![]() |
| Vivekananda |
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
![]() |
| Vivekananda in London, |
১৮৯৫ | বিবেকানন্দ লন্ডনে |
![]() |
| Vivekananda in London, |
![]() |
| Vivekananda in London, |
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সেদিন লেডি ইসাবেল মার্গেসন-এর বাড়িতে একটি ছোট্ট আলোচনা সভায় তাঁর কিছু বলার কথা |বিষয়‚ হিন্দু ভাবনা |ছোট্ট সভা‚ মাত্র পনেরো জন শ্রোতার সমাবেশ |বিবেকানন্দের একেবারে সামনে‚ প্রথম সারিতে‚ একটি আসন খালি |সে এল একটু দেরি করে |বিবেকানন্দ দেখলেন এই নবাগতাকে |নবাগতারও চোখ পড়ল সরাসরি বিবেকানন্দের চোখে |মিস মার্গারেট নোবলকে এই প্রথম দেখলেন বিবেকানন্দ |আর দেখেই যেন চিনতে পারলেন ভবিষ্যতের সিস্টার নিবেদিতাকে | নিবেদিতার মনে হল‚ এই মানুষটির সামনে প্রতিদিন নতজানু হওয়া যায় |প্রতিদিন আমি‚ হে জীবনস্বামী‚ দাঁড়াব তোমারি সম্মুখে |মিশরে বিবেকানন্দ |সেখানে বেড়াতে এসেছেন একান্ত ভক্ত ফরাসি নৃত্যশিল্পী শ্রীমতি কালভের সঙ্গে |বিবেকানন্দ ক্লান্ত |গত ন’ বছরে শুধু কাজ করেছেন তিনি |নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন কর্মব্রত পালন করতে|তিনি ক্রমেই অসুস্থ |তিনি কাঁদছেন আর বলছেন‚ আমি দেশে ফিরতে চাই |কালভেকে বললেন‚ আমি দেশে ফিরতে চাই‚ গুরুভাইদের সান্নিধ্যে মরবার জন্যে |আমার মৃত্যুদিন ৪ ঠা জুলাই !১৯০২ -এর ২১শে জুন |পরমভক্ত ও বন্ধু সিস্টার ক্রিশ্চিন-কে তাঁর শেষ চিঠিতে বিবেকানন্দ লিখলেন‚ আমার কথাটি ফুরলো‚ নটে গাছটি মুড়লো |১৯০২ – এর ২রা জুলাই | মহাপ্রয়াণের দু-দিন আগে |নিবেদিতাকে নেমন্তন্ন করলেন বিবেকানন্দ |খাওয়ালেন কাঁঠালের বিচিসিদ্ধ‚ আলুসিদ্ধ‚ সাদা ভাত‚ বরফ দিয়ে ঠান্ডা করা দুধ |খাবার সময় কত কৌতুক আর মজা করে গল্প করলেন বিবেকানন্দ !খাওয়ার পরে‚ নিবেদিতা প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও‚ কী গভীর স্নেহে তাঁর হাত ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে দিলেন |— এ কী করলেন আপনি‚ এ তো আমার করা উচিত আপনাকে !বললেন বিস্মিত নিবেদিতা |— ক্রাইস্ট তো শিষ্যদের পা ধুয়ে দিয়েছিলেন‚ উত্তর দিলেন বিবেকানন্দ |কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে নিবেদিতা বললেন‚ কিন্তু সে তো শেষ সময়ে |বিবেকানন্দ হেসে বললেন‚ ইউ সিলি গার্ল —১৯০২ – এর ৪ঠা জুলাই |ভোরবেলা ঘুম ভাঙল বিবেকানন্দের |তাকালেন ক্যালেন্ডারের দিকে |আজই তো সেইদিন |আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস |আর আমার দেহত্যাগের দিন |মা ভুবনেশ্বরীর মুখটি মনে পড়ল তাঁর |ধ্যান করলেন সেই দয়াময়‚ প্রসন্ন মুখটি |বুকের মধ্যে অনুভব করলেন নিবিড় বেদনা |তারপর সেই বিচ্ছেদবেদনার সব ছায়া সরে গেল |ভারী উৎফুল্ল বোধ করলেন বিবেকানন্দ |তাঁর মনে আজ নতুন আনন্দ |তাঁর শরীরে আজ নতুন শক্তি |তিনি অনুভব করলেন তাঁর সব অসুখ সেরে গেছে |শরীরে আর কোনও কষ্ট নেই |বিবেকানন্দ ডুবে গেলেন ধ্যানমগ্ন উপাসনায় |উপাসনার পরে গুরুভাইয়ের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করতে-করতে সামান্য ফল আর গরম দুধ খেলেন |বেলা সাড়ে আটটা নাগাদ প্রেমানন্দকে ডেকে বললেন‚ আমার পূজার আসন কর ঠাকুরের পূজাগৃহে |সকাল সাড়ে নটায় স্বামী প্রেমানন্দও সেখানে এলেন পূজা করতে |বিবেকানন্দ একা হতে চান |প্রেমানন্দকে বললেন‚ আমার ধ্যানের আসনটা ঠাকুরের শয়নঘরে পেতে দে |এখন আমি সেখানে বসেই ধ্যান করব |অন্যদিন বিবেকানন্দ পুজোর ঘরে বসেই ধ্যান করেন |আজ ঠাকুরের শয়নঘরে প্রেমানন্দ পেতে দিলেন তাঁর ধ্যানের আসন |ধ্যানে বসেছেন বিবেকানন্দ |ধ্যানের মধ্যে তাঁর মনে হল‚ তিনি ঘরে একা নন |ঘরে এত আলো কেন ?এ যে একেবারে আলোর সমুদ্র | আলোর ঢেউ |সেই আলোরই একটি ঢেউ শ্রীরামকৃষ্ণের রূপ ধরে সামনে দাঁড়িয়ে |শ্রীরামকৃষ্ণের এ কীঅপরূপ রূপ !বিবেকানন্দ ধ্যানের মধ্যে বলে ওঠেন‚ ঠাকুর ! তুমি এসেছো !শ্রীরামকৃষ্ণের মুখে সেই হাসি‚ সেই আনন্দ |বিবেকানন্দের বুকের মধ্যে ধ্বনিত হল শ্রীরামকৃষ্ণের কণ্ঠস্বর |নরেন‚ আমি এসেছি‚ তোকে এইটুকু জানাতে‚ তোর কাজ ফুরিয়েছে |আর কোনও কাজ বাকি নেই নরেন |নরেন‚ আমি জানি‚ তোর মনে পড়ে গেছে তুই কে‚ কোথা থেকে এসেছিস মর্ত্যধামে‚ কার কাজে তুই পৃথিবীতে এসেছিস‚ সব এখন জানিস তুই | তোর সব মোহ-আবরণ ক্ষয় হয়েছে নরেন | আমিই তো তোকে ডেকেছিলুম পৃথিবীতে | এবার আমিই তোর বিদায়ের দরজা খুলে দিলুম | তোর ইচ্ছামৃত্যু নরেন | আর দেরি করিসনি | এবার ফিরে আয় | দরজাটুকু পার হলেই দেখবি আমি দাঁড়িয়ে আছি তোর জন্যে | তোকে ছেড়ে আর যে থাকতে পারছিনি রে !বেলা ১১টা পর্যন্ত ধ্যান করলেন বিবেকানন্দ তারপর মন্দির প্রাঙ্গণে পায়চারি করছেন আর গাইছেন:মা কি আমার কালো ?কালোরূপা এলোকেশী হৃদিপদ্ম করে আলো |স্বামীজি গান গাইছেন |পিছনেই প্রেমানন্দ |বিবেকানন্দ হেসে বললেন‚ তাড়াতাড়ি আজ খাওয়াদাওয়া সেরে নে |আজ আমি নিজের ঘরে একলা খাচ্ছিনে |সবার সঙ্গে খেতে বসব |সকালবেলা বেলুড়ঘাটে জেলের নৌকো ভিড়েছিল |নৌকো ভর্তি গঙ্গার ইলিশ |বিবেকানন্দ মহা উৎসাহে ইলিশ কিনিয়েছেন |তাঁরই আদেশে রান্না হয়েছে ইলিশের নানারকম পদ |গুরুভাইদের সঙ্গে মহানন্দে ইলিশভক্ষণে বসলেন বিবেকানন্দ |তিনি জানেন আরও মাত্র কয়েক ঘণ্টার পথ |ডাক্তারের বারণ শুনে চলার আর প্রয়োজন নেই |তিনি পেটভরে খেলেন ইলিশের ঝোল‚ ইলিশের অম্বল‚ ইলিশ ভাজা |দুপুরে মিনিট পনেরো বিছানায় গড়িয়ে নিলেন বিবেকানন্দ |তারপর প্রেমানন্দকে বললেন‚ সন্ন্যাসীর দিবানিদ্রা পাপ |চল একটু পড়াশোনা করা যাক |
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
![]() |
| Vivekananda in London, |
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});




