবন, কম্বোজ, পারদ প্রমূখ মারবেন স্থির করেন।
তারপর শক, যবন, কম্বোজ, পারদ প্রমূখ মারবেন স্থির করেন।
সেই শক, যবন প্রমূখ রাজারা বশিষ্ঠ মুনির শরণাগত হয়।বশিষ্ঠ কয়েকটি শর্তে তাদের অভয় দেন এবং তিনি রাজা সাগরকে আদেশ দেন তিনি যেন তাদের না মারেন। রাজা সাগর তার প্রতিশ্রুতিও ভঙ্গ করতে পারছিলেন না আবার বশিষ্ঠের আদেশও ফেলতে পারছিলেন না। তাতে তিনি ঐ রাজাদের মাথা শিখাসহ ন্যাড়া করে ছেড়ে দেন। সেই রাজারা ছিল ক্ষত্রিয়। কিন্তু শিখা কেটে দেওয়ায় তারা ধর্মচ্যুত হয়ে যায় ______
“শকাঃ যবনকাম্বোজাঃ পারদাশ্চ বিশাম্পতে।
কোলিসর্পাঃ সমাহিষা দার্দ্যাশ্চোলাঃ সকেরলাঃ।।
সর্বে তে ক্ষত্রিয়াস্তাত ধর্মস্তেষাং নিরাকৃতঃ।
বসিষ্ঠবচনাদ্ রাজনা সগরেণ মহাত্মানা।।
[[হরিবংশপুরাণ, 14|18-19]]
কোলিসর্পাঃ সমাহিষা দার্দ্যাশ্চোলাঃ সকেরলাঃ।।
সর্বে তে ক্ষত্রিয়াস্তাত ধর্মস্তেষাং নিরাকৃতঃ।
বসিষ্ঠবচনাদ্ রাজনা সগরেণ মহাত্মানা।।
[[হরিবংশপুরাণ, 14|18-19]]
____ শক, যবন, কম্বোজ, পারদ, কোলিসর্প, মহিষ, দর্দ, চোল এবং কেরল — এরা সব ক্ষত্রিয় ছিল। বশিষ্ঠের কথায় মহাত্মা সাগর এদের ধর্ম নষ্ট করে দিয়েছিলেন। এই কথা থেকে এইটিই প্রমাণিত হয় যে ‘শিখা কেটে ফেললে মানুষ মৃত মানুষের মতো হয়ে যায় এবং তার ধর্মও নষ্ট হয়ে যায়’। প্রাচীনকালে শিখা কেটে দেওয়াকে মৃত্যুদন্ডের মতো বলে মনে করা হোত।
✔✔ধর্মের সঙ্গে শিখার অটুট সম্পর্ক আছে। এজন্য শিখা কেটে ফেললে মানুষ ধর্মচ্যুত হয়ে যায়। খুবই দুঃখের কথা যে আজকাল হিন্দুরা ‘মুসলমান ও খ্রীষ্টানদের প্রভাবে নিজেরা শিখা কেটে ফেলছেন’। ‘নিজেরাই নিজেদের ধর্মকে বিনাশ করছেন’। #______এ_হলো_আমাদের_দাসত্বের_পরিচয়।
ভগবান গীতায় বলেছেনঃ-
যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎসৃজ্য বর্ততে কামকারতঃ।
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্।।
তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবস্থিতৌ।
জ্ঞাতা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি।।
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্।।
তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবস্থিতৌ।
জ্ঞাতা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি।।
______ যে মানুষ শাস্ত্রের বিধান ত্যাগ করে নিজের ইচ্ছায় খুশীমতো আচরণ করে, সে সিদ্ধি(অন্তঃকরণ শুদ্ধি) পায় না, সুখ(শান্তি) এবং পরমগতি লাভ করে না।
অতএব আপনার কাছে কর্তব্য-অকর্তব্য বিবেচনায় শাস্ত্রই হলো প্রমাণ —– এই কথা জেনে আপনি এই পৃথিবীতে শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী কর্তব্য-কর্ম করার যোগ্য, অর্থাৎ আপনার কর্তব্য হলো শাস্ত্রের বিধান অনুসারে কাজ করা। শিখা রাখা হলো শাস্ত্রের বিধান।
●সুখ পাই বা দুঃখই পাই _____ আমাদের শাস্ত্রের বিধান অনুসারে চলতে হবে।
ভগবান যা বলেন, সন্ত-মহাপুরুষেরা যা বলেন,শাস্ত্র যা বলেন, __ সেই অনুসারে চলাতেই আমাদের #____বাস্তবিক_কল্যাণ।
#_______ভগবান____এবং____ভক্ত ~~~ উভয়েই নিঃস্বার্থভাবে সকলের হিতসাধন করেন।
হেতু রহাত জগ জুগ উপকারী।
তুম্হ তুম্হার সেবক অসুরারী।।
[[শ্রীরামচরিতমানস, উত্তরকান্ড, 47|3.]]
তুম্হ তুম্হার সেবক অসুরারী।।
[[শ্রীরামচরিতমানস, উত্তরকান্ড, 47|3.]]
তাই এঁদের আদেশানুসারে যারা চলেন তাঁরা ইহলোকে এবং পরলোকে সুখ লাভ করেন।
একটি গল্প আছে।
একজন যাযাবর ছিল।
সে কতকগুলি বলদের উপর মুলতানী মাটি চাপিয়ে দিল্লী যাচ্ছিল।
সে কতকগুলি বলদের উপর মুলতানী মাটি চাপিয়ে দিল্লী যাচ্ছিল।
পথে অনেকগুলি গ্রাম পার হওয়ার সময় তার অনেক মুলতানী মাটি বিক্রি হয়ে গেল, বলদগুলির উপর চাপান বস্তাগুলি অর্ধেক খালি হয়ে গেল, অর্ধেক থাকল ভর্ত্তি।
অতএব সেগুলি তখন বলদের পীঠে কি করে থাকবে?
কেননা ভার একদিকে হয়ে গেছে।
চাকররা কী করবে জিজ্ঞাসা করল।
বিক্রেতা বলল —– ভাবছ কেন? বস্তার এক দিকে মরুভূমির বালি ভর্তি করে দাও, এটি হলো রাজস্থান। বালি প্রচুর রয়েছে। চাকরেরা সেইরকম করল। বলদগুলির পিঠে চাপান একদিকের বস্তাগুলিতে মূলতানী মাটি এবং অন্য দিকের বস্তাগুলিতে রাজস্থানের মরুভূমির বালি ভরে সমান করে দিল দিল্লী থেকে একজন সহূদয় ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিল।সে একদিকের বস্তিগুলি থেকে বালি ঝরতে দেখে জিজ্ঞাসা করল একদিকের বস্তাগুলিতে বালি কেন ভরা হয়েছে। চাকররা বলল —- ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। লোকটি বলল —- “আরে তোমাদের কেমন বুদ্ধি! তোমাদের মালিক এবং তোমরি তো প্রায় একই রকমের। বলদগুলির উপর মিছিমিছি বোঝা চাপিয়ে সেগুলিকে মারছ।
মুলতানী মাটি অর্ধেক অর্ধেক করে যদি একটি জায়গাতে বেঁধে দাও তাহলে বলদের পিঠে তো ভার অর্ধেক হয়ে যায়।
চাকরটি বলল : আপনার কথা ঠিক। কিন্তু মানিব যা বলেছেন আমরা তাই করব। আপনি মালিককে গিয়ে একথি বলুন এবং তার কাছ থেকে আদেশ নিয়ে আসুন। লোকটি মনিবের কাছে গিয়ে এই কথা বলল। বিক্রেতা জিজ্ঞাসা করল —- আপনি কোথাকার লোক, কোথায় যাচ্ছেন? লোকটি বলল — আমি হরিয়ানায় থাকি। অর্থ উপার্জনের জন্য দিল্লী গেছিলাম।সেখানে কয়েকদিন থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়ি। যা অল্পসল্প রোজগার করেছিলাম তা খরচ হয়ে গিয়েছে।
ব্যবসাতে লোকসান হয়েছে। কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তখন মনে হল ঘরে চলে যাই। তাই ঘরে যাচ্ছি।
ব্যবসাতে লোকসান হয়েছে। কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তখন মনে হল ঘরে চলে যাই। তাই ঘরে যাচ্ছি।
______ তার কথা শুনে বিক্রেতা তার চাকরদের বলল : “এর কথা শুনো না। যেমন চলছিলে তেমন চলতে থাক,
এর বুদ্ধি আপাতভাবে ভাল মনে হচ্ছে, কিন্তু তার পরিণাম ভাল নয়।
এর বুদ্ধি আপাতভাবে ভাল মনে হচ্ছে, কিন্তু তার পরিণাম ভাল নয়।
যদি ঠিক হতো তাহলে এ অর্থবিন হতো।
✔আমাদের বুদ্ধি যদি ভাল নাও হয় তবু পরিণাম ভালই হবে আমার কাজে কখনও লোকসান হয়নি।।
বিক্রেতা বলদগুলি নিয়ে দিল্লী পৌঁছাল।
সেখানে সে জমি কিনে মুলতানী মাটি ও বালি আলাদা আলাদা ভাবে জমা করল।
সেখানে সে জমি কিনে মুলতানী মাটি ও বালি আলাদা আলাদা ভাবে জমা করল।
সে চাকরকে বলল : বলদগুলিকে জঙ্গলে নিয়ে যাও আর যেখানে ঘাস-জল পাবে সেখানে সেগুলিকে রাখ। এখানে যদি ওগুলিকে খেতে দাও তাহলে লাভ কোথা হবে?
মুলতানি মাটি বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছিল।
—- ওদিকে দিল্লীর বাদশা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
বৈদ্যরা বললেন যে যদি রাজস্থানের বালির উপর থাকেন তাহলে সুস্থ হয়ে যাবেন। বালিতে মানুষকে নিরোগ করবার শক্তি আছেন।
অতএব বাদশাকে রাজস্থানে পাঠাও।
—- “রাজস্থানে কেন পাঠাবে। সেখানকার বালি নিয়ে এসো”।
—- “ঠিক আছে। এখানে আনিয়ে নাও। তারজন্য উট পাঠাও।”
—- “উট পাঠাবার দরকার কী? এখানেই বাজারে বালি পাওয়া যাবে।”
—- “বাজারে কী করে পাওয়া যাবে?”
—- “আরে দিল্লীর বাজার! এখানে সবকিছু পাওয়া যায়। আমি এক জায়গায় বালির স্তূপ দেখেছি।”
—- “তাহলে তাড়াতাড়ি আনাও।”
বাদশার লোকেরা বিক্রেতার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল — “বালির কত দর?”
সে বলল —- “মুলতানী মাটি কেনো বা বালি কেনো, একই দাম, দুটিই একই ওজনে বলদের পিঠে চাপিয়ে আনা হয়েছে।”
বাদশার লোকেরা সমস্ত বালি কিনে নিল।
বিক্রেতা যদি দিল্লী প্রত্যাগত লোকটির কথা শুনত, তাহলে সে মুফতে অর্থ কেমন করে পেত?
✔✔✔✔তাতে প্রমাণ হলো যে “বিক্রেতার বুদ্ধি ঠিক কাজ করেছিব।”
এই গল্প থেকে এই শিক্ষা নেওয়া উচিত যেঃ-
➕যারা নিজেদের উন্নতি করেছে,
➕যাদের বিবেক বিকশিত,
➕যারা তত্ত্ব লাভ করেছে _____ এইরকম সাধু-সন্তদের কথা মেনে নিতে হয়।
➕যাদের বিবেক বিকশিত,
➕যারা তত্ত্ব লাভ করেছে _____ এইরকম সাধু-সন্তদের কথা মেনে নিতে হয়।
কেননা
✔তাঁদের বুদ্ধির ফল ভালো।
✔তাঁদের বুদ্ধির ফল ভালো।
●নিজেদের বুদ্ধিতে আমরা কতটা উন্নতি করেছি?
●আমরা কি তত্ত্বলাভ করতে পেরেছি?
●আমরা কি তত্ত্বলাভ করতে পেরেছি?
_____ এজন্য ♡ভগবান, ♡শাস্ত্র এবং ♡সন্তদের কথা শুনে চলা উচিত।
তাঁদের কথা যদি বোঝা না যায় তাহলেও “””মেনে নিতে হবে।”””
●আমরা অদ্যাবধি নিজেদের বুদ্ধি অনুসারে যেসব কাজ করেছি __ তাতে কতটা লাভ হয়েছে???
যেমন, কেউ যদি ব্যবসায়ে অনেক অর্থোপার্জন করে থাকে তাহলে তার কথামতো কাজ করলে আমাদেরও লাভ হবে।
তার যদি লাভ হয়, তাহলে আমাদেরও লাভ হবে না কেন?
তার যদি লাভ হয়, তাহলে আমাদেরও লাভ হবে না কেন?
তেমনিই যে সব সাধু-সন্তদের পরমাত্মপ্রাপ্তি হয়েছে, যাঁরা অশান্তি, দুঃখ, সন্তাপ প্রভৃতি দূর করেছেন, তাঁদের কথা শুনলে আমাদেরও লাভ হবে।
আমি যখন শিখা ধারণ করবার কথা বলছি
তখন তা অকল্যাণ করবার জন্য বলছি না, আপনাদের দুঃখ হোক, ক্ষতি হোক, সন্তাপ হোক—আমার মোটেই এরকম উদ্দেশ্য নয়।
✔✔আমি আপনাদের কল্যাণের কথাই বলছি।
✔✔আপনাদের যাতে ইহলোক, পরলোক —- দুটোই ভাল হয় তার কথাই আমি বলি।
✔✔আমি সেই কথাই বলি যা বহু যুগ ধরে আপনাদের বংশ পরম্পরায় চলে আসছে।
✔✔আপনাদের যাতে ইহলোক, পরলোক —- দুটোই ভাল হয় তার কথাই আমি বলি।
✔✔আমি সেই কথাই বলি যা বহু যুগ ধরে আপনাদের বংশ পরম্পরায় চলে আসছে।
◆শিখা ধারণ করলে আপনাদের ক্ষতি কি?
◆তাতে আপনাদের কি দোষ হয়?
◆কতটা পাপ হয়?
◆আপনাদের জীবনে কি বাধা আসে?
◆শিখা ধারণের যে পরম্পরা চিরকাল ধরে চলে আসছে কার কথায় সেটি আপনারা ত্যাগ করেছেন?
◆কোন্ সাধুর কথায়, কোন্ পুরাণের কথায়,কোন্ শাস্ত্রের আদেশে, কোনা বেদের নির্দেশে আপনারা শিখা ধারণ ছেড়ে দিয়েছেন
◆তাতে আপনাদের কি দোষ হয়?
◆কতটা পাপ হয়?
◆আপনাদের জীবনে কি বাধা আসে?
◆শিখা ধারণের যে পরম্পরা চিরকাল ধরে চলে আসছে কার কথায় সেটি আপনারা ত্যাগ করেছেন?
◆কোন্ সাধুর কথায়, কোন্ পুরাণের কথায়,কোন্ শাস্ত্রের আদেশে, কোনা বেদের নির্দেশে আপনারা শিখা ধারণ ছেড়ে দিয়েছেন
..
|| শিখা ধারণের প্রয়োজনীয়তা ||
((3rd. Part.))
শ্রীমৎ স্বামী রামসুখদাসজী।
শিখা রাখা খুবই সহজ কাজ।
কিন্তু আপনাদের কঠিন মনে হচ্ছে।
কেননা আপনারা সেটিকে ত্যাগ করেছেন।
এ জিনিস আপনাদের পূর্বপুরুষ থেকে চলে আসছে।
✔✔✔✔আপনাদের পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ সবাই শিখা ধারণ করতেন। আপনারা সেটিকে ত্যাগ করেছেন।
সেজন্য শিখা ধারণ করা আপনাদের কঠিন মনে হচ্ছে।
ভেবে দেখুন যে, শিখা ত্যাগ করে আপনাদের কতটা লাভ হয়েছে?
আর
এখন শিখা রাখলে কি ক্ষতি হবে?
■শিখা রাখলে কি আপনাদের অর্থের ক্ষতি হয়, ধর্মের ক্ষতি হয়, স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, আপনারা দুঃখে পতিত হন ? ? ?
#____যদি_হন_তো_বলুন?
■শিখা না রাখলে কোনো লাভ তো হয়ই না,
বরং
■ #___খুবই______ক্ষতি____হয়।
■শিখা না থাকলে আপনার দেবপূজা, শ্রাদ্ধ-তর্পণ বিফল হয়ে যায়।
■আপনাদের দান-পুণ্য প্রভৃতি সকল শুভ কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়।
#_________এজন্য_শিখাকে_মামুলি_মনে_করে_একে___উপেক্ষা_করবেন_না।
আগে সব লোকই শিখা রাখতেন।শিখাহীন কোনো লোককে দেখাই যেত না।
কিন্তু
দেখতে দেখতে কয়েক বছরের মধ্যেই লোকেরা শিখারহিত হয়ে যাচ্ছে।
এখন অধিকাংশ লোকেরই শিখা নেই।
এখন অধিকাংশ লোকেরই শিখা নেই।
✔✔শিখা এবং উপবীতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।
আশ্চর্যের কথা যেঃ-
আজকাল এমন লোকও আছে যাদের পৈতে আছে কিন্তু শিখা নেই।
আজকাল এমন লোকও আছে যাদের পৈতে আছে কিন্তু শিখা নেই।
______ এটি কত বড় পতনের কথা ! ! !
যদি এমন দশাই থাকে তাহলে পরে শিখা ধারণের কথা কে বলবে ?
আর কেন ই বা বলবে ?
বলে লাভ কী ?
আর কেন ই বা বলবে ?
বলে লাভ কী ?
“শিখা হলো হিন্দুত্বের পরিচয়। এটি আপনাদের জাতিকে রক্ষা করে।
উপবীত তো সকলের জন্য নয়, কেবল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যের জন্য।
কিন্তু
শিখা হিন্দুমাত্রেরই।
দ্বিজ হোক, অন্তজ হোক, শিখা সকলের জন্য।
মুসলমানদের জন্য যেমন সুন্নত, সেইরকম হিন্দুদের জন্য শিখা।
সুন্নত হয় নি, এমন কোনো মুসলমান পাওয়া যাবে না ;
সুন্নত হয় নি, এমন কোনো মুসলমান পাওয়া যাবে না ;
কিন্তু
শিখাহীন হিন্দু আজকাল অনেক পাওয়া যাবে।
●মুসলমান এবং খ্রীষ্টানরা খুব জোরের সঙ্গে তাদের ধর্ম প্রচার করে
এবং
●হিন্দুদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত করে।
☆আপনারা নিজেদের শিখা কেটে ফেলে তাদের প্রচার কাজে সহায়তা করেন।
_____ তাই সময় থাকতে হিন্দুদের সাবধান হতে হবে।
●মুসলমানরা তাদের ধর্মের প্রচার নির্বুদ্ধিতার সঙ্গে করে
আর
●খ্রীষ্টানরা করে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে।
মুসলমানরা তো তলোয়ারের শক্তিতে বলপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন করায়
কিন্তু
খ্রীষ্টানরা বাহ্যত সেবা করে ভিতরে ভিতরে (গোপনে) ধর্ম পরিবর্তন করে।
◆তারা বিদ্যালয় স্থাপন করে
এবং
◆সেখানে ছেলেদের উপর নিজেদের সংস্কার চাপিয়ে দেয়।
◆তারা বিদ্যালয় স্থাপন করে
এবং
◆সেখানে ছেলেদের উপর নিজেদের সংস্কার চাপিয়ে দেয়।
তারই পরিণামে হিন্দুরা ঘরে বসেই শিখা ত্যাগ করেছে।
এই কাজে খ্রীষ্টানরা সফল হয়েছে।
এই কাজে খ্রীষ্টানরা সফল হয়েছে।
◆◆◆মুসলমান এবং খ্রীষ্টানদের উদ্দেশ্য মনুষ্যমাত্রের #কল্যাণ_করা__নয়।
তা হল :- #নিজেদের_সংখ্যাবৃদ্ধি_করা।
____ তাহলে তাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
কলিযুগের প্রভাব প্রতি বৎসর, প্রতি মাস এবং প্রতিদিন দ্রুততার সঙ্গে বর্ধিত হচ্ছে।
লোকেদের বুদ্ধি ভ্রষ্ট হচ্ছে।
লোকেদের বুদ্ধি ভ্রষ্ট হচ্ছে।
যে হিন্দু-সংস্কৃতি সকল মানুষের কল্যাণ চায় তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
হিন্দুরা যদি নিজেরাই তাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করে তাহলে তাকে কে রক্ষা করবে?
ক্রমশ____
জয় মা ……
জয় মা ……
|| শিখা ধারণের প্রয়োজনীয়তা ||
(( 4th & ending Part.))
শ্রীমৎ স্বামী রামসুখদাসজী।
((প্রশ্নোত্তর))
প্রশ্নঃ- #____শিখা_ধারণে_কি_লাভ ?
উত্তরঃ- যার শুধু লাভের দিকেই দৃষ্টি থাকে তার পারমার্থিক উন্নতি হতে পারে না।
লাভের দৃষ্টিতেই যদি কোনো কাজ করেন তবে ♡শাস্ত্র বচন, ♡সন্ত-বচনের মূল্য কি থাকল??
তাঁদের সম্মান কি থাকল??
লাভের দৃষ্টিতেই যদি কোনো কাজ করেন তবে ♡শাস্ত্র বচন, ♡সন্ত-বচনের মূল্য কি থাকল??
তাঁদের সম্মান কি থাকল??
নিজেদের লাভের জন্য, নিজেদের মতলব সিদ্ধ করবার জন্য তো পশু-পাখিরাও কাজ করে। এতে মনুষ্যত্ব নেই।
শিখা রাখলে আপনাদের ভাল হবে ___ এতে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।
বাস্তবে ___ আমাদের লাভ-লোকসান না দেখে ধর্ম পালন করা উচিত।
ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে যেঃ- ***শিখা ছাড়া যজ্ঞ, দান, তপ, ব্রত প্রভৃতি যা কিছু করা হয়, সেগুলি সব নিষ্ফল হয়ে যায়***____
সদোপবীতিনা ভাব্যং সদা বদ্ধশিখেন চ।
বিশিখো ব্যুপবীতশ্চ যৎ করোতি ন তৎ কৃতম্।।
[[কাত্যায়নস্মৃতি- 1/4.]]
বিশিখো ব্যুপবীতশ্চ যৎ করোতি ন তৎ কৃতম্।।
[[কাত্যায়নস্মৃতি- 1/4.]]
শুধু তাই নয়, শিখাহীন ঐ সব পুণ্যকর্মও রাক্ষসী কর্ম হয়ে যায় ____
বিনা যচ্ছিখয়া কর্ম বিনা যজ্ঞোপবীতকম্।
রাক্ষসঃ তদ্ধি বিজ্ঞেয়ং সমস্তা নিষ্ফলা ক্রিয়াঃ।।
[[ব্যাস]]
রাক্ষসঃ তদ্ধি বিজ্ঞেয়ং সমস্তা নিষ্ফলা ক্রিয়াঃ।।
[[ব্যাস]]
এজন্য ধর্মশাস্ত্র আদেশ দিয়েছে ____
স্নানে দানে জপে হোমে সন্ধ্যায়াং দেবতার্চনে।
শিখাগ্রন্থিং সদা কুর্যাদিত্যেতন্মনুরব্রবীৎ।।
শিখাগ্রন্থিং সদা কুর্যাদিত্যেতন্মনুরব্রবীৎ।।
_____ স্নান, দান, জপ, হোম, সন্ধ্যা এবং দেবপূজার সময় শিখাতে গ্রন্থি অবশ্য দিতে হবে — এমন কথা মনু বলেছেন।
হিন্দুধর্মের ষোলটি সংস্কারের মধ্যে “চূড়াকরণ-সংস্কার”(মস্তক মুন্ডন সংস্কার)-এর বিশেষ গুরুত্ব আছে।
এই সংস্কারে শিখা ধারণ করলে দীর্ঘায়ূ, তেজ, বল এবং ঔজ্জ্বল্য প্রাপ্ত হয়:-
দীর্ঘায়ূত্বায় বলায় বর্চসে শিখায়ৈ বষট্।
শিখার বিশেষ গুরুত্বের জন্যই হিন্দুরা যবন শাসনের সময় নিজেদের শিখাকে রক্ষা করবার জন্য গলা কাটতে দিয়েছে,
কিন্তু
#____শিখা_কাটতে_দেয়নি।
কত বড় দুঃখের কথা যে এখন হিন্দুরা সেই শিখাকে নিজেরাই কেটে ফেলছে।
ধর্মশাস্ত্রে শিখা না রাখার জন্য প্রায়শ্চিত্যের কথা বলা হয়েছে :-
শিখাং ছিন্দন্তি যে মোহাদ্ দ্বেষদজ্ঞানতোহপি বা।
তপ্তকৃচ্ছ্রেন শুদ্ধ্যন্তি ত্রয়ো বর্ণা দ্বিজাতয়ঃ।।
[[লঘোহারীত।]]
তপ্তকৃচ্ছ্রেন শুদ্ধ্যন্তি ত্রয়ো বর্ণা দ্বিজাতয়ঃ।।
[[লঘোহারীত।]]
_____ তিনটি বর্ণের যে দ্বিজরা মোহ, দ্বেষ অথবা অজ্ঞতায় নিজেদের শিখা কেটে ফেলে __ তারা তপ্তকৃচ্ছ্র-ব্রত পালন করলে শুদ্ধ হয়।
অত চেৎ প্রমাদান্নিশিখং বপনং স্যাৎ তত্র কৌশীং শিখাং ব্রহ্মগ্রন্থিসমন্বিতাং দক্ষিণকর্ণোপরি আশিখাবন্ধাদবতিষ্ঠেৎ।।
[[কাঠকগৃহ্যসূত্র।]]
[[কাঠকগৃহ্যসূত্র।]]
_____ যদি কোনো মানুষ প্রমাদ বশে শিখা সহিত ক্ষৌর কর্ম করায় তাহলে সে ব্রহ্মগ্রন্থিযুক্ত কুশের শিখা তৈরি করে ডান কানে ততদিন রাখবে যতদিন না শিখা বাঁধবার মতো বড় হয়ে যায়।
●যদি সত্তর বছরের অবস্থায়(বৃদ্ধাবস্থায়) চুল পড়ে যাওয়ার কারণে শিখা রাখা না যায়, তাহলে চারপাশের অবশিষ্ট চুলে শিখা তৈরি করে নিত্যকর্ম করতে থাকবে,
●যদি একেবারেই চুল না থাকে, তাহলে কুশ প্রভৃতির দ্বারা শিখা তৈরি করে নিত্যকর্ম করবে, কিন্তু
●কখনও শিখাশূন্য থাকবে না।
::::::::::
:::::::::::::
:::::::::::::
::::::::::
:::::::::::::
:::::::::::::
*অখিল ভারতীয় পন্ডিত মহাপরিষদ্*,(বারাণসী) শিখা ধারণের ফলে নিম্নলিখিত লাভের কথা বলেছে:-
1| শিখা ধারণ করলে এবং নিয়মগুলি যথাযথ পালন করলে মানুষ ✔সদ্বুদ্ধি,✔সদ্বিচার প্রভৃতি লাভ করে।
2| শিখা রাখলে আত্মশক্তি প্রবল হয়ে যায়।
3| শিখা রাখলে মানুষ ✔ধার্মিক,✔সাত্ত্বিক, এবং ✔সংযমী হয়ে যায়।
4| শিখা রাখলে মানুষ লৌকিক এবং পারলৌকিক সমস্ত কাজে সফল হয়।
5| শিখা রাখলে মানুষ ✔প্রাণায়াম, ✔অষ্টাঙ্গযোগ প্রভৃতি যৌগিক ক্রিয়াগুলি #ঠিকঠাক করতে পারে।
6| শিখা রাখলে সকল দেবতা মানুষকে রক্ষা করে।
7| শিখা রাখলে মানুষের নেতারজ্যোতি সুরক্ষিত থাকে।
8| শিখা রাখলে মানুষ ✔সুস্থ, ✔বলিষ্ঠ, ✔তেজস্বী এবং ✔দীর্ঘায়ূ হয়।
_______________________
প্রশ্নঃ- #____শিখা_রাখতে_লজ্জা_করে, ~ তা কি করে দূর হবে?
উত্তরঃ- আশ্চর্যের কথা হলো , ব্যবসায়াদিতে ◆বেইমানী, ◆মিথ্যা, ◆কপটতা করতে লজ্জা হয় না।
◆গর্ভপাতের মতো পাপ করতে লজ্জা হয় না।
◆চুরি, বিশ্বাসঘাতকতা প্রভৃতি করবার সময় লজ্জা হয় না,
◆গর্ভপাতের মতো পাপ করতে লজ্জা হয় না।
◆চুরি, বিশ্বাসঘাতকতা প্রভৃতি করবার সময় লজ্জা হয় না,
কিন্তু ___ #___শিখা__রাখতে__লজ্জা__হয়।।
আপনাদের লজ্জা ঠিক, নাকি
ভগবানের আদেশ মান্য করা, তাঁকে প্রসন্ন করা ঠিক?!?
➕আপনারা যদি শিখা রাখেন, তাহলে প্রথম প্রথম লজ্জা হবে, পরে ঠিক হয়ে যাবে।
_______________________
প্রশ্নঃ- #____শিখা_দেখলে_লোকেরা_হাসাহাসি_করে, – তা থেকে কি করে বাঁচব?
উত্তরঃ- লোকেরা যদি হাসাহাসি করে, পাগল বলে তো #সহ্য করে নেবেন কিন্তু ধর্ম ত্যাগ করবেন না।
আপনাদের ধর্ম আপনাদের সঙ্গে যাবে, হাসি-ঠাট্টা আপনাদের সঙ্গে যাবে না।
লোকেদের হাসিকে ভয় করবেন না।
লোকেরা প্রথমে হাসাহাসি করবে,
পরে তারা আপনাদের এইজন্য সম্মান দেখাবে যে আপনারা নিজেদের ধর্মে অবিচল আছেন।
শঙ্করানন্দ নামে আমার একজন খুবই পরিচিত সহৃদয় ব্যক্তি ছিলেন।
তিনি খুব লেখা পড়া জানা লোক।
তিনি খুব লেখা পড়া জানা লোক।
তিনি আমাকে বলেছিলেন—– ***পড়াশোনা করবার জন্য আমি জার্মানীতে গিয়েছিলেন। সেখানে আমি ধুতি পরতাম। আমার বেশভূষা দেখে সেখানকার লোকেরা আমাকে নিয়ে প্রথম প্রথম হাসাহাসি করত।
পরে তারা সবাই আমাকে খুবই সম্মান করত।
বলত – এই লোকটা সত্যকার নিষ্ঠাবান।***
পরে তারা সবাই আমাকে খুবই সম্মান করত।
বলত – এই লোকটা সত্যকার নিষ্ঠাবান।***
— এজন্য নিজেদের ধর্ম পালন নির্ভয়ে করুন।
#____এতে__কিসের ভয় ?
_______________________
_______________________
একটা গল্প আছে।।।
একজন লোকের কোনো কারণে নাক কাটা গিয়েছিল।
তার এক বন্ধু জিজ্ঞেস করায় সে বলেছিল যে, দুটি চোখের মধ্যখানে যদি নাক আড়াল করছিল বলে ব্রহ্মের দর্শন হচ্ছিল না,
মাঝখানে যদি নাক না থাকে তাহলে দুটি চোখের দৃষ্টির মিলনে সাক্ষাৎ ব্রহ্ম দর্শন হয়।
মাঝখানে যদি নাক না থাকে তাহলে দুটি চোখের দৃষ্টির মিলনে সাক্ষাৎ ব্রহ্ম দর্শন হয়।
সে কথা শুনে তার বন্ধুও নিজের নাক কাটিয়ে নিয়েছিল।
তাতে যখন তার ব্রহ্ম দর্শন হলো না তখন সে ঐ লোকটিকে বলল যে, – “নাক কাটিয়েও তো তার ব্রহ্ম দর্শঁন হলো না!”
লোকটি তখন বলেছিল – “চুপ করো। চেঁচামেচি করো না। কেউ জিজ্ঞেস করলে বোলো যে তোমারও ব্রহ্মদর্শন হয়।”
ধীরে ধীরে এই কথা ছড়াতে লাগল।
অন্যের কথায়, একে অন্যকে দেখে দেখে সবাই নাক কাটিয়ে নিয়েছিল।
কিন্তু কারুরই ব্রহ্ম দর্শন হয়নি।
একটি পুরো সম্প্রদায় নাক কাটা হয়ে গেল।
তখন
তাদের কাছে যদি নাকওয়ালা লোক আসত তো তারা সকলে তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করত।
বলত : ‘নাকওয়ালা এসে গিয়েছে, নাকওয়ালা এসে গিয়েছে’।
এইরকম ই যারা শিখা কেটে ফেলেছে তারা শিখা ধারণ করা লোকেদের হাসিঠাট্টা করে।
অতএব তাদের হাসাহাসিকে পরোয়া না করে নিজেদের ধর্ম পালন করুন।
ন জাতু কামান্ন ভয়ান্ন লোভাদ্
ধর্ম ত্যজেজ্জীশিতস্যাপি হেতোঃ।
নিত্যো ধর্মঃ সুখদুঃখে ত্বনিত্যে
জীবো নিত্যো হেতুরস্য ত্বনিত্যঃ।।
ধর্ম ত্যজেজ্জীশিতস্যাপি হেতোঃ।
নিত্যো ধর্মঃ সুখদুঃখে ত্বনিত্যে
জীবো নিত্যো হেতুরস্য ত্বনিত্যঃ।।
[[মহাভারত, স্বর্গপর্ব-5|63.]]
______ ‘কামনায়, ভয়ে, লোভে অথবা প্রাণ বাঁচাবার জন্যও ধর্মকে ত্যাগ করবে না।
ধর্ম নিত্য এবং সুখ-দুঃখ অনিত্য।
অনুরূপ — জীবাত্মা নিত্য, আর বন্ধনের হেতু(অনুরাগ) অনিত্য’।
____________________●●●_____________________
