*- : স্বামীজীর পত্রাবলী : -*
*”নমঃ শ্রীযতিরাজায় বিবেকানন্দ সুরয়ে।* *সচ্চিৎসুখস্বরূপায় স্বামিনে তাপহারিণে।।”*
।।ঔঁ।।
।।ঔঁ।।
(সিস্টার নিবেদিতাকে লিখিত দুটি চিঠি)
*প্রথম চিঠি :*
স্যান ফ্রান্সিস্কো, ২৬শে মে, ১৯০০
স্নেহের নিবেদিতা,
আমার অনন্ত আশীর্বাদ জেনো এবং কিছুমাত্র নিরাশ হয়ো না। শ্রী ওয়া গুরু, শ্রী ওয়া গুরু।
ক্ষত্রিয়-শোণিতে তোমার জন্ম। আমাদের অঙ্গের গৈরিক বাস তো যুদ্ধক্ষেত্রের মৃত্যুসজ্জা! ব্রত-উদযাপনে প্রাণপাত করাই আমাদের আদর্শ, সিদ্ধির জন্য ব্যস্ত হওয়া নয়। শ্রী ওয়া গুরু।
অশুভ অদৃষ্টের আবরণ তো দুর্ভেদ্য কালো। কিন্তু আমিই তো সর্বময় প্রভু! যে মুহূর্তে আমি ঊর্ধ্বে হাত তুলি – সেই মুহূর্তেই ঐ তমসা অন্তর্হিত হয়ে যায়।
এ সবই অর্থহীন এবং ভীতিই এদের জনক। আমি ভয়েরও ভয়, রুদ্রেরও রুদ্র। আমি অভীঃ, অদ্বিতীয়, এক। আমি অদৃষ্টের নিয়ামক, আমি কপালমোচন। শ্রী ওয়া গুরু। দৃঢ় হও, মা! কাঞ্চন কিংবা অন্য কিছুর দাস হয়ো না, তবেই সিদ্ধি আমাদের সুনিশ্চিত।
★★★
★★★
*দ্বিতীয় চিঠি :*
মঠ, বেলুড়, হাওড়া,
১৯শে ডিসেম্বর, ১৯০০
১৯শে ডিসেম্বর, ১৯০০
কল্যাণীয়া নিবেদিতা,
মহাদেশসমূহের আর এক প্রান্ত থেকে একটি স্বর তোমায় প্রশ্ন করছে : ‘কেমন আছ?’ এতে তুমি অবাক হচ্ছ না কি? বস্তুত আমি হচ্ছি ঋতুর সঙ্গে বিচরণকারী একটি বিহঙ্গম।
আনন্দমুখর ও কর্মচঞ্চল প্যারিস, দৃঢ়গঠিত প্রাচীন কনস্তান্তিনোপল, চাকচিক্যময় ক্ষুদ্র এথেন্স, পিরামিড-শোভিত কায়রো – সবই পেছনে ফেলে এসেছি, আর এখন আমি এখানে, গঙ্গার তীরে মঠে আমার ঘরে বসে লিখছি।
চতুর্দিকে কি শান্ত নীরবতা! প্রশস্ত নদী দীপ্ত সূর্যালোকে নাচছে; শুধু ক্বচিৎ দু-একখানা মালবাহী নৌকার দাঁড়ের শব্দে সে স্তব্ধতা ক্ষণিকের জন্য ভেঙে যাচ্ছে।
এখানে এখন শীতকাল চলছে; কিন্তু প্রতিদিন মধ্যাহ্ন বেশ উষ্ণ ও উজ্জ্বল। এ হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার শীতেরই মতো। সর্বত্র সবুজ ও সোনালী রঙের ছড়াছড়ি, আর কচি ঘাসগুলি যেন মখমলের মতো! অথচ বাতাস শীতল, পরিষ্কার ও আরামপ্রদ। ইতি
তোমাদের, বিবেকানন্দ।
তোমাদের, বিবেকানন্দ।
*”ওঁ পরতত্ত্বে সদালীনো রামকৃষ্ণ সমাজ্ঞয়া।*
*যো ধর্মস্থাপনরতো বীরেশং তং নমাম্যহম্।।”*
*যো ধর্মস্থাপনরতো বীরেশং তং নমাম্যহম্।।”*