//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
।।শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচল লীলা।।
(২য় পর্ব)
পূজা শেষ করে শ্রীচৈতন্যদেব একটু বিশ্রাম করছেন, এমন সময় সেখানকার জমিদার রামচন্দ্র খান সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি আসার পূর্বে শ্রীচৈতণ্যদেব সম্বন্ধে কিছু কিছু শুনেছিলেন
কিন্তু এসে বুঝলেন শোনা আর দেখার মধ্যে কত পার্থক্য।তিনি তৎক্ষণাৎ শ্রীচৈতন্যদেবের শ্রীচরণে সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত করে অতি বিনয়ের সঙ্গে তাঁদের কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন। শ্রীচৈতন্যদেব স্মিতহাস্যে বুঝিয়ে দিলেন তাঁদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। রামচন্দ্র খাঁ যখন জানতে পারলেন যে তাঁদের গন্তব্যস্থল পুরীধাম তখন তাঁদের সবরকম সহযোগীতার আশ্বাস দিলেন। সে সময় বাংলা ছিল মুসলমান রাজার অধীনে আর উড়িষ্যা ছিল হিন্দু রাজার শাসনাধীন। তাই. দুই রাজ্যের সীমান্তে উত্তেজনা ও যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই থাকত। তার ফলে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ওপরে ছিল জঙ্গলে দস্যু তস্করের ভয়। তারা পথচারীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে হত্যা পর্যন্ত করত। রামচন্দ্র খাঁ তাঁর বিশ্বস্ত লোক দিয়ে শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর পার্ষদদের জলপথে সীমান্ত পার করিয়ে দিলেন।
কিন্তু এসে বুঝলেন শোনা আর দেখার মধ্যে কত পার্থক্য।তিনি তৎক্ষণাৎ শ্রীচৈতন্যদেবের শ্রীচরণে সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত করে অতি বিনয়ের সঙ্গে তাঁদের কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন। শ্রীচৈতন্যদেব স্মিতহাস্যে বুঝিয়ে দিলেন তাঁদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। রামচন্দ্র খাঁ যখন জানতে পারলেন যে তাঁদের গন্তব্যস্থল পুরীধাম তখন তাঁদের সবরকম সহযোগীতার আশ্বাস দিলেন। সে সময় বাংলা ছিল মুসলমান রাজার অধীনে আর উড়িষ্যা ছিল হিন্দু রাজার শাসনাধীন। তাই. দুই রাজ্যের সীমান্তে উত্তেজনা ও যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই থাকত। তার ফলে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ওপরে ছিল জঙ্গলে দস্যু তস্করের ভয়। তারা পথচারীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে হত্যা পর্যন্ত করত। রামচন্দ্র খাঁ তাঁর বিশ্বস্ত লোক দিয়ে শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর পার্ষদদের জলপথে সীমান্ত পার করিয়ে দিলেন।
শ্রী চৈতন্যদেব তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে বালেশ্বরের কাছে প্রয়াগ ঘাটে পৌঁছে নৌকা ছেড়ে দিলেন। এরপর স্থলপথে নানান দেবস্থান দর্শন করতে করতে এগিয়ে চললেন। পথে বহু লোক তাঁর মুখে হরিনাম শ্রবণ করে প্রভাবিত হতে লাগল। ত্রিতাপ জ্বালার হাত থেকে রক্ষা পাবার উপায় স্বরূপ ‘হরিনাম’ গ্রহন করতে লাগল। পরম কারুণিক শ্রীচৈতন্যদেব চোর ডাকাতদেরও তাঁর কৃপায় অধীনে নিয়ে এলেন। তারা দুস্কর্ম ত্যাগ করে হরিনামে বশীভূত হল। এ ছাড়াও রাস্তায় আর এক বিপদ ছিল। পথিকদের কাছ থেকে কিছু লোক ‘কর’ আদায় করত। তারা ‘দানী’ বলে নিজেদের পরিচয় দিত। পথিকদের সঙ্গে বেশীর ভাগ সময়ে অতি নিষ্ঠুর ব্যবহার করত। এই দানীরা শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর সঙ্গীদের পথ ভআটকালো। কিন্তু শ্রীচৈতন্যদেবের মুখে হরিনাম শুনে ও তাঁর ভাববিহ্বল অবস্থা দর্শন করে তারা অভিভূত হয়ে পড়ল। তারা তাঁকে ছেড়ে দিল কিন্তু নিত্যানন্দ প্রমুখ চারজনকে আটকে রাখল। কর না দিলে ছাড়বে না। শ্রীচৈতন্যদেবের বক্ষ প্রেমাশ্রুতে ভেসে যাচ্ছে,তিনি ভাবের আতিশয্যে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। দানীরা ভাবল হয়ত একলা যেতে পারবে না। তাঁর সঙ্গীদের ছাড়া তিনি বোধ হয় চলতে পারবেন না। তাদের মনের মধ্যে কি হল কে জানে, তারা চারজনকেও ছেড়ে দিল।
এর ফলও পেয়েছিল। শ্রী ভগবানের অমোঘ কৃপা তাদের ওপর বর্ষিত হয়েছিল। তাদের হৃদয়ে হরিনামের স্ফুরণ ঘটেছিল।
এর ফলও পেয়েছিল। শ্রী ভগবানের অমোঘ কৃপা তাদের ওপর বর্ষিত হয়েছিল। তাদের হৃদয়ে হরিনামের স্ফুরণ ঘটেছিল।
শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর সাথীদের নিয়ে রেমুনায় এসে উপস্থিত হলেন। এখানকার বিখ্যাত বিগ্রহ হলো ‘ক্ষীরচোরা গোপীনাথ।’ তিনি গোপীনাথ দর্শন করে ভাব-বিহ্বল হয়ে স্তব করতে লাগলেন। তিনি যখন গোপীনাথকে প্রণাম করছেন তখন বিগ্রহের মাথার চূড়া তাঁর মাথার উপর পড়ল। গোপীনাথের সেবকেরা এই দৃশ্য দর্শন করে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তারা প্রচুর ক্ষীর প্রসাদ এনে শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর সঙ্গীদের সেবা করাল।
শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর শ্রীগুরুদেবের মুখ থেকে গোপীনাথের যে লীলার কথা শ্রবণ করেছিলেন তা বলতে লাগলেন। ঈশ্বরপুরীজীর শ্রীগুরুদেব শ্রীমন্ মাধবেন্দ্রপুরীজী ছিলেন সর্ব ত্যাগী, প্রেমিক ভক্ত। তিনি সন্ন্যাসী হলেও কৃষ্ণপ্রেমে সর্বদা মাতোয়ারা হয়ে থাকতেন। একবার তিনি শ্রীবৃন্দাবন দর্শণ করতে এলেন। এক সন্ধ্যায় গিরি গোবর্ধন দর্শন করে , গোবিন্দকুন্ডে স্নান করে এক গাছের তলায় এসে বসলেন, তিনি ছিলেন ‘অযাচক’ সন্ন্যাসী অর্থাৎ ভিক্ষা করে খেতেন না। কেউ তাঁকে স্ব-ইচ্ছায় কিছু ভিক্ষা দিলে তিনি তা গ্রহন করতেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, এমন সময় কালোবরণ এক অপরূপ দর্শন বালক তাঁকে দুধ দিয়ে বলল,”এই দুধ খাও। কতক্ষন ক্ষুধার্ত হয়ে আছ, ভিক্ষা করেও তো খেতে পার। ” পুরীজী আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তিনি যে ক্ষুধার্ত তা এই বালক জানল কেমন করে জানল? তিনি সেই বালকের রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ” তুমি কে?কোথা থেকে দুধ পেলে? আর জানলেই বা কি করে যে আমার ক্ষিদে পেয়েছে ?” সেই বালক স্মিতহাস্যে বললে, ” আমি একজন রাখাল। এখানে যে সমস্ত মেয়েরা জল নিতে এসেছিল তারাই তোমার জন্যে দুধ পাঠিয়ে দিয়েছে। ” পুরীজী দুধ খেয়ে পাত্রটি ধুয়ে রেখে দিলেন।কিন্তু এই বালক আর ফিরে এলো না। সেদিন রাত্রে স্বপ্নে সেই গোপাল বালক আবার দর্শন দিল। সে পুরীজীকে বলতে লাগল, ” তুমি আমায় চিনতে পারলে না। আমি এখানে ঝোপের ভিতরে পড়ে আছি। গ্রীষ্মে, শীতে, বর্ষায় অশেষ কষ্ট পাচ্ছি। তুমি আমায় এখান থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা কর।” এই বলে তার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে সেই ঝোপ দেখিয়ে দিলে এবং নিজের স্বরূপ দেখাল। গোপাল রূপ দর্শন করে মাধবেন্দ্রপুরীজীর ঘুম ভেঙে গেল। তখনও রাত শেষ হয়নি। ভোর হলে পাশের গ্রাম থেকে লোক জোগাড় করে এনে , বহু কষ্টে খুঁড়ে ও জঙ্গল পরিষ্কার করে শ্রীকৃষ্ণ মূর্তি বার করে আনলেন। সে কি অপরূপ মূর্তি। কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণের নাতির ছেলে বজ্র এই মূর্তি নির্মান করিয়েছিলেন । ( শ্রীকৃষ্ণ নন্দন প্রদ্যুম্ন, তাঁর সন্তান অনিরুদ্ধ এবং তাঁর সন্তান বজ্র) বিভিন্ন কারণে ও কালে এই মূর্তির সেবা বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁকে এইভাবে লুকিয়ে রাখা হয়। এটি ভক্তবাৎসল্যের এক অপরূপ নিদর্শন। প্রেমময় ভক্ত যেমন ঈশ্বরকে সেবা করার জন্য উৎকন্ঠিত হয়
তেমনি শ্রী ভগবানও তাঁর সেবা লাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকেন।
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
