Mon _ Swami Bhuteshananda


মন
প্রশ্ন: আমার তো এইটুকু মন, কি করে নিজেকে বিশ্লেষণ করব?
উত্তর: খুব হবে! তোমার এইটুকু মন দিয়ে অনেক চিন্তা করে চাকরি হলো, ছেলে হলো, নাতি হলো। তবে চিন্তা করতে পারবে না কেন?
জানামি ধর্মং মে প্রবৃত্তিঃ/ জানাম্যধর্মং মে নিবৃত্তিঃ।
আর তোমাদের হলোহরি, তোমার নাম তুমি কর হে, আমরা কি করি! ‘একটু এই পথে চলবললে বলবেআপনি নিয়ে চলুন!’ ‘এখানে আসো না কেন জিজ্ঞাসা করলে বলে, ‘আপনি নিয়ে আসুন মানে কিছু করব না!
প্রশ্ন: সময় করতে পারলে আপনার কাছে ছুটে আসি, নিজে কিছু করার সামর্থ্য আছে বলে বুঝি না। এই ছুটে আসা ব্যর্থ হবে না তো?
উত্তর: ছুটে আসা ব্যর্থ হবে কেন? সৎসঙ্গে আসা ব্যর্থ হবে কেন? কিন্তু নিজেকে তৈরি করতে হবে। শুধু কৌতূহলবশে ছুটে এলুম আর গল্প করে কাটিয়ে দিলুম তাহলে তো সৎসঙ্গ ঠিক হলো না। সৎসঙ্গ বলতে ভগবানের সঙ্গ, সেই সঙ্গ সম্বন্ধে চেতনা থাকা দরকার, তা না থাকলে সঙ্গ হয় না
প্রশ্ন: ভগবান কাকেও অধোগামী আবার কাকেও ঊর্ধ্বগামী করেন। এটি কি ভগবান আধার বুঝে করেন?
উত্তর: তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী হয়। না, আধার বুঝে নয়! আধারকে আবার কে সৃষ্টি করলেন? আধারও তাঁরই সৃষ্টি!
যং যং কাময়ে তং তমুগ্রং কৃণোমি /তং ব্রহ্মাণং তমৃষিং তং সুমেধাম্।।
জগৎ জননী বলছেন—‘আমার যাকে ইচ্ছে তাকেই (আমার প্রিয়কে) আমি সর্বশ্রেষ্ঠ করি; আমি কাউকে ব্রহ্মা, কাউকে ঋষি এবং কাউকে অতি ব্রহ্মমেধাবান করি।
প্রশ্ন: জগৎ সংসারে যা কিছু তা কি বিভিন্ন অনুভূতির ওপর নির্ভর করবে?
উত্তর: অনুভূতি মাত্রই সত্য হতে পারে না। সত্যের ভিতরে consistency আছে। সত্য বহুরূপী হয় না; যা আলো তা কখনও অন্ধকার নয়
প্রশ্ন: প্রারব্ধ আর কর্মফলের পার্থক্য কি?
উত্তর: প্রারব্ধও এক রকমের কর্মফল। যেসব কর্ম পূর্বজন্মে করা ছিল এবং জন্মে ফল দিতে আরম্ভ করেছে, সেগুলি প্রারব্ধ। আর এখন যা ভোগ করছি এবং পরেও যা ভোগ করব তাও ব্যাপক অর্থে কর্মফল
প্রশ্ন: ‘তন্মাত্রাকাকে বলে?
উত্তর: একটি বস্তুর সূক্ষ্মরূপকে তন্মাত্রা বলে। যেমন পঞ্চধাতু দিয়ে ধরিত্রী তৈরি, এই পঞ্চধাতু হলো তন্মাত্রা যা unmixed অথবা unalloyed.
প্রশ্ন: ভবরোগ মানে কি?
উত্তর: ভবরোগ মানে সংসার রোগ। দগ্ধে দগ্ধে মরছে তবু সংসারকে চায়। শুধু কর্তব্য করলে এত জ্বালাপোড়া হতো না, ভাবত যে আমি কেবল কর্তব্য করছি। চণ্ডীতে আছেকিমেতন্নাভিজানামি জানন্নপি মহামতে।/ যৎ প্রেমপ্রবণং চিত্তং বিগুণেষ্বপি বন্ধুষু।।স্ত্রীপুত্রাদি আমার প্রতি স্নেহহীন হলেও আমার চিত্ত কেন তাদের প্রতি মমতা পরায়ণ তা আমি বুঝেও বুঝতে পারছি না।অনেকেরই এই অবস্থা, ছেলে জ্বালাতন করছে, তবু ছেলে তো। কর্তব্য বলে নয় কর্তব্য করলে তো আর কল্যাণই হতো। এই মায়া, দাসত্ব। আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে মারছে! মানুষ মুক্তি চায় না, মুক্তি দিতে এলে আঁতকে ওঠে। বুড়ি মাথায় কাঠের বোঝা নিয়ে চলেছে, আর পারছে না। যমকে সে অন্তরের সঙ্গে ডেকে বলছে, বাবা তুমি আমাকে নাও, আর পারি না। যম এসেছে তাকে নিতে তখন বুড়ি বলছে, বাবা এসেছ যখন কাঠের বোঝাটা মাথায় তুলে দাও
প্রশ্ন: ভাব কাকে বলে?
উত্তর: ভাব মানে অস্তিত্ব বা থাকা। অভাব মানে না থাকা
প্রশ্ন: ‘ভাবরাজ্যে চুরিকি?
উত্তর: মনে একরকম ভাবা, বাইরে অন্যরকম ব্যক্ত করাভাবরাজ্যে চুরি
প্রশ্ন: স্মৃতি আর অবচেতন মন কি একই? অবচেতন মনকে কি জানা যায়?

উত্তর: না, এক নয়। অবচেতন মনকে জানার উপায় নেই; এটি যখন ওপরে ভেসে ওঠে তখন জানা যায়, স্বপ্নে রকম হয়। Conscious, subconscious, unconscious—এগুলি মনের বিভিন্ন স্তর। যা Sub-conscious- থাকে, মাঝে মাঝে তাকে উদ্দীপকের সাহায্যে মনে পড়ে। যেমন ছেলেবেলার কোন ঘটনা যা ভুলে গিয়েছিলাম, তা উদ্দীপকের সাহায্যে মনে পড়ল।এ
স্বামী ভূতেশানন্দের অমৃতকথা থেকে

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started