খুড়িমা নির্জলা উপবাস করিয়াছেন; আগের দিনেও বাড়ির কি একটা কার্যবশত তিনি অন্নগ্রহণ করেন নাই।

*- :      শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা      : -*

*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
   এই বিষয়ে শ্রীমায়ের স্বাভাবিক বিচারশক্তি ও সহানুভূতি শ্রীশ্রীঠাকুরের একদিনের ব্যবহার দ্বারা প্রভাবিত হইয়াছিল বলিয়া মনে হয়।
   সেদিন একাদশী; শ্রীযুক্ত যোগীন-মা তাঁহার বিধবা খুড়িমাকে লইয়া দক্ষিণেশ্বরে গিয়াছেন। খুড়িমা নির্জলা উপবাস করিয়াছেন; আগের দিনেও বাড়ির কি একটা কার্যবশত তিনি অন্নগ্রহণ করেন নাই।
   একে তো বার্ধক্যের জন্য তিনি সোজা হইয়া চলিতে পারিতেন না তাহার উপর দুইদিন উপবাসে খুবই কাতর হইয়া পড়িয়াছেন।
Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi
   দক্ষিণেশ্বরে পৌঁছিয়া তিনি প্রথমে নহবতের দিকে গেলে মা দেখিলেন, বৃদ্ধা হাঁপাইতেছেন; সুতরাং তাড়াতাড়ি আগাইয়া গিয়া হাত ধরিয়া আনিয়া তাঁহাকে ঘরে বসাইলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, *”একটু শরবত দেব?”* বৃদ্ধা মাথা নাড়িয়া অসম্মতি জানাইলেন।
   খুড়িমা একটু সুস্থ হইলে যোগীন-মা তাঁহাকে ঠাকুরের ঘরে লইয়া চলিলেন; শ্রীমাও সঙ্গে গেলেন।
   ঘরের সিঁড়িতে উঠিতে গিয়া বৃদ্ধা একেবারে মাটিতে ঝুঁকিয়া পড়িতেছেন দেখিয়া ঠাকুর একপ্রকার ছুটিয়া আসিয়া তাঁহাকে ধরিলেন এবং যোগীন-মাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এমন হাঁপাচ্ছে কেন?”
   যোগীন-মা কারণ বলিলেন। অমনি উদ্বেগভরে মায়ের দিকে চাহিয়া ঠাকুর বলিলেন, “তুমি একে একটু শরবত খাইয়ে দিতে পারলে না?” মা উত্তর দিলেন, *”আমি বলেছিলুম; ইনি রাজি হননি।”*
   ঠাকুর তখনি শিকা হইতে চিনি নামাইয়া গঙ্গাজলে শরবত করিয়া বৃদ্ধার মুখে ধরিয়া বলিলেন, “খাও।” বৃদ্ধা একবার অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে ঠাকুরের দিকে চাহিলেন; পরে বিনা বাক্যব্যয়ে শরবতটুকু পান করিয়া বুকে হাত দিয়া বলিলেন, “বুকটা ঠান্ডা হলো, বাবা।”
   উত্তরকালে বালবিধবা শ্রীমতী ক্ষীরোদবালা রায় মায়ের নিকট দীক্ষা লইতে গেলে মা জিজ্ঞাসা করিলেন, *”বাছা, তুমি একাদশীতে কি খাও?”*
   ক্ষীরোদবালা আগে সাগু খাইতেন, কিন্তু পরে উহাতে বিধবার অগ্রহণীয় বস্তু ভেজাল দেওয়া আছে ভাবিয়া কিছুই খাইতেন না। এইরূপ কঠোরতার ফলে তাঁহার শরীর অতি শীর্ণ হইয়াছে।
   মা দেখিয়া শুনিয়া বলিলেন, *”না, না, আমি বলছি, তুমি সাগু খেও, এতে শরীর ঠান্ডা থাকে।”* একটু থামিয়া বলিলেন, *”বাছা, অনেক কঠোর করেছ; আমি বলছি, আর করো না। দেহটাকে একেবারে কাঠ করে ফেলেছ। দেহ নষ্ট হলে কি নিয়ে ভজন করবে, মা?”*
   ক্ষীরোদবালার মাথার চুল দেশাচার অনুযায়ী ছোট করিয়া কাটা ছিল বলিয়া গোলাপ-মা ও যোগীন-মা উহার অযৌক্তিকতা দেখাইয়া সহানুভূতি প্রকাশ করিলেন।
   কিন্তু মা বাধা দিয়া বলিলেন, *”বেশ তো করেছে; চুল থাকলে একটু বিলাসিতার ভাব আসে, চুলের যত্ন করতে হয়। যাই হোক, মা, কেশের সেতু পার হয়ে তুমি এখানে এসে পৌঁছেছ। যার জন্যে এত কঠোরতা, তোমার সে কাজ হয়ে গেছে। এখন আমি বলছি, আর কঠোরতা করো না।”*
   মায়ের কথাগুলিতে করুণা ও ভাগবতী দৃষ্টির – বিলাসিতা-পরিহারের সহিত ঈশ্বরলাভের উপায়ভূত দেহরক্ষার জন্য আগ্রহের – কি অপূর্ব সমাবেশ! পরবর্তী দৃষ্টান্তগুলি এই ভাবেরই দ্যোতক।
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্‌গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started