শিশুগণ মনে করে, ইন্দ্রিয়সুখই হইল তাহাদের লভ্য সুখগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ।
আপনারা প্রায় সকলেই জানেন যে, মানবজীবনে ইন্দ্রিয়স্মভোগ অপেক্ষা বুদ্ধিজ সম্ভোগ অধিকতর তৃপ্তিপ্রদ । আহার হইতে কুকুর বা শূকর যে আনন্দ পায়, আমি তাহার কথা বলিতেছি না । আহার গ্রহণ কালে তাহাকে হত্যা করিলেও সে গ্রাহ্য করিবে না । ঐ কালে শূকর টির আনন্দসম্ভোগ কত তীব্র । কোন মানুষেরই এই তীব্র সম্ভোগানুভূতি নাই । মানুষের সে অনুভূতি কোথায় গেল ? মানুষ ইহাকে বুদ্ধিজ ভোগে পরিণত করিয়াছে । শুকর ধর্ম সম্বন্ধীয় বক্তৃতা উপভোগ করিতে পারে না । বুদ্ধি সাহায্যে উপভোগ অপেক্ষাও উহা উচ্চতর ও তীব্রতর স্তরে ঘটিয়া থাকে ; ইহাই হইল আধ্যাত্মিক স্তর, ইহাই ঐশী বস্তুর আত্মিক সম্ভোগ, ইহা বুদ্ধি ও যুক্তির ঊর্দ্ধে অবস্থিত । ইহা লাভ করিতে হইলে আমাদের এই-সকল ইন্দ্রিয় সুখ পরিত্যাগ করিতে হইবে । জীবনে ইহারই সর্বশ্রেষ্ঠ উপযোগিতা আছে।
