*আজকেরভাবনা:*
*পরমার্থ–প্রসঙ্গ*
*-স্বামীবিরজানন্দ*
*(১১৫)*
অনেকে মনে করে সেবা, কর্ম এ সব করেকি হবে? তার চেয়েদিনরাত সাধন–ভজন করেআগে ভগবান লাভের চেষ্টাকরা যাক। তাও কিহয়! কিছুদিন করলেই বুঝতে পারবেযে কার্যতঃ তা সম্ভব নয়।কর্ম, পরহিতের জন্য কর্ম নাকরলে চিত্তশুদ্ধি হবে কি করে? মন নির্মল না হলেকি স্থির ও শান্তহয়? আর তা নাহলে কি ধ্যান সহজেহয়? কর্ম করবার সময়েইঠিক ঠিক আপনার পরীক্ষাহয়, নিজের মুরদ কতজানা যায়। মনে কতকি গলদ আছে, বিষয়বাসনার দিকে কতটা টানবা আসক্তি আছে, স্বার্থপরতাকতটা আছে, সহ্যগুণ কিরকমআছে, এগুলো ক্রমশঃ বাড়ছেকি কমছে– এসকল জানবারউপায় একমাত্র কর্ম, এবং কর্মেরভিতর দিয়েই তার প্রতিকারসহজ। সদসদ্বিচার, অন্তর্দৃষ্টি ও আত্মপরীক্ষার ভাবথাকলে মন ক্রমশঃ নির্মলও নিষ্কাম হয়, অহংভাব নাশহয়, হৃদয়ে প্রেম আসে।তখন আর কর্মে কর্মবোধথাকে না, কর্ম বন্ধনেরহেতু না হয়ে মুক্তিরহেতু হয়। অর্থাৎ কর্মইতখন পূজা হয়ে দাঁড়ায়, কর্মে ও ঈশ্বরের উপাসনায়– নারায়ণ–জ্ঞানে জীবসেবায় ওভক্তিতে– প্রভেদ বোধ থাকেনা। সেই হলো ঠিকভক্তি। আর তা লাভকরবার স্বাভাবিক উপায় হচ্ছে কর্মযোগ।