কাশী থেকে শ্রীশ্রীরাজা মহারাজকে চিঠি লিখেছি, তাতে একটি প্রশ্ন করেছিলাম, “ঠাকুর কি সত্যই আছেন?” কিছুদিন পরে পত্রের উত্তরে তিনি লিখলেন, “পত্রপাঠ মঠে চলে এস।” মঠে এসে দোতলায় তদানীন্তন অফিস-ঘরে (স্বামীজীর ঘরের পাশে) মহারাজকে প্রণাম করে দাঁড়াতেই বললেন, *”তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে? তিনি সত্যি আছেন, তা নইলে আমরা আজীবন কি নিয়ে পড়ে আছি?”*
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ভুবনেশ্বরের মঠে ছাদে সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একবার রামলাল দাদা একটু দুঃখিত ভাবে মহারাজকে জিজ্ঞাসা করলেন,
“আপনারা যখন ঠাকুরের কাছে ছিলেন, তখন তো কত সাধন-ভজন করেছিলেন, তার পরেও ধ্যান-ধারণা কি ভীষণ ভাবে চলেছিল, কই, আজকাল ছেলেদের তো সেই রকম কিছু দেখতে পাই না !”
মহারাজ এই কথা শুনে বলে উঠলেন, *”দেখ রামলাল দাদা, তুমি জানো না, এই সব ছেলে সৎ হবার জন্য কত চেষ্টা করছে ! অন্তরে যারা সৎ হবার যত চেষ্টা করে, সাধনা করে, বাইরের জগৎ থেকে তাদের তত বেশি ধাক্কা আসে; শুধু তাই নয়, সূক্ষ্ম জগৎ থেকেও অসদ্বৃত্তিসম্পন্ন সূক্ষ্ম শরীর তাদের মনের ভেতরে প্রবেশ করে। তুমি কি জানো দাদা, এরা কে কি করছে না করছে! এরা যদি ঠাকুরের নাম নিয়ে পড়ে থাকতে পারে তো গুরুকৃপায় সব হয়ে যাবে।”*
মহারাজের ব্যক্তিত্বই ছিল অপূর্ব। তাঁর হাঁটাচলা কথাবলা সব কিছুর মধ্যেই ছিল একটা দৈবী ভাব। একদিন গঙ্গার ধারের নিচের বারান্দায় প্রবীণ সাধুরা বসে আছেন। মহাপুরুষ মহারাজও আছেন। বাবুরাম মহারাজ ঘাটে নেমেছেন। একটা নৌকা যাচ্ছে ঘাটের পাশ দিয়ে। নৌকার লোকেরা বলছেঃ “ব্যাটারা বেশ আছে!” ওদিকে মহারাজ কদমগাছটার তলায় পায়চারি করছেন। নৌকা সেদিকে এলে তাঁর দিকে তাকিয়ে ওই লোকেরাই বলছেঃ “কিন্তু যাই বলো, এদের দেখলে মনে হয় যেন দেবতা চলে বেড়াচ্ছে!”
সত্যিই, তিনি এবং তাঁর গুরুভাইরা তো মানুষ ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন দেবতা !
– স্বামী নির্বাণানন্দ
