Mentioned in the Hindu religion, "Vishnu dasabatara ‘natural evolution and Darwin II হিন্দু ধর্মে উল্লিখিত ‘বিষ্ণুর দশাবতার’ ও ডারউইনের প্রাকৃতিক বিবর্তনতত্ত্ব

হিন্দু ধর্মে উল্লিখিত ‘বিষ্ণুর দশাবতার’ ও ডারউইনের প্রাকৃতিক বিবর্তনতত্ত্ব
=======================================
আধুনিক দৃষ্টিকোন থেকে যদি এই ‘দশাবতার’ তত্ত্বকে দেখি তো কি উপসংহার পেতে পারি। প্রাচীন কালে মুনি ঋষিদের ধারণা ছিল পৃথিবীতে জীবের বিবর্তন ধারায় মানুষের আবির্ভাব ঘটে। উদাহরণ স্বরুপ, পৃথিবীতে জীবনের প্রথম অভিব্যক্তি ঘটে জলচর প্রাণী রূপে। তারপর এক ধরণের প্রাণী জন্মায় যারা জল ও স্থল উভয় স্থানেই বাস করতে পারে। পরবর্তী কালে স্থলচর প্রাণীর উদ্ভব হলো। তার পর মনুষ্যেতর প্রাণী সৃষ্টি হলো। তারপর এল মানুষ। ক্রম বিবর্তনের ধারায় অনুন্নত জীব থেকে উন্নততর মানুষের আবির্ভাব ঘটলো। তাই হিন্দু ধর্মে বিষ্ণুর দশাবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ জনপ্রিয় ধর্মীয় বিষয়। অতি সহজ কথায়, হিন্দু ধর্মে জগৎ সংসারের পালন-কর্তা ভগবান শ্রী বিষ্ণু, যুগে যুগে (সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি) বিবিধ অশুভ শক্তি ও বিপদ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে দশবার বিভিন্ন অবতার রূপে জন্মগ্রহন করেছেন (বা করবেন)। এই দশ অবতারই, বিষ্ণুর দশাবতার নামে পরিচিত। মধ্য যুগের এক কবি এইটাই রুপকের মাধ্যমে দশাবতারের নামে সুললিত কাব্যিক ভাষায় সুন্দর ভাবে প্রকাশ করেছেন।
বিষ্ণুর দশাবতার —- মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নরসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, কৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, কল্কি।
(আঞ্চলিক তারতম্যে, এই তালিকায় কখনও কখনও কৃষ্ণের পরিবর্তে বলরাম; গৌতম বুদ্ধের পরিবর্তে জগন্নাথ বা বলরামকে  তালিকাভুক্ত করা হয়।)
অনেক আধুনিক বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদরা হিন্দু ধর্মে উল্লিখিত, বিষ্ণুর দশাবতার এর ডারউইনের প্রাকৃতিক
বিবর্তন তত্ত্বের তুলনা করেছেন —
মৎস্য — মাছ, প্রথম পর্যায়ের মেরুদন্ডী প্রাণী, জলে উদ্ভূত, জলজ প্রাণী।
কূর্ম — কচ্ছপ, জলে ও স্থলে বসবাসকারী উভচর প্রাণী।
বরাহ — বন্য স্থলজ প্রাণী।
নরসিংহ — অর্ধ মানব ও অর্ধ পশু রূপী প্রাণী।
বামন — খর্ব, প্রাক-পরিনত মানব।
পরশুরাম — জঙ্গলে বসবাসকারী ও আদিম অস্ত্র ব্যবহারকারী প্রাচীন মানব।
রাম — সমাজবদ্ধ মানব।
কৃষ্ণ — উন্নত রাজনীতিজ্ঞ মানব।
গৌতম বুদ্ধ — সন্ন্যাসী, ধর্মজ্ঞ, দিব্যজ্ঞানযুক্ত মানব।
কলকি — অতিআধুনিক প্রচন্ড ধ্বংস ক্ষমতা যুক্ত মানব।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started