This photo-of Swami Akhandanand Hall of Nagpur Math II এই ফটো-নাগপুর মঠের স্বামী অখণ্ডানন্দ হলের

।।শ্রীরামকৃষ্ণ ও হাটে হাঁড়ি-ভাঙার রঙ্গ-কথা।।

     

          স্বামী বুধানন্দ
        

                ( ১)
‘প্রভুর প্রতিজ্ঞা ছিল শুন বিবরণ।
হাটেতে ভাঙিব হাঁড়ি যাইব যখন।।
সেই হাঁড়ি-ভাঙা রঙ্গ  আজিকার দিনে।
কিভাবে ভাঙিলা হাঁড়ি শুন এক মনে।।
দক্ষিণেশ্বরে থাকাকালীন শেষের দিকে ঠাকুর একদিন বলেছিলেন:যাবার আগে প্রেমের হাঁড়ি ভেঙে দিয়ে যাব। যেমন কথা তেমন কাজ। সেই হাটে হাঁড়ি ভাঙার দিনটি এসেছিল ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারী তারিখে।
   ভাবতে সত্যি আশ্চর্য লাগে না কি যে,অবতীর্ণ ভগবান নিজ প্রেমের হাঁড়ি ভেঙেছিলেন আমাদের এই সমস্যা-সমকীর্ণ কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে।  হাঁড়ি ভেঙে নিজ লীলা পুষ্ট করেছিলেন অপ্রকট হবার ছয় মাস আগে।
  শ্রীরামচন্দ্র দত্ত প্রমুখ ভক্তগণ ঠাকুরের ঐ দিনের আত্মপ্রকাশকে ‘কল্পতরু রূপ প্রদর্শন’ বলে বিখ্যাত করেছেন;কিন্তু স্বামী সারদানন্দ লিখেছেন:”…উহাকে ঠাকুরের অভয়প্রকাশ অথবা আত্মপ্রকাশপুর্বক সকলকে অভয়-প্রদান বলিয়া অভিহিত করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।”
  ঐ মহিমামণ্ডিত দিনটি কিন্তু গৃহী ভক্তদের কেন্দ্র করেই অভিব্যক্ত হয়েছিল।
  সেই জন্যই বোধ হয় গৃহী ভক্তদের দেওয়া ‘কল্পতরু’ নামটিই ‘লীলার ঈশ্বর’-এর ইচ্ছায় সর্বজনগ্রাহ্য এমন ভাবে হয়েছে যে,সন্যাসীরাও ঐ নামেই ঐ দিনের উৎসব করেন।
  তবে একটি কথা আছে।

             ভাববার কথা।

  আমরা এমন যেন মনে না করি যে,ঐ ‘কল্পতরু’ নামের আধারে ঐ দিনে অভিব্যক্ত রামকৃষ্ণ-কৃপার সমগ্র অধেয়টি ধরতে পেরেছি।
  ঐ দিনের ঐ চৈতন্য-ভাস্বর ঘটনাটি একটি মূল-বৃন্ত-হীন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
  ঐ ঘটনাটি অবতীর্ণ ভগবানের একটি কৃপা-প্রেরিত মরমিয়া আত্ম-প্রকাশ।
  শ্রীরামকৃষ্ণ-আবির্ভাবের অনেক কথাই তাই এসে পড়ে।
  একথা সম্পূর্ণরূপে মানি যে,আমাদের সহজ ঠাকুরকে কঠিন করে বুঝতে চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
   কিন্তু এটি মনে রাখতে হবে যে,তিনি সহজ হয়েও অমেয়, কাছের মানুষটি হয়েও নিঃসীম।
  তাই কোন শব্দসমষ্টির বাঁধা ছাঁচে তাঁকে পুরোপুরি ধরে ফেলা যাবেনা।
  মুঠোর মধ্যে গোটা আকাশটাকে যেমন যায় না ধরা,যদিও যায় ছোঁয়া, তেমনি কোন শব্দর্থের মুঠোয় শ্রীরামকৃষ্ণের কোন প্রকাশের সমগ্র বেদন-ব্যঞ্জনাকে যায় না ধরা,যদিও যায় অভ্যাসে পাওয়া।

  পূর্নের এক কণাও পূর্ণ।

   তাই বলি ‘কল্পতরু রূপ প্রদর্শন’ কথাগুলিতে শুধু আভাসই আছে।
  আছে শুধু একটি ইঙ্গিত—একটি বিপুল আলোক-রাজ্যের অনু-রঞ্জন,তার বেশি নয়।

  কল্পতরুর কাছে দাঁড়িয়ে চাইতে হয়।
  যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়।
  ঐ দিনের ঘটনাটিই ধরা যাক।
  শরীর অত অশক্ত–আহা,বিছানায় উঠে বসতেও কতই না কষ্ট!
  তবু ভব-মূল শিথিল করে ভ্রাম্যমান হলেন কল্পতরু।
  ঐ উঁচু উঁচু কাঠের সিঁড়িগুলি বেয়ে নীচে নেবে এসে নিজেই ভাঙলেন অমৃত-গড়া প্রেমের হাঁড়ি ভক্তদের সত্তার নিগূঢ় অন্তরে—তবে না হলো চৈতন্যের অত ছড়াছড়ি,যেন মুড়ি-মুড়কি।
  হাড়গুড়ানো,গলা-কাটা সাধন করে যা হয় না জন্ম-জন্মান্তরে যুগ-যুগান্তে,সে চৈতন্য ঘটে ঘটে ফুটল খোলায় চড়ানো খই-এর মত।
   এমন অত্যাশ্চর্য ব্যাপার কেউ কি কখনো শুনেছে পূরণে,কল্পকথায়,ইতিহাসে?
  তবু হয়েছিল ঐরূপ ঐদিন আমাদের এই কলকাতায়। কে চেয়েছিল
চৈতন্য-স্ফুরণ সেদিন? কে পেয়েছিল চাইবার পরে?

  কেই বা ছিল অধিকারী?

  কিন্তু তবু একটি ঈশ-অভীপ্সার কারুণ্যবেগে সমগ্র কৃপাসাগর বিন্দুবদ্ধ করে যে মহাবানী উচ্চারণ করলেন একটি মৃদু নিঃশ্বাসের পেলবতায়,তার অপার অমোঘ শক্তিতে কি না ঘটল খণ্ড পলকে!
  ছিন্ন হলো কর্মপাশ,কলুষ হল কৃত্য,খণ্ডিত হল কলিডোর।
  চৈতন্য হলো পুষ্পিত জর্জরিত জড়ের অনাহত হৃদয় গুহায়।
  চোখে দেখল যা ধ্যানেও দেখা যেত না।
  সেদিন অধিকারি-নির্বিশেষে চৈতন্য জাগ্রত করলেন।
  তারপর উপরে এসে অসহ্য গাত্রদাহ।
  গঙ্গাজল সারা পায়ে গায়ে মেখে তবে কোন প্রকারে স্বস্তি।
  মায়ের কোথায়,শুধু রসগোল্লা খেতে ত আর আসেননি!
  তাই বিদ্যুৎ-পলকে সকলের পাপ টেনে নিয়েছিলেন ঐ ভগবতী-তনুতে।
  সে জ্বালাময় ইতিহাস কি আমরা মনে রাখি!
  উৎসবের আনন্দে মত্ত হয়ে ভগবানের বেদনাটুকু ভুলে যাই।
  ভাবি ভগবানকে পেয়েছি আমরা কেঁদে— সাধন করে।
   তিনি যে কত কেঁদে কেঁদে সেধে সেধে আমাদের অবরুদ্ধ চৈতন্যের দোর গোড়ায় ধন্না দিয়ে অনাহারে পড়েছিলেন, সে কথা আদপে জানিইনে।

This photo-of Swami Akhandanand Hall of Nagpur Math
This photo of Swami Akhandanand Hall of Nagpur Math

  This photo-of Swami Akhandanand Hall of Nagpur Math
এই ফটো-নাগপুর মঠের স্বামী  অখণ্ডানন্দ হলের

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started