গুরু শিষ্যকে বললেন , *” সংসার মিথ্যা ; তুই আমার সঙ্গে চলে আয় | “*
শিষ্য গুরুকে বলেছিল , *” আমার স্ত্রী বড় যত্ন করে , ওর জন্য গুরুদেব যেতে পারছি না | “*
শিষ্যটি হঠযোগ করত | তাই গুরু তাকে একটি ফন্দি শিখিয়ে দিলেন | একদিন তার বাড়িতে খুব কান্নাকাটি পড়েছে | পাড়ার লোকেরা এসে দেখে হঠযোগী ঘরে আসনে বসে আছে —- এঁকে বেঁকে ,আড়ষ্ট হ’য়ে | সব্বাই বুঝতে পারলে , তার প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেছে | স্ত্রী আছড়ে কাঁদছে , *” ওগো , আমাদের কি হ’ল গো —— ওগো তুমি আমাদের কি ক’রে গেলে গো —- ও দিদি গো, এমন হবে তা জানতাম না গো !”*
এ দিকে আত্মীয় বন্ধুরা খাট এনেছে , ওকে ঘর থেকে বার করছে |
*” এখন কি গোল হ’ল | এঁকে বেঁকে আড়ষ্ট হ’য়ে থাকাতে সে দ্বার দিয়ে বেরুচ্ছে না | তখন একজন প্রতিবেশী দৌড়ে একটি কাটারি লয়ে দ্বারের চৌকাঠ কাটতে লাগল |
স্ত্রী অস্থির হ’য়ে কাঁদছিল , সে দুম্ দুম্ শব্দ শুনে দৌড়ে এল | এসে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করলে , *ওগো কি হ’য়েছে গো |* তারা বললে, * ইনি বেরুচ্ছেন না , তাই চৌকাট কাটছি |* তখন স্ত্রী বললে, * ওগো অমন কর্ম করো না গো | —– আমি এখন বেওয়া হলুম | আমার আর দেখবার লোক কেউ নেই , কটি নাবালক ছেলেকে মানুষ করতে হবে ! এ দোয়ার গেলে আর তো হবে না | ওগো , ওঁর যা হবার তা তো হয়ে গেছে —– হাত পা ওঁর কেটে দাও ! “* তখন হঠযোগী দাঁড়িয়ে পড়ল | তার তখন ঔষধের ঝোঁক চলে গেছে | দাঁড়িয়ে বলছে , *”তবে রে শালী , আমার হাত পা কাটবে |”* এই বলে বাড়ি ত্যাগ ক’রে গুরুর সঙ্গে চলে গেল |
স্ত্রী অস্থির হ’য়ে কাঁদছিল , সে দুম্ দুম্ শব্দ শুনে দৌড়ে এল | এসে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করলে , *ওগো কি হ’য়েছে গো |* তারা বললে, * ইনি বেরুচ্ছেন না , তাই চৌকাট কাটছি |* তখন স্ত্রী বললে, * ওগো অমন কর্ম করো না গো | —– আমি এখন বেওয়া হলুম | আমার আর দেখবার লোক কেউ নেই , কটি নাবালক ছেলেকে মানুষ করতে হবে ! এ দোয়ার গেলে আর তো হবে না | ওগো , ওঁর যা হবার তা তো হয়ে গেছে —– হাত পা ওঁর কেটে দাও ! “* তখন হঠযোগী দাঁড়িয়ে পড়ল | তার তখন ঔষধের ঝোঁক চলে গেছে | দাঁড়িয়ে বলছে , *”তবে রে শালী , আমার হাত পা কাটবে |”* এই বলে বাড়ি ত্যাগ ক’রে গুরুর সঙ্গে চলে গেল |
অনেকে ঢং করে শোক করে | কাঁদতে হবে জেনে আগে নথ্ খোলে আর গহনা সব খোলে ; খুলে বাক্সের ভিতর চাবি দিয়ে রেখে দেয় | তারপর আছড়ে এসে পড়ে , আর কাঁদে , ওগো , দিদিগো , আমার কি হ’ল
গো !”* ||
গো !”* ||
|| শ্রীরামকৃষ্ণ ||