সন্ন্যাস আশ্রমের কথা হইতেছে। খুব কঠিন আশ্রম। দুর্গাপদ বলিতেছেন, ঠাকুর সন্ন্যাসের যে আদর্শ দিয়ে গেছেন সেরুপ সন্ন্যাসী দেখা যায় না প্রায়। আজকালের সন্ন্যাস-আশ্রম নেমে গেছে।
শ্রীম (বাধা দিয়ে) –সন্ন্যাস কত বড় আশ্রম। বললেই হলো কিচ্ছু না। দেখনা যেখান থেকে মানুষ পালাচ্ছে সেখানে সন্ন্যাসীরা যাচ্ছে। প্রাণের ভয় নাই। লাহোরে প্লেগ হয়েছে। রোজ পঞ্চাশজন লোক মরছে। মঠের সন্ন্যাসীরা সেখানে গেছেন সেবা করতে। মুখে বললে কি হয়? কাজ দেখ তাঁদের। পুলী বাইরে থেকে দেখতে সব সমান। কিন্তু কারো ভিতর ক্ষীরের পুর, কারো ভিতর কড়ার ডাল।
সন্ন্যাস মানে এই নয় সকলেই শুকদেব হয়ে যাবে। সন্ন্যাস মানে, সংসারের বাইরে চলে যাওয়া। বাপ মা পরিবারের বন্ধনের বাইরে যাওয়া। সেখান থেকে চেষ্টা করছে। রাস্তায় উঠেছে। ওখান থেকে ঈশ্বরের দিকে এগুতে বিঘ্ন কম। Vantage ground-এ (অনুকূল স্থানে) দাঁড়িয়ে আছে। মুড়ি মিছরীর একদর করলে চলবে কেন?
দুর্গাপদ – ঠাকুরের সন্ন্যাসের আদর্শ কি তা ছিল?
শ্রীম – না, তা নয়। তবে সন্ন্যাসীদের ঐরূপ। ঠাকুর কারোও formal (আনুষ্ঠানিক) সন্ন্যাস দেন নাই। তবে organization (সঙ্ঘ) রাখলে হলে একটা Institution (অনুষ্ঠান, প্রথা) চাই। তাই মঠে সন্ন্যাস সংস্কার দেওয়া হয়। তিনি ভিতর ফাঁক করে দিতেন। দেখতেই সব সাধারণ মানুষ; কিন্তু তাঁদের ভিতর ফাঁক – ভিতরে সন্ন্যাস। তিনি দেখতেন, কিসে ঈশ্বর লাভ হয়। সেটি আলাদা জিনিষ। ফার্স্ট ক্লাস। ফার্স্ট ক্লাশ সন্ন্যাস হলো না ব’লে সন্ন্যাস কিছু নয় বলা চলে না। সেকেন্ড ক্লাশ, থার্ড ক্লাশ আছে। তবুও সন্ন্যাসী। এঁরা প্রণম্য যারা ঘরে আছে তাদের। সন্ন্যাসী আর গৃহস্থের difference (পার্থক্য) যেমন সুমেরু পর্বত আর সরষে কণা, অথবা মহাসাগর আর গোষ্পদের জল। – শ্রীম দর্শন।।