চারিদিকে খবর রটে গেল, এক অদ্ভুত সন্ন্যাসী এসেছেন-তাঁর যেমন রূপ তেমনি ভক্তি, একবার দেখলেই শরীর মন জুড়িয়ে যায়।

।।শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচল লীলা।।

অদ্বৈতাচার্য ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর চার সঙ্গীদের (নিত্যানন্দ,পন্ডিত জগদানন্দ,পন্ডিত দামোদর ও মুকুন্দ দত্ত) শান্তিপুরের সীমানা অবধি এগিয়ে দিলেন। বৃদ্ধ জ্ঞানী আচার্য বিদায় মুহূর্তে নিজের হৃদয়াবেগ ধরেড রাখতে পারলেন না। শ্রীচৈতন্যদেবের মুখকমল দর্শন করতে করতে মুর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। তিনি শ্রীচৈতন্যদেবকে শুধু ভক্তিই করতেন না,আপন সন্তানের মতোও দেখতেন। এই মিশ্রভাব তাঁর বিরহকে সুতীব্র করে তুলেছিল।

সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী মুখে ‘হরিনাম’ উচ্চারণ করতে করতে দক্ষিণদিকে অগ্রসর হতে লাগলেন। পথে দেবস্থান দর্শন, ভিক্ষান্নে উদরপূরণ ও বৃক্ষতলে শয়ন চলতে লাগল। পথশ্রমের কষ্ট হরিনামের আনন্দে কোথায় মিলিয়ে গেল। তাঁর গমন পথে  তাঁকে দর্শন করে ও তাঁর মুখে সুমধুর হরিনাম শ্রবণ করে বহু মানুষ ভক্তে রূপান্তরিত হতে লাগল। কৃষ্ণভক্তি ও ভাবের বন্যা বইয়ে কলুষনাশকারী শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সপার্ষদ এগিয়ে চললেন।

এইভাবে তাঁরা ছত্রভোগ নামক এক স্থানে এসে উপস্থিত হলেন। এইস্থান অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জয়নগর মজিলপুরের পাঁচ-ছয় মাইল দক্ষিণে। এখানে তাম্বুলিঙ্গ মহাদেব আজও বর্তমান আছেন। তাঁকে দেখে শ্রীচৈতন্যদেব ভাবস্থ হয়ে পড়লেন।  ভাবের উপশম হলে তিনি মহাদেবের পূজা ও স্তব করতে লাগলেন। তাঁর সুললিত কন্ঠে উচ্চারিত ভাবময় শ্লোক শ্রবণ করে গ্রামবাসীরা আকৃষ্ট হয়ে তাঁর কাছে ছুটে আসতে লাগলেন। চারিদিকে খবর রটে গেল, এক অদ্ভুত সন্ন্যাসী এসেছেন-তাঁর যেমন রূপ তেমনি ভক্তি, একবার দেখলেই শরীর মন জুড়িয়ে যায়।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started