Akka Mohadevi jiboni |সাধিকা আক্কা মহাদেবী

|||সাধিকা আক্কা মহাদেবী |||

::::::::::

বাল্যকাল থেকেই মহাদেবী ছিলেন চেন্না মলিকার্জুনের ভক্ত । তিনিই ছিলেন মহাদেবীর হৃদয় মনের অধীশ্বর । কাজেই কোন নশ্বর পুরুষের সঙ্গে বিবাহের কথা তাঁর কল্পনাতেই আসি নি ।

কে জানে হয়তো এইরকম বিবাহের প্রস্তাবের চাপেই তিনি এই বচনগুলি রচনা করে ছিলেন——–

“”””””মাগো, আমি তাঁরই অনুরাগিণী হয়েছি সেই চিরসুন্দর, যাঁর মৃত্যু নেই । যাঁর ধ্বংস নেই, আকারও নেই ।

মাগো আমি তাঁরই অনুরাগিণী হয়েছি সেই চিরসুন্দর, যাঁর জনম নেই, আর যাঁর ভয়ও নেই ।

মাগো আমি তাঁরই অনুরাগিণী হয়েছি,

সেই চিরসুন্দর যিনি পরিবারের বন্ধনের বাইরে, যিনি দেশহীন, অদ্বিতীয়; চেন্না মল্লিকার্জুন, সেই চিরসুন্দরই আমার স্বামী ।
আগুনে সপেঁ দাও সেই সব অন্য স্বামীদের যারা মৃত্যু ও ধ্বংসের অধীন ।””””””””

এই যখন তাঁর মনোভাব, তখন বোঝাই যায় যে মহাদেবী কিছুতেই শিবদ্বেষী কৌশিককে বিবাহ করতে সম্মত হতে পারেন না ।…..

শিবের প্রতি প্রবল অনুরাগের মূহুর্তে রচিত একটি ‘বচনে’ মহাদেবী বলেছেন———

“হে প্রভু, আমার এ-গান তুমি শুনতে হয় শোনো অথবা ইচ্ছা না হলে শুনো না ! কিন্তু আমি তোমাকে ও গান না শুনিয়ে পারব না।

হে প্রভু, আমাকে গ্রহণ করতে হয় করো অথবা ইচ্ছা না হলে গ্রহণ কোরো না; কিন্তু আমি তোমাকে পূজা না করে থাকতে পারবো না ।

হে প্রভু, আমাকে ভালোবাসতে হয় ভালোবাসো অথবা ইচ্ছা না হলে ভালোবেসো না; কিন্তু আমি তোমাকে বক্ষে ধারণ না করে থাকতে পারবো না ।

হে প্রভু, আমাকে দেখতে হয় দেখো অথবা ইচ্ছা না হলে দেখো না ; কিন্তু আমি তোমাকে সতৃষ্ণ নয়নে না দেখে থাকতে পারব না ।

হে প্রভু, চেন্না মল্লিকার্জুন, আমি তোমার পূজা করি, আর অন্তহীন আনন্দে শিহরিত হই ।”

শিবের জন্য মহাদেবীর অনুরাগ  ছিল অধ্যাত্ম – প্রকৃতির ।…..

অবশেষে অনেক আত্ম-অন্বেষণের পর মহাদেবী দিব্যদৃষ্টি লাভ করেছিলেন ।

(প্রাচ্য ও প্রতীচ‍্য এর ধর্মসাধিকা, পৃষ্ঠা ৪৯)

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started