*- : শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা : -*
*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
১৩১৯ সালের বড়দিনের সময় শ্রীমা কাশীতে ছিলেন; সঙ্গে ভানুপিসিও ছিলেন; শ্রীমায়ের জন্মতিথিতে দুইজন ব্রাহ্মণকন্যা ভানুপিসিকে প্রণাম করিয়াছেন শুনিয়াই গোলাপ-মা চটিয়া গেলেন, যেহেতু তাঁহার মতে ব্রাহ্মণরা গোয়ালার মেয়েকে প্রণাম করিলে ছোটজাতের অহঙ্কার বৃদ্ধি হয়, তাহারা ধরাকে সরা মনে করে।
মা কিন্তু সব শুনিয়া গোলাপ-মাকেই দোষী সাব্যস্ত করিয়া বলিলেন, *”গোলাপের কান্ড দেখ। উৎসবের দিন সকলে আনন্দ করবে, আর ও কিনা এদের মনে কষ্ট দিচ্ছে। তোমরা কিছু মনে করো না, মা! ভক্তভাবে সকলকেই প্রণাম করা চলে।”*
![]() |
| @page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }
Sri Sarada Devi
|
| শুচিবায়ুর সমাধানকল্পেও মা এই অন্তর্দৃষ্টির সাহায্য লইতেন। নলিনীদিদি ভিজা-কাপড়ে আসিয়া বলিলেন (৩০ আষাঢ়, ১৩২০), কাকে তাঁহার কাপড়ে প্রস্রাব করিয়াছে, তাই আবার স্নান করিয়া আসিয়াছেন। |
মা বলিলেন,
*”বুড়ো হতে চললুম, কাকে প্রস্রাব করে কখনও শুনিনি। বহু পাপ, মহাপাপ না হলে কি মন অশুদ্ধ হয়?
শুচিবাই! মন আর কিছুতেই শুদ্ধ হচ্ছে না।… আর শুচিবাই যত বাড়াবে তত বাড়বে। সবই যত বাড়াবে তত বাড়বে।”*
*”বুড়ো হতে চললুম, কাকে প্রস্রাব করে কখনও শুনিনি। বহু পাপ, মহাপাপ না হলে কি মন অশুদ্ধ হয়?
শুচিবাই! মন আর কিছুতেই শুদ্ধ হচ্ছে না।… আর শুচিবাই যত বাড়াবে তত বাড়বে। সবই যত বাড়াবে তত বাড়বে।”*
আর একবার (জুলাই, ১৯১২) তিনি নলিনীদিদিকে বলিয়াছিলেন, *”আমি তো দেশে কত শুকনো বিষ্ঠা মাড়িয়ে চলেছি। দু’বার ‘গোবিন্দ, গোবিন্দ’ বললুম, ব্যস, সব শুদ্ধ হয়ে গেল। মনেতেই সব – মনেই শুদ্ধ, মনেই অশুদ্ধ।”*
এইরূপ বহু সমস্যা তাঁহার নিকট উপস্থিত হইত। সচল সমাজে বহু অটল প্রাচীন দেশাচার পদে পদে জীবন দুর্বিষহ করিয়া তোলে; ধর্মের সুদৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত অথচ ভবিষ্যৎ দৃষ্টিযুক্ত ও সহানুভূতিপূর্ণ প্রগতিশীল মনই সব সঙ্কট-মুহূর্তে পথ প্রদর্শন করিতে সমর্থ হয়।
শ্রীমা বলিতেন, *”দেশাচার মানতে হয়”*; কিন্তু তাঁহার মতে তাই বলিয়া দেশাচারের নামে মানুষকে পিষিয়া মারা চলে না।
বঙ্গের কোন কোন অংশে বিধবা মেয়েরা আহারাদি সম্বন্ধে খুব কঠোরতা করেন। এক বিধবার ঐরূপ কঠোরতার সংবাদ পাইয়া মা তাঁহাকে বলিয়াছিলেন, *”তুমি রাত্রে রুটি পরটা ইত্যাদি খেও, ঠাকুরকে নিবেদন করে খেও।”* অর্থাৎ দেশাচার মানিয়া অন্ন গ্রহণ না করিলেও শরীররক্ষার অনুরূপ যুক্তিপূর্ণ ব্যবস্থা করা উচিৎ।
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*
