প্রাচীন বঙ্গের রাজা বল্লাল সেন তন্ত্রসাধনার প্রসারে উত্তরে দক্ষিণেশ্বর থেকে দক্ষিণে বেহুলা ( বেহালা) পর্যন্ত এক ত্রিকোণাকৃতি ভূখণ্ড সংরক্ষিত করেন।
শ্রীকালিকা তন্ত্রের দেবী। তিনি আদিরূপা ও সাক্ষাৎ. কৈবল্যদায়িনী।
শ্রীকালিকা তন্ত্রের দেবী। তিনি আদিরূপা ও সাক্ষাৎ. কৈবল্যদায়িনী।
সেই কালিকার সাধনক্ষেত্র হিসাবে এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড কালিকাক্ষেত্র নামে পরিচিতি লাভ করে।
কালীঘাট কালিকাক্ষেত্রের নাভিকেন্দ্রে অবস্হিত।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, কালীঘাটের উপস্হিতি বল্লাল সেনের যুগের থেকেও প্রাচীনতর।
বস্তুতপক্ষে, পুরাকাল থেকেই মহাতীর্থ কালীঘাট একান্নটি শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম পীঠস্হান হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে ।
দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে রামকৃষ্ণ মঠকে( গদাধর আশ্রম) কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের সূচনা হয়।
শ্রীমা সারদার আশীর্বাদ ও শ্রীরামকৃষ্ণের পার্ষদবৃন্দের পূতস্পর্শে ধন্য এই আশ্রমে বিধৃত হয়ে আছে আধ্যাত্মিক তরঙ্গমালা ।
শ্রীরামকৃষ্ণের গৃহীশিষ্য বলরাম বসুর প্রথমা কন্যা ভুবনমোহিনীর জ্যেষ্ঠা কন্যা ইন্দুবালার সঙ্গে ভবানীপুর নিবাসী যোগেশচন্দ্র ঘোষের বিবাহ হয়।
তাঁদের একমাত্র পুত্র গদাধরের জন্মের কিছুকাল পরে ইন্দুবালা লোকান্তরিত হন।
এমনকি সেই গদাধর ও স্নাতোকোত্তর পঠন- পাঠনের সময় প্রয়াত হয়।
বিরহশোকে কাতর যোগেশচন্দ্রের হৃদয়ে বৈরাগ্যের সঞ্চারের ফলে তাঁর বসতবাটী বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠের কর্তৃপক্ষকে দান করেন এবং ‘ গদাধর আশ্রম’ নাম রাখতে অনুরোধ করেন।
প্রাথমিক পর্বে সে- বিষয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও পরে শ্রীমায়ের অনুমোদনে সেই সঙ্কট অন্তর্হিত হয়ে যায়।
ফলে ১৭ নভেম্বর ১৯২০ তারিখে কালীক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মঠ( গদাধর আশ্রম) আত্মপ্রকাশ করে।
ভবানীপুরে রামকৃষ্ণ মঠ ( গদাধর আশ্রম) সম্পর্কে আরও দুএক কথা——–
**************************
**************************
পরম পূজ্যপাদ মহাপুরুষ মহারাজ স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুরকে সিংহাসনে বসিয়ে এই আশ্রমটির প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি সেইসময় কয়েকদিন এই আশ্রমে থেকে অনেক ভক্তকে আনন্দ দিয়েছেন ।
তিনি সেইসময় কয়েকদিন এই আশ্রমে থেকে অনেক ভক্তকে আনন্দ দিয়েছেন ।
ভাবে মত্ত হয়ে নিজে খোল বাজাতে বাজাতে ভজন কীর্ত্তন করে সকলকে মাতিয়েছেন।
সেই শ্রীরামকৃষ্ণ– আনন্দ– মন্দাকিনী আজও প্রবাহিত।
আজও কত ভক্তের অন্তরকে স্পর্শ করে তাকে পবিত্র ভগবদ্ভাবে পূর্ণ করে দিচ্ছে এই শ্রীরামকৃষ্ণ- ভাব- মন্দাকিনীর পূত বারিধারা।
আশ্রম প্রতিষ্ঠার পূর্বে পরম পূজ্যপাদ রাজা মহারাজ এখানে শুভ পদার্পণ করেছেন ।
এছাড়া পূজ্যপাদ মহাপুরুষ মহারাজ, পূজ্যপাদ বিজ্ঞান মহারাজ প্রমুখ শ্রীশ্রীঠাকুরের অন্তরঙ্গ পার্ষদেরা কতবার এই আশ্রমে পদার্পণ করে এখানকার আধ্যাত্মিক ভাবকে ঘনীভূত করে প্রাণবন্ত করে দিয়েছেন ।
কথামৃতকার শ্রীম’ ও কিছুদিন এই আশ্রমে বাস করেছেন।
—————————————————————-
ঋণস্বীকার( কালীক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মঠ)…..
ঋণস্বীকার( কালীক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মঠ)…..
