বিশ্বায়ন – বসুধৈব কুটুম্বকম্
=====================
আর্কিবল্ড স্টার্ক ও এলেনর স্টার্ক – আমেরিকাবাসী লেখক দম্পতি লিখেছেন, “কলম্বাস আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকার ভূখণ্ডটি, বিবেকানন্দ আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকার আত্মা।” স্বামীজীর আদর্শ হল প্রথমে দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেমের হাত ধরে বিশ্বপ্রেম। দেশকে ভালো না বাসলে পৃথিবীকে ভালোবাসবে কি করে ? নিজের মাকে যদি ভালো না বাসো, তার জন্য কিছু না কর, তবে বিশ্ব-জননীকে ভালোবাসবে কি করে ?
বর্তমানে বিশ্বায়ন নিয়ে এমন হইচই হলেও ‘বিশ্বায়ন’ ব্যাপারটি অতি প্রাচীন। বিশ্বায়নের প্রথম অভিযাত্রা অতীত ভারত থেকে। সিন্ধু সভ্যতার যুগে সুমেরীয় সভ্যতার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল। অবশ্য অনেক পরে বাণিজ্যের মুখোশে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের সূচনা। এ ব্যাপারে পর্তুগীজ, স্পেনীয়, ডাচ ও ব্রিটিশ বণিকদের মধ্যে ব্রিটিশরাই সকলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদই আধুনিক যুগে গোটা পৃথিবীকে বাহ্যিক দিক দিয়ে এক করতে শুরু করে। বিশ্বায়ন মূলত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হলেও এর প্রভাব জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও পড়ে। স্বামীজীর বিখ্যাত উক্তি এখানে স্মরণ করা যেতে পারে – বিস্তারই জীবন, সংকোচনই মৃত্যু। মুক্ত-অর্থনীতি, মুক্ত বাজার খচিত এই বিশ্বায়ন মানুষের কাছে বিস্তারের অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে – যা স্বামীজীর কাছে জীবনের অপরিহার্য লক্ষণ। তবে তাঁর কাছে বিস্তার বলতে হৃদয়ের বিস্তার। যার বীজ নিহিত প্রাচীন ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ বাণীতে। যার সার্থকরূপ প্রতিফলিত হয় শ্রীমা সারদাদেবীর জীবনে এবং বাণীতে – ‘জগতকে আপনার করে নিতে শেখো। কেউ পর নয় মা, জগৎ তোমার।’
=====================
আর্কিবল্ড স্টার্ক ও এলেনর স্টার্ক – আমেরিকাবাসী লেখক দম্পতি লিখেছেন, “কলম্বাস আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকার ভূখণ্ডটি, বিবেকানন্দ আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকার আত্মা।” স্বামীজীর আদর্শ হল প্রথমে দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেমের হাত ধরে বিশ্বপ্রেম। দেশকে ভালো না বাসলে পৃথিবীকে ভালোবাসবে কি করে ? নিজের মাকে যদি ভালো না বাসো, তার জন্য কিছু না কর, তবে বিশ্ব-জননীকে ভালোবাসবে কি করে ?
বর্তমানে বিশ্বায়ন নিয়ে এমন হইচই হলেও ‘বিশ্বায়ন’ ব্যাপারটি অতি প্রাচীন। বিশ্বায়নের প্রথম অভিযাত্রা অতীত ভারত থেকে। সিন্ধু সভ্যতার যুগে সুমেরীয় সভ্যতার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল। অবশ্য অনেক পরে বাণিজ্যের মুখোশে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের সূচনা। এ ব্যাপারে পর্তুগীজ, স্পেনীয়, ডাচ ও ব্রিটিশ বণিকদের মধ্যে ব্রিটিশরাই সকলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদই আধুনিক যুগে গোটা পৃথিবীকে বাহ্যিক দিক দিয়ে এক করতে শুরু করে। বিশ্বায়ন মূলত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হলেও এর প্রভাব জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও পড়ে। স্বামীজীর বিখ্যাত উক্তি এখানে স্মরণ করা যেতে পারে – বিস্তারই জীবন, সংকোচনই মৃত্যু। মুক্ত-অর্থনীতি, মুক্ত বাজার খচিত এই বিশ্বায়ন মানুষের কাছে বিস্তারের অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে – যা স্বামীজীর কাছে জীবনের অপরিহার্য লক্ষণ। তবে তাঁর কাছে বিস্তার বলতে হৃদয়ের বিস্তার। যার বীজ নিহিত প্রাচীন ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ বাণীতে। যার সার্থকরূপ প্রতিফলিত হয় শ্রীমা সারদাদেবীর জীবনে এবং বাণীতে – ‘জগতকে আপনার করে নিতে শেখো। কেউ পর নয় মা, জগৎ তোমার।’