“সঙ্ঘজীবনে বিরল তপস্যাব্রত দৃষ্টান্তে অসাধারণ মহিমায় স্বামী তুরিয়ানন্দজী

“সঙ্ঘজীবনে বিরল তপস্যাব্রত দৃষ্টান্তে অসাধারণ মহিমায় স্বামী তুরিয়ানন্দজী”
===========================
      ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অন্তরঙ্গ ও বিশেষকৃপাপ্রাপ্ত ত্যাগী সন্ন্যাসী সন্তান স্বামী তুরীয়ানন্দজী মহারাজ।  হরিলুটের সন্তান বলিয়া পিতা চন্দ্রনাথ নবজাতকের নাম রাখিয়াছিলেন হরিনাথ, যাঁর আজ শুভ জন্মতিথি। বাল্যকালে শরীরচর্চা ও ব্রহ্মচর্য পালনে হরিনাথের একটু মাত্রাধিক্য দেখা যাইত। গঙ্গাস্নানে তাঁহার বিশেষ প্রীতি ছিল।  আচারনিষ্ঠ হইলেও হরিনাথ গুণগ্রাহী ছিলেন। হরিনাথের বয়স তখন তের কি চৌদ্দ বৎসর। দীননাথ বসুর বাটীতে প্রথম শ্রীশ্রীঠাকুরের সন্দর্শনের দুই-তিন বৎসর পরে [সম্ভবত ১৮৭৯ বা ১৮৮০ খ্রীঃ] হরিনাথের দক্ষিণেশ্বরে যাতায়াত আরম্ভ হয়।
      হরিনাথ একদিন ঠাকুরকে প্রশ্ন করিলেন, “মশাই, কামটা একেবারে যায় কি করে ?”  ঠাকুর উত্তর দিলেন, “যাবে কেন রে ?  মোড় ফিরিয়ে দে না !”  হরিনাথ জানিতেন, যুদ্ধ করিয়াই সমস্ত মনোবৃত্তিকে পরাজিত করিতে হয়। আবার অবাক হইলেন, যখন তিনি উহার প্রত্যক্ষ ফল দেখিতে পাইলেন। 
      হরি মহারাজকে সাধারণত শুষ্কজ্ঞানী বলিয়া মনে হইলেও বস্তুত শ্রীশ্রীঠাকুরের শিক্ষাগুণে তাঁহাতে জ্ঞান ও ভক্তির অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়াছিল।  শাস্ত্রপাঠ শ্রবণেও তাঁহার বিশেষ রুচি ছিল। পাঠ শেষে হরি  মহারাজ দীর্ঘকাল ধরিয়া পঠিত বিষয়ে নব আলোকপাত করিতেন কিংবা শ্রোতাদিগের সন্দেহাদি নিরাস করিতেন। তিনি সাধারণত প্রতিকার্য যথাসময়ে করিতে অভ্যস্ত ছিলেন এবং প্রাতঃকৃত্য, ধ্যান, ভ্রমণ, পাঠ, স্নান, আহার—এই ক্রম ঘড়ির মতো পালিত হইত।
      হরিনাথ ঠাকুরকে অবতার বলিয়া জানিয়াছিলেন।  প্রশ্ন করিলেন, “কেমন আছেন ?”  ঠাকুর বলিলেন, “বড় কষ্ট হচ্ছে, খেতে পাচ্ছি না, অসহ্য জ্বালাযন্ত্রণা হচ্ছে।”  আপনি যাহাই বলুন না কেন, আমি দেখছি আপনি অসীম আনন্দের সমুদ্র।”  ইহা শুনিয়া ঠাকুর মৃদহাস্যে আপনমনে বলিলেন, “শালা ধরে ফেলেছে রে !”
      মহাপ্রয়াণের দিনে করজোড়ে বলিলেন, “জয় গুরুদেব, জয় গুরুদেব,জয় রামকৃষ্ণ,জয় রামকৃষ্ণ !  বল, বল, তিনি সত্যস্বরূপ, জ্ঞানস্বরূপ।”  হরি মহারাজ, আর বলিলেন, “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ সত্য, সব সত্য—সত্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত।”
            ♣♣♣♦♦♣♣♣

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started