Holly Mother sri sarada devi II শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা

Holly Mother sri sarada devi

*- :      শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা      : -*

*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
শ্রীমা সকালে গৃহকর্ম সারিয়া আন্দাজ নয়টার সময় পূজায় বসিতেন; ঘরের মধ্যভাগে পূর্বমুখে ঠাকুরকে বসাইয়া পূজা করিতেন।
   তাঁহাকে স্নান করাইয়া, ফুল-চন্দন দিয়া ও ফল, মিষ্ট, মিছরির শরবত, হালুয়া প্রভৃতি নিবেদন করিয়া মা হস্তদ্বয় ক্রোড়ের উপর রাখিয়া উন্নতদেহে স্থিরভাবে বসিয়া কিছুক্ষণ ধ্যান করিতেন।
   কোন বিশেষ কার্য না থাকিলে তিনি পূজায় একটু বেশি সময় কাটাইতেন; কিন্তু কোন দিনই খুব বেশি সময় লাগিত না।
    ধ্যানকালে বোধ হইত যেন তাঁহার মন এ রাজ্যে নাই। ধ্যানের পর প্রণাম করিয়া তিনি ঠাকুরকে যথাস্থানে তুলিয়া রাখিতেন। পূজা শেষে একটু চরণামৃত, তুলসী ও বিল্বপত্র থাকিলে তাহার কণিকা মুখে দিতেন।
    জয়রামবাটীতে ফুল অনেক সময় পাওয়া যাইত না; যখন যেমন জুটিত, তাহাতেই পূজা সম্পন্ন হইত। ফুলের অভাবে শুধু তুলসীপাতা ও জল দিয়া পূজা হইত।
    তুলসী সম্বন্ধে তাঁহার একটু আগ্রহ ছিল; বলিতেন, ‘তুলসী অতি পবিত্র, তুলসী থাকিলে সব শুদ্ধ হয়।’
    পূজাকালে মা ফুল হাতে লইয়া ঠাকুরের সম্মুখে ধরিয়া পরে হাত ঘুরাইয়া ধীরে ধীরে ঠাকুরের মস্তকের উপর লইয়া গিয়া ফুলটির মুখ সামনের দিকে করিয়া ছবির উপরিভাগে স্থাপন করিতেন। দেখিলে মনে হইত, এ যেন প্রাচীন নারীগনের শুভদিনে প্রিয়জনের মস্তকে মাঙ্গলিক ধান্যদূর্বাদি প্রদানেরই অনুকল্প।
    দ্বিপ্রহরে রন্ধনগৃহে ভাত, ডাল, মাছ ও তরকারি ঠাকুরের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হইত। সন্ধ্যার পরে তিনি আবার লুচি, রুটি, তরকারি, দুধ, গুড় ইত্যাদি ঠাকুরকে ভোগ দিতেন।
   শীতল দেওয়া সম্বন্ধে তেমন কিছু নিয়ম ছিল না। বিশেষ কোন উপকরণ থাকিলে অপরাহ্ন চারিটা নাগাদ উহা নিবেদন করিতেন।”
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্‌গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started