এক ধনী পরিবারের তরুণী বধূর কথা।

পথপ্রদর্শক শ্রীশ্রীমা ( ২য় পর্ব ) 

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

      এক ধনী পরিবারের তরুণী বধূর কথা।

      সুশীলা এবং পরমা সুন্দরী এই বধূ। শ্বশুরবাড়ীর সকলেই তাঁহার প্রতি স্নেহশীল ; কিন্তু পতির ছিল সন্দেহ-বাতিক, পত্নীকে তিনি মধ্যে মধ্যে বড়ই কটু কথা বলিতেন। এইজন্য পতিপত্নীতে সদ্ভাব ছিল না, সংসারেও শান্তি ছিল না। অবশেষে লাঞ্ছনার মাত্রা ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করিলে বধূটি অসহিষ্ণু হইয়া পিত্রালয়ে চলিয়া গেলেন।
     পিতৃকুল বিপুল সম্পদের অধিকারী, কোনই অভাব নাই। তাঁহারা স্থির করিলেন, কন্যাকে আর লাঞ্ছনা সহিতে পতিগৃহে পাঠাইবেন না। কন্যাও অনেক মনস্তাপ পাইয়া স্থির করিয়াছেন, পতির নিকট আর ফিরিয়া যাইবেন না। এইভাবে উভয় পরিবারের মধ্যে ঘনাইয়া উঠে মনোমালিন্য এবং বিদ্বেষ। কন্যার পতি এবং শাশুড়ীর মানসিক অবস্থাও তখন এতই উত্তেজিত যে, তাঁহারা স্থির করিয়াছেন, বধূ যত ধনী পরিবারের কন্যাই হউক না কেন, তাহাকে আর গ্রহণ করিবেন না।
         কন্যার শাশুড়ী এবং পিতামহী উভয়েই মাতাঠাকুরাণীর পরিচিত। কন্যা নিজেও ছিলেন মায়ের দীক্ষিতা, মা তাঁহাকে অতিশয় স্নেহ করিতেন। তাঁহার দুঃখে মায়ের প্রাণ বিচলিত হইল, তিনি কন্যাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন।
          কন্যা মাকে দর্শন করিতে আসিলে মা তাঁহাকে আদর করিয়া বলিলেন, — রাজার মেয়ে হ’য়েও গৌরী মহাদেবের সংসার করেন, সিদ্ধি ঘোঁটেন, স্বামীর ঘরে থাকতে তিনি আপত্তি করেন না। বাপ রাজা হ’লেও পতিই সতীর সর্বস্ব। মাগো, তুমি স্বামীর কাছে ফিরে যাও। সব দুঃখু স’য়ে পড়ে থাকো সেখানে। সৎসন্তান আসুক, মহতের বংশরক্ষে হোক, সাধুসেবা হবে। আমি প্রাণ খুলে আশীর্বাদ করছি, মা, তোমার শেষ ভাল হবে।
          গুরুর নির্দেশে কন্যা পূর্বের সঙ্কল্প ত্যাগ করিলেন, পিতৃগৃহ ত্যাগ করিয়া পুনরায় গিয়া পতিসেবায় আত্মনিয়োগ করাই তিনি স্থির করিলেন। সকলে দেখিয়া বিস্মিত হইল, মান-অভিমান বিসর্জন দিয়া ধনীর কন্যা স্বেচ্ছায় পতিগৃহে ফিরিয়া আসিয়াছেন। পতিও তাঁহাকে এইবার সাদরে গ্রহণ করিলেন। মায়ের সুপরামর্শে দুই পরিবারে শান্তি ও সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হইল।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started