SWAMI RAMASHUKHODASJEE স্বামী রামসুখদাসজী।

জয় শ্রীকৃষ্ণ ….পর্ব -১
কুলক্ষয় হলে
চিরন্তন যে কুলধর্ম তা নষ্ট হয়ে যায়
এবং
ধর্ম নাশ হলে (যারা বেঁচে থাকে)  তাদের
সমস্ত কুলকে অধর্ম গ্রাস করে ।৪০।। গীতা।
ব্যাখ্যা::::
যখন কুলক্ষয় হয়, তখন সর্বদা কুলের সঙ্গে যে ধর্ম থাকে তা নষ্ট হয়ে যায় ।
অর্থাৎ
জন্মগ্রহণের সময়, উপনয়নের সময়, বিবাহের সময়, মৃত্যুর সময় এবং মৃত্যুর পর যে সমস্ত আচার আচরণ পালন করা হয়,
যেগুলি জীবিত বা মৃত মানুষদের জন্য ইহলোকে এবং পরলোকে কল্যাণ কারক,  —সেগুলি সব নষ্ট হয়ে যায় কারণ কুলই যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন কুলকে আশ্রয় করে থাকে যে ধর্ম তা কার আশ্রয়ে টিকে থাকবে????
যখন কুলের পবিত্র মর্যাদা, পবিত্র আচরণ নষ্ট হয়, তখন ধর্ম পালন না করা এবং ধর্মের বিপরীত কাজ করা
অর্থাৎ
যা করণীয় তা না করা এবং যা অনুচিত তা করা—–এরূপ অধর্ম সমস্ত কুলকে গ্রাস করে
অর্থাৎ
সমস্ত কুল অধর্মে ভরে যায় ।
…….কারণ তাদের সুশিক্ষা দেবার মতন কেউ জীবিত থাকেন না । তাই মর্যাদা রক্ষার এবং ব্যবহারিক জ্ঞান না থাকায় তারা  যেমন খুশি আচরণ করতে থাকে ।
অর্থাৎ উপযুক্ত কর্ম না করে অনুপযুক্ত কাজ করতে থাকে,
তাতে অধর্মই প্রসারিত হয় ।
                                 ~~~~স্বামী রামসুখদাস
                                        জয় শ্রীকৃষ্ণ….পর্ব-২
হে কৃষ্ণ! অধর্ম অত্যধিক বৃদ্ধি পেলে কুলস্ত্রীগণ দূষিতা হন এবং বার্ষ্ণেয় !
স্ত্রীলোকগণ দূষিতা হলে বর্ণসংকর উৎপন্ন হয় ।।গীতা-৪১।।
ব্যাখ্যা—–
ধর্মপালন করলে অন্তঃকরণ শুদ্ধ হয় ।
আর
অন্তঃকরণ শুদ্ধ হলে বুদ্ধি সাত্ত্বিকী বুদ্ধিতে কি করা উচিত এবং কি করা অনুচিত—সেই বিবেক জাগ্রত থাকে ।
কিন্তু
কুলে যখন অধর্ম বৃদ্ধি পায়, তখন আচরণে অশুদ্ধি দেখা দেয়,
ফলে অন্তঃকরণও অশুদ্ধ হয়ে যায় ।
অন্তঃকরণ অশুদ্ধ হলে বুদ্ধিও তামসিক হয়ে যায়।
তামসিক বুদ্ধি হলে মানুষ অকর্তব্যকে কর্তব্য
এবং
কর্তব্যকে অকর্তব্য বলে মনে করতে থাকে
অর্থাৎ তার মধ্যে শাস্ত্রমর্যাদার বিপরীত ভাব উৎপন্ন হয়।
এই বিপরীত বুদ্ধিতে কুলস্ত্রীগণ দূষিত
অর্থাৎ
ব্যাভিচারিনী হয়ে ওঠে ।
স্ত্রী গণ দূষিত হলে বর্ণ সংকর সৃষ্টি হয় ।
(( পরস্পর-বিরুদ্ধ ধর্মের সংমিশ্রনে যা সৃষ্টি হয়, তাকে ‘সংকর’ বলা হয় । যখন ‘কর্তব্য’ পালন করা হয় না তখন
ধর্মসংকর, বর্নসংকর, জাতিসংকর, কুলসংকর, বেশসংকর, ভাষাসংকর , আহারসংকর ইত্যাদি অনেক সংকরদোষ দেখা দেয় ।)))
পুরুষ এবং নারী——দুজন পৃথক বর্ণের হলে তাদের যে সন্তান জন্মায়, তাকে  বর্ণসংকর বলা হয় ।
সুতরাং কুল নষ্ট করা উচিত নয় ।
(((((অর্জুন এখানে ‘কৃষ্ণ’ সম্বোধন করে এই কথাই বলেছেন,
“””আপনি সকলকে আকর্ষণ করেন সেজন্য আপনাকে ”কৃষ্ণ”  বলা হয় ।”””””))))
~~~~স্বামী রামসুখদাসজী।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started