করুণাস্বরূপিণী শ্রীশ্রীমা (১ম পর্ব )
★★★★★★★★★★★★★★
★★★★★★★★★★★★★★
শ্রীশ্রীমায়ের সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুর বলিয়াছিলেন যে, ভবিষ্যতে দেশে দেশে তাঁহার অগণিত সন্তান হইবে এবং দূর দূরান্ত হইতে শ্বেতাঙ্গ সন্তানগণও পরবর্তীকালে তাঁহার নিকট আসিবে। ঠাকুরের এই কথা সকলই সত্য হইয়াছে। ঠাকুরের। কাছে যত ভক্তজনের সমাগম হইত, তদপেক্ষা বহুগুণ বেশী ভক্ত ও দর্শনার্থী শ্রীশ্রূমায়ের নিকট আসিয়াছেন, তাঁহাকে অন্তরের অশেষ শ্রদ্ধা ও পূজা নিবেদন করিয়াছেন। শ্রীশ্রীমাও সকলকেই নির্বিচারে সন্তানভাবে গ্রহণ করিয়াছেন। তাঁহার স্বতঃ -উৎসারিত স্নেহ ও করুণার ধারা আজীবন অকুণ্ঠভাবে এবং অপ্রতিহতগতিতে প্রবাহিত হইয়াছে। জীবনের কোনপ্রকার অবস্থাবৈচিত্র্যই তাঁহার এই মাতৃধর্মের পরিবর্তন ঘটাইতে পারে নাই।
একদিন অপরাহ্ণ উত্তীর্ণ হইয়াছে, মাতৃভবনের একতলায় সিঁড়ির নিকট জনৈক সেবক অবসন্নভাবে বসিয়া আছেন, মুখখানি তাঁহার শুষ্ক। শ্রীশ্রীমা দ্বিতল হইতে তাহা লক্ষ্য করিয়া এক কন্যাকে বলিলেন, — আহা গো ! বাছার আমার বুঝি এখনো খাওয়া হয়নি। মা বাপ, ভাই বোন, সব ছেড়ে সাধু হয়েছে, কিন্তু ক্ষিদেটা তো রয়েছে।
একদিন অপরাহ্ণ উত্তীর্ণ হইয়াছে, মাতৃভবনের একতলায় সিঁড়ির নিকট জনৈক সেবক অবসন্নভাবে বসিয়া আছেন, মুখখানি তাঁহার শুষ্ক। শ্রীশ্রীমা দ্বিতল হইতে তাহা লক্ষ্য করিয়া এক কন্যাকে বলিলেন, — আহা গো ! বাছার আমার বুঝি এখনো খাওয়া হয়নি। মা বাপ, ভাই বোন, সব ছেড়ে সাধু হয়েছে, কিন্তু ক্ষিদেটা তো রয়েছে।
সিঁড়িতে নামিয়া আসিয়া মা জিজ্ঞাসা করিলেন, — তোমার মুখখানি এমন শুকনো কেন বাবা ? এখনো খাওয়া হয়নি বুঝি ?
— না মা, সকালে জলখাবার খেয়েছি।
— এখনো তা’হলে ভাত খাওয়া হয়নি ?
পাচক বা অন্য কাহারও কোন সাড়া পাওয়া গেল না। মা নিজেই রন্ধনশালা খুলিয়া কন্যাকে দিয়া পরিবেশন করাইলেন এবং নিকটে বসিয়া পরিতোষপূর্বক তাঁহাকে ভোজন করাইলেন। সন্তানের ক্ষুধাতৃষ্ণা ও শ্রান্তি দূর হইল, আর অন্তর পূর্ণ হইল অপার্থিব মাতৃস্নেহে।
( সারদা-রামকৃষ্ণ )
