দক্ষিণেশ্বরে একদিন শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর কোলে উপবিষ্ট হয়ে পরীক্ষা করেছিলেন তাঁর ভারসহনক্ষমতা(হয়ত বা দেখেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের পুজিতা দেবী শ্রীসারদাদেবীর ভার তিনি বইতে পারবেন কিনা) ,আর স্বামী বিবেকানন্দ সদ্যোজাত রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের প্রশাসনিক প্রধান রূপে(সাধারণ সম্পাদক) তাঁকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁর এবং ঠাকুরের আদর্শস্বরূপ সঙ্ঘকে পরিপুষ্ট করার-তিনি স্বামী সারদানন্দঃ শ্রীশ্রীমায়ের ‘ভারী’ শরৎ মহারাজ।
শ্রীশ্রীমায়ের অকুণ্ঠ স্বীকারোক্তিঃ “আমার ভার নেওয়া কি সহজ? শরৎ ছাড়া কেউ ভার নিতে পারে এমন তো দেখি নি। সে আমার বাসুকী।”
![]() |
| শরৎ মহারাজ |
জগত-ধাত্রীর এই ‘ভার’-এর সঙ্গে সঙ্গেই সামলেছেন সঙ্ঘের প্রশাসনিক দায়ভার,শ্রীশ্রীমায়ের পরিজনদের হাজারো আবদার!
শ্রীশ্রীমায়ের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বড়লাট কারমাইকেল-কে বাধ্য করিয়েছেন রামকৃষ্ণ সঙ্ঘ সম্পর্কে তার মূল্যায়নের পরিবর্তন করতে, ব্রিটিশ শাসনকালে বড়লাট বাধ্য হয়েছেন পূর্বের মন্তব্যের জন্যে ক্ষমা চাইতে,ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে যা সম্ভবত আর ঘটে নি!
আর এসবই তিনি করেছেন তাঁর স্বভাব সিদ্ধ ধৈর্য, শান্তভাব ইত্যাদি-কে অবলম্বন করে,তাই তো সারদানন্দজির সমন্ধে প্রেমেশানন্দজী লিখেছেন ,” শরত সুধীর শান্ত যেন গণনাথ”।
তিনি কার্যত গণেশের মতই মাতৃভক্তি নিয়ে সামলেছেন মাতৃমন্দিরের দায়িত্ব!
পূজনীয় শরৎ মহারাজের পুণ্য জন্মতিথিতে তাঁর চরনে বিনম্র প্রণাম!
