স্বামীজির মৃত্যুর পরে নিবেদিতার জীবন তরী হঠাৎ অন্য পথে বাঁক নিল । তিনি যেন অকস্মাৎ অনুভব করলেন – ভারতমাতা যতদিন পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে থাকবে , ততদিন এদেশে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হবে না । তাই সবার আগে প্রয়োজন দেশের মুক্তি , এদেশের শিল্প সংস্কৃতিতে জাতীয় ঐতিহ্যের প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে ভারত কে আগে বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত করতে হবে ।
এইসময়ে তিনি ভারতে বিভিন্ন স্বাধীনতা -সংগ্রামী , মুক্তিযোদ্ধা অনেকের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেন । নিবেদিতার কথা ও কাজে ছিল দেশপ্রেমের আগুন , সেই আগুনের ফুলকি যেদিকেই ছড়িয়ে পড়ছিল – সেদিকেই লেলিহান হয়ে উঠে অগ্নিশিখা যেন যুবসমাজের অন্তরে দেশপ্রেমের আগুন ধরিয়ে দিচ্ছিল । জাতীয়তাবাদের সেই আগুন ভারতবাসীর মনে জাগিয়ে ছিলেন তিনি । ক্রমে সেই দেশপ্রেম ও নবজাগরণের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারতবর্ষে – তাঁদের স্লোগান ছিল- ‘ এক জাতি এক প্রাণ একতা ‘।
শ্রী অরবিন্দ তাই নিবেদিতাকে বলতেন ‘ শিখাময়ী ‘ । দেশে তখন স্বদেশী আন্দোলনের একটা ঢেউ এসেছে , অরবিন্দ ঘোষ , গোপালকৃষ্ণ গোখলে , বিপিন চন্দ্র পাল – প্রমুখের মতো নেতা ছিলেন ঠিকই , কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই কর্মধারা নিয়ে মতান্তর হতো । এই বিরোধের ফলেই সৃষ্টি হল দুটি দল – ‘ নরমপন্থী ‘ ও ‘চরমপন্থী ‘।
নিবেদিতার চেষ্টায় নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি অনেকটাই কমে ছিল ।
আসলে নিবেদিতা নিজেই ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে কোন রকম আপস করতে রাজি ছিলেন না । তিনি চাইতেন ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা – আর এই জন্যই তাঁর কণ্ঠ সদাই উচ্চ স্বরে বাঁধা থাকতো । এই সুত্রেই সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘ ডন সোসাইটি ‘ ও ‘ অনুশীলন সমিতি ‘ র বিপ্লবীরা তাঁর একান্ত আপনজন হয়ে উঠলেন , তিনি তাঁদের শক্তি ও সাহস জোগাতেন , নিজের জীবন বিপন্ন করেও ।
সতীশ চন্দ্রের ‘ ডন ‘ পত্রিকাটি -নিবেদিতার বিপ্লব প্রচারের একটি মাধ্যম ছিল। এই সময়ে সত্যিই তিনি হয়ে উঠেছিলেন যেন অগ্নিশিখা বা ‘ শিখাময়ী ‘। সেই আগুনের পরশমণির ছোঁয়ায় , তাঁর সাহচর্যে , শিক্ষায় ও নির্ভীক উক্তিতে দেশের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল , আর সেই ঘটনায় ভারতমাতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য দেশবাসীর মনে বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠত ।
নিবেদিতা মাত্র ৪৪ বছর বেঁচে ছিলেন । ভারতে এসেছিলেন ১৮৯৮র জানুয়ারিতে।
এইসময়ে তিনি ভারতে বিভিন্ন স্বাধীনতা -সংগ্রামী , মুক্তিযোদ্ধা অনেকের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেন । নিবেদিতার কথা ও কাজে ছিল দেশপ্রেমের আগুন , সেই আগুনের ফুলকি যেদিকেই ছড়িয়ে পড়ছিল – সেদিকেই লেলিহান হয়ে উঠে অগ্নিশিখা যেন যুবসমাজের অন্তরে দেশপ্রেমের আগুন ধরিয়ে দিচ্ছিল । জাতীয়তাবাদের সেই আগুন ভারতবাসীর মনে জাগিয়ে ছিলেন তিনি । ক্রমে সেই দেশপ্রেম ও নবজাগরণের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারতবর্ষে – তাঁদের স্লোগান ছিল- ‘ এক জাতি এক প্রাণ একতা ‘।
শ্রী অরবিন্দ তাই নিবেদিতাকে বলতেন ‘ শিখাময়ী ‘ । দেশে তখন স্বদেশী আন্দোলনের একটা ঢেউ এসেছে , অরবিন্দ ঘোষ , গোপালকৃষ্ণ গোখলে , বিপিন চন্দ্র পাল – প্রমুখের মতো নেতা ছিলেন ঠিকই , কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই কর্মধারা নিয়ে মতান্তর হতো । এই বিরোধের ফলেই সৃষ্টি হল দুটি দল – ‘ নরমপন্থী ‘ ও ‘চরমপন্থী ‘।
নিবেদিতার চেষ্টায় নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি অনেকটাই কমে ছিল ।
আসলে নিবেদিতা নিজেই ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে কোন রকম আপস করতে রাজি ছিলেন না । তিনি চাইতেন ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা – আর এই জন্যই তাঁর কণ্ঠ সদাই উচ্চ স্বরে বাঁধা থাকতো । এই সুত্রেই সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘ ডন সোসাইটি ‘ ও ‘ অনুশীলন সমিতি ‘ র বিপ্লবীরা তাঁর একান্ত আপনজন হয়ে উঠলেন , তিনি তাঁদের শক্তি ও সাহস জোগাতেন , নিজের জীবন বিপন্ন করেও ।
সতীশ চন্দ্রের ‘ ডন ‘ পত্রিকাটি -নিবেদিতার বিপ্লব প্রচারের একটি মাধ্যম ছিল। এই সময়ে সত্যিই তিনি হয়ে উঠেছিলেন যেন অগ্নিশিখা বা ‘ শিখাময়ী ‘। সেই আগুনের পরশমণির ছোঁয়ায় , তাঁর সাহচর্যে , শিক্ষায় ও নির্ভীক উক্তিতে দেশের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল , আর সেই ঘটনায় ভারতমাতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য দেশবাসীর মনে বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠত ।
নিবেদিতা মাত্র ৪৪ বছর বেঁচে ছিলেন । ভারতে এসেছিলেন ১৮৯৮র জানুয়ারিতে।
দার্জিলিঙে দেহত্যাগ করেন ১৯১১ সালের ১৩ই অক্টোবর । এই ১২ /১৩ বছর কি অক্লান্ত পরিশ্রমই না তিনি করেছিলেন – নিজের জন্য একবিন্দুও নয় , শুধুই ভারতবর্ষের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গলের জন্য ।
সেইজন্যেই – স্বামী বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা এই অগ্নিশিখা ভগিনী নিবেদিতার দান আমাদের দেশে সর্বাঙ্গীণ ভাবে ছড়িয়ে আছে , আর তা নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়ারও সময় এসেছে , তাই ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি মানুষের মনে স্বামীজি ও তাঁর অনুগতা বিদ্রোহিণীর অবদান যেন গেঁথে থাকে , আগামী প্রজন্মও যাতে তাঁদের সেই পথ অনুসরণ করে চলে – তার ব্যবস্থা করা আমাদের অবশ্যই কর্তব্য ।
সেইজন্যেই – স্বামী বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা এই অগ্নিশিখা ভগিনী নিবেদিতার দান আমাদের দেশে সর্বাঙ্গীণ ভাবে ছড়িয়ে আছে , আর তা নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়ারও সময় এসেছে , তাই ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি মানুষের মনে স্বামীজি ও তাঁর অনুগতা বিদ্রোহিণীর অবদান যেন গেঁথে থাকে , আগামী প্রজন্মও যাতে তাঁদের সেই পথ অনুসরণ করে চলে – তার ব্যবস্থা করা আমাদের অবশ্যই কর্তব্য ।
