পুরাকালে চিত্রাকর্ষ নামে এক মুনি ছিলেন II পুরুষ-নারী, শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সন্মোহিত হ​য়ে যেতেন সেই ছবির শিল্প কলায়, সেই ছবির রঙের খেলায়।

পুরাকালে চিত্রাকর্ষ নামে এক মুনি ছিলেন

পুরাকালে চিত্রাকর্ষ নামে এক মুনি ছিলেন​। কঠোর তপস্যা দ্বারা তিনি মা লক্ষীকে তুষ্ট করেন। তপস্যায় সন্তষ্ট হ​য়ে মা লক্ষী ওনাকে বর দেন যে চিত্রাকর্ষ একজন চিত্রকর হিসাবে খ্যাতি লাভ করবেন এবং ভূ-ভারতে চিত্রাকর্ষের ন্যায় ছবি আর কেউ আঁকতে পারবেন না।
তপস্যা থেকে ফিরে এসে চিত্রাকর্ষ মনঃস্থির করেন যে, সর্বপ্রথমে  তিনি তাঁর আরাধ্যা দেবী মা লক্ষ্মীর একটি  পরিপূর্ন  চিত্র অঙ্কন করবেন​। এমন একটি ছবি যা আগে কখনো সৃষ্টি হ​য়নি। সাত বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তিনি মা লক্ষ্মী দেবীর অভূতপূর্ব একটি চিত্রপট অঙ্কন করেন​। ছবিটি এতটাই আশ্চর্য রকমের সুন্দর আঁকা হয়েছিল যে সেই ছবির দিকে একবার তাঁকালে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যেত না। 
পুরুষ-নারী, শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সন্মোহিত হ​য়ে যেতেন সেই ছবির শিল্প কলায়, সেই ছবির রঙের খেলায়।
কিছুদিন পরে বয়োজ্যেষ্ঠ  প্রতিবেশীগন চিত্রাকর্ষকে পরামর্শ দেন যে শিল্পের সম্পূর্ণতা তার পৃষ্টপোষকদের সমাদরে। অত​এব এমন একটি শিল্প-কলা এমন একটি অখ্যাত গ্রামে পরে পরে নষ্ট করার কোন মানে হ​য় না। তাই এই ছবি রাজার প্রদর্শনশালাতেই রাখা উচিত যাতে দেশ বিদেশের পর্যটকরা এমন একটি ছবি চাক্ষুষ করে নিজেকে ধন্য করতে পারেন​ এবং দেশে-বিদেশে ছবির খ্যাতি ছ​ড়িয়ে পরে ।

সেই সম​য় চিত্রাকর্ষের রাজ্যের সম্রাট ছিলেন সুনন্দ সেন। অহংকারি ও কৃপন হিসাবে তাঁর জগতজোড়া খ্যাতি ছিল​।

ব​য়ঃজ্যেষ্ঠদের কথা শিরধার্য মেনে চিত্রাকর্ষ সেই ছবি নিয়ে সুনন্দ সেনের  রাজদরবারে প্রবেশ করলেন ও নিজের অভিলাস ব্যক্ত করলেন​।

শুনে রাজা বললেন “ছবি রাখতে চাও সে ভাল কথা, কিন্তু ছবির দাম হিসাবে তুমি আমার কাছ থেকে কি আশা কর​?”
শুনে চিত্রাকর্ষ উত্তর দেন​, “মহারাজ​, এই ছবির সমতুল্য জগতে আর কিছুই নেই। আপনার সমগ্র সাম্রাজ্যও এই ছবির দাম হিসাবে কিছুই নয়। কিন্তু আমি শিল্পী মানুষ। অত কিছু চাই না। আমাকে মাত্র একশত স্বর্নমুদ্রা প্রদান করুন এই শিল্পের দাম হিসাবে। যাতে আমি গ্রামে ফিরে মা লক্ষ্মীর একটি মন্দির তৈরী করতে পারি ও সারা জীবন মায়ের তপস্যা করে ও ছবি একে কাটিয়ে দিতে পারি।”
চিত্রাকর্ষের উত্তর শুনে সুনন্দ সেন বলেন​, ” তোমার এত ব​ড় সাহস তুমি আমার সাম্রাজ্যকে তোমার তুচ্ছ ছবির সাথে তুলনা করলে? ছবির দাম হিসাবে আমি তোমায় তিনটি টাকা দিতে পারি। তাই নিয়ে বিদেয় হও।”
একথা শুনে চিত্রাকর্ষ অত্যন্ত অপমানিত হন​। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন, “মহারাজ আপনার ধর্ম শিল্পের মর্যাদা দেওয়া। কিন্তু আপনি আমার এত পরিশ্রমের একটি সৃষ্টিকে অপমান করলেন শুধুমাত্র আপনার অহঙ্কারের বশে। সামান্য একশত স্বর্নমুদ্রাও প্রদান করলেন না ।আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি, পরজন্মে আপনি একটি অত্যন্ত জঘন্য ছবি প্রচুর দাম দিয়ে কিনতে বাধ্য হবেন​। “
শোনা যায় সেই সুনন্দ সেনই পরবর্তি জন্মে সুদিপ্ত সেন হিসাবে জন্ম গ্রহন করেন ও এক কোটি আশি লক্ষ টাকা দিয়ে একটি ছবি কেনেন​।
পুনশ্চঃ এই গল্পের সব চরিত্র কাল্পনিক​। কোন জীবিত অথবা মৃত ব্যক্তির সাথে সামঞ্জস্য থেকে  থাকলে তা একেবারেই কাকতালীয় ।
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started