“ধর্ম-জীবন কখনও নিরাপদ মনে করো না। যতদিন দেহ থাকবে ততদিন প্রলোভন আসবেই!”

Swami Turiyananda
Swami Turiyananda 

স্বামী তুরীয়ানন্দজী গুরুদাস মহারাজকে আমেরিকাতে বলেছিলেন, 

“ধর্ম-জীবন কখনও নিরাপদ মনে করো না। যতদিন দেহ থাকবে ততদিন প্রলোভন আসবেই!” তারপর এই গল্পটি বললেনঃ জনৈক প্রাচীন সাধু গ্রামের ধারে এক জঙ্গলে বাস করতেন। তিনি ধ্যানজপ শাস্ত্রপাঠেই সময় কাটাতেন। স্বীয় কুটির ছেড়ে বেশি দূরে যেতেন না। কম লোকই তাঁর কুটিরে আসত। গ্রামবাসীরা তাঁর কাছে ধর্মোপদেশ নিতে এসে সাধুকে যে ডালচাল শাকসব্জী দিত তাতেই তাঁর আহার চলত। তিনি গভীর জঙ্গলে থাকায় কোন স্ত্রীলোক ঐদিকে আসত না। অজন্য ত্রিশ বছর যাবৎ কোন নারী তাঁর নয়ন-পথে পতিত হয় নি। একদিন হঠাৎ নারীহস্তস্থিত কংকণাদির মধুর ধ্বনি তাঁর কর্ঙোচর হল। তিনি অজ্ঞাতসারে উঠে নারীমুখ-দর্শনে চললেন। তিনি কি করতে যাচ্ছেন তা ভাববার সময় তাঁর হল নাঃ লোহা যেমন চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় তিনি তদ্রুপ নারী কর্তৃক আকৃষ্ট হলেন। কিছুদূর অগ্রসর হতেই তাঁর চমক ভাঙল , বিবেক জাগল। তিনি ভাবলেন, “আমি কি করতে যাচ্ছি? ত্রিশ বৎসর যা দেখিনি তার দ্বারাই এই বৃদ্ধ বয়সে প্রলুব্ধ হলাম? রে পদযুগল, তোদের শাস্তি দেব। তোরা এই দেহ কোথাও বহন করতে পারবি না”- এই বলে সেখানে বসে পড়লেন। তিনি যে কয় বৎসর বেঁচেছিলেন , সেই স্থানেই ছিলেন, একপাও অন্যত্র যাননি। সাধনার পথে যেমন দুর্লংঘ্য অন্তরায় আছে তেমনি অদম্য অধ্যবসায় ও ইচ্ছাশক্তি চাই । 

– স্বামী জগদীশ্বরানন্দ

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started