তুমি মা সারদা = সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

Sri Sarada Devi,

তুমি মা সারদা

=============

★সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়★

——————————–
                                  ছয়
                               
            
         এরপরে ভয়ঙ্কর একটা এলোমেলো অবস্থা। কাশীপুর থেকে মা এলেন বলরাম বসুর বাড়িতে। সেখান থেকে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখে মা যাত্রা করলেন বৃন্দাবনে। সঙ্গে আছেন স্বামী যোগানন্দ, অভেদানন্দ, অদ্ভুতানন্দ, লক্ষ্মীদেবী, গোলাপ-মা আর নিকুঞ্জদেবী। প্রথমে নামলেন দেওঘরে। ঠাকুরের এক মহালীলাস্থল। তারপরে গেলেন কাশীধাম। এটিও ঠাকুরের এক মহালীলা ক্ষেত্র। বিশ্বনাথের মন্দিরে মা আরতি দর্শন করছেন। হঠাৎ দেখছেন উজ্বল শরীরে ঠাকুর মায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। মা ভাবের ঘরে চলে গেলেন। সঙ্গীরা দেখছেন মা দুম দুম শব্দে পা ফেলে ফেলে বাসায় ফিরলেন। ফিরে এসেই শুয়ে পড়লেন।প্রকৃতিস্থ হওয়ার পর সবাই জিজ্ঞেস করলেন—-‘কি হয়েছিল মা!’ মা বললেন,  ‘ঠাকুর আমাকে হাত ধরে মন্দির থেকে নিয়ে এলেন।’

         কাশী থেকে মা সদলে এলেন অযোধ্যায়। অযোধ্যায় একদিন থেকে বৃন্দাবনের পথে। রেলগাড়িতে মা শুয়েছেন নিচের আসনে। ঠাকুরের ওপর বাহুতে একটি ইষ্টকবচ ছিল। অসুস্থ অবস্থায় সেটি খুলে মায়ের হাতে পরিয়ে দিয়েছিলেন। মা সেটি সযত্নে ধারণ করেছিলেন, ও নিত্যপূজা করতেন। রেলের খোলা জানালায় সেই হাতটি উঁচু করে রেখেছিলেন। হঠাৎ দেখছেন জানালার বাইরে ঠাকুর এসে দাঁড়িয়েছেন। জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে ঠাকুর বললেন, ‘হাতে সোনার ইষ্টকবচ। হাতটা এমন করে রেখেছ কেন ? ওটা যে চোরে অনায়াসে খুলে নিতে পারে !’
         মা তাড়াতাড়ি উঠে বসলেন। কবচখানি খুলে যে-টিনের বাক্সে ঠাকুরের ছবিটি থাকত, যে-ছবি তিনি প্রতিদিন পূজা করতেন, সেই বাক্সে কবচটি রাখলেন। জীবনে আর কখনো পরিধান করেননি। পরে ওই ইষ্টকবচ তিনি স্বামী প্রেমানন্দকে দিয়েছিলেন। মঠের ঠাকুরঘরে রেখে নিত্যপূজার জন্যে। পূজাবিধিও শিখিয়ে দিয়েছিলেন।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started