রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, সেই মহাপূণ্য দিন। আমাদের সকলের প্রাণের ঠাকুর তাঁর ভক্তমাঝে ধরা দিয়েছিলেন "কল্পতরু" রূপে।

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, সেই মহাপূণ্য দিন। আমাদের সকলের প্রাণের ঠাকুর তাঁর ভক্তমাঝে ধরা দিয়েছিলেন “কল্পতরু” রূপে। সকলের “ভক্তবাঞ্ছাকল্পতরু” তিনি। আজ সেই মহাপূণ্যদিনের প্রাক্কালে শ্রীশ্রীঠাকুরের সকল সন্তানকে জানাই শুভ কল্পতরু দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কল্পতরু ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব সকলের সকল মনবাসনা পূর্ণ করুন এই কামনা নিয়ে…………………………

|| ভক্তবাঞ্ছা কল্পতরু ||
………………………………
সে দিন ছিল পয়লা জানুয়ারি, ১৮৮৬। বিকেল ৩টে। শরীরটা আজ যেন একটু ভালো। শ্রীরামকৃষ্ণ ঘর থেকে বাগানের পথ দিয়ে গেটের দিকে চলেছেন। দেখলেন কাছেই আম গাছের তলায় আড্ডা মারছে গিরিশ, অতুল, রাম ও আরও অনেকে। কাছে গিয়ে ঠাকুর গিরিশকে বললেন, “হ্যাঁরে, তুই নাকি আমার নামে কী সব বলে বেড়াচ্ছিস? আমি নাকি ভগবানের অবতার। তুই আমার মধ্যে কী দেখলি, কী বুঝলি?” গিরিশ তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, “ তাঁর সম্পর্কে আমি আর কী বলতে পারি? স্বয়ং ব্যাসদেব আর বাল্মীকিও যাঁকে বর্ণনা করার জন্য ভাষা খুঁজে পাননি।” গিরিশের এই ভক্তি দেখে আপ্লুত শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন, “তোদের আধ্যাত্মিক জাগরণ হোক, এই আশীর্বাদ করি।” এই কথা বলে ঠাকুর সমাধিস্থ হলেন। গিরিশ দেখলেন ঠাকুরকে ঘিরে রয়েছে এক দিব্যজ্যোতি। ‘জয় শ্রীরামকৃষ্ণ’, ‘জয় শ্রীরামকৃষ্ণ’ বলে শ্রীরামকৃষ্ণের পায়ে পড়ে গিরিশ চিৎকার করতে লাগলেন। ভক্তরা উন্মাদ হয়ে উঠল। কেউ আনন্দে চিৎকার করে উঠল, কেউ বা ঠাকুরের দিকে ফুল ছুড়তে লাগল, কেউ আবার ঠাকুরের পা জড়িয়ে ধরল। সমাধি ভাঙল শ্রীরামকৃষ্ণের। ভক্তদের প্রত্যেককে স্পর্শ করে তাঁদের মনোমতো আশীর্বাদ করলেন। এই স্পর্শ ভক্তদের মনের মধ্যে বিপ্লব ঘটিয়ে দিল। কেউ হাসতে লাগল, কেউ বা আনন্দে কাঁদতে লাগল, অনেকে আবার ধ্যানে বসে গেল। পরে ভক্তদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সেই মুহূর্তটা কেমন মনে হয়েছিল, যখন শ্রীরামকৃষ্ণ স্পর্শ করেছিলেন। কেউ কেমন একটা মিষ্টি মাদকতা অনুভব করেছিলেন; কেউ ধ্যানে যে দেবতাকে দেখাতে পান না, তাঁকে দেখেছিলেন; কারও শরীরের মধ্য দিয়ে কেমন একটা অদ্ভুত স্রোত বয়ে গিয়েছিল; কেউ অনির্বচনীয় আনন্দ অনুভব করেছিলেন যা আগে কখনও পাননি; কেউ একটা দীপ্তি দেখেছিলেন।কাশীপুর উদ্যানবাটীতে শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন ‘কল্পতরু’ হয়েছিলেন। ঠাকুর বলেছেন : “ভগবান কল্পতরু,  তাঁর কাছে যে যা চায়, সে তাই পাই।” তিনি “ভক্তবাঞ্ছা কল্পতরু”। সেই দিনটির স্মরণে কাশীপুর উদ্যানবাটী সহ সকল রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে প্রতি বছর কল্পতরু উৎসব পালন করা হয় মহাসমারোহে।(সাবর্ণ)
জয় কল্পতরু ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব জী কি জয়!!!
জয় শ্রীশ্রীগুরুমহারাজ জী কি জয়!!!

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started